• আপডেট টাইম : 15/02/2021 07:28 PM
  • 106 বার পঠিত
  • শরীফুল ইসলাম কুষ্টিয়া থেকে
  • sramikawaz.com

কুষ্টিয়ায় আদালত অঙ্গনে দায়িত্ব পালনকালে সরকারী টাকা আত্মসাতের দায়ে কোর্ট উপ-পরিদর্শক (সিএসআই) মোস্তফা হাওলাদার নামে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার তিন বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ১৫ ফেব্রয়ারী দুপুর দেড়টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো: আশরাফুল ইসলাম আদালতে আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষনা করেন। এসময় অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় একই মামলার অপর আসামী কোর্ট ইন্সপেক্টর কায়েম উদ্দিনকে বে-কসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। দন্ডপ্রাপ্ত আসামী ভোলা জেলার আলগী গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদিনের ছেলে এবং ঘটনার সময় ২০১০ সালের ৮ মার্চ তারিখে কুষ্টিয়া জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের মালখানায় দায়িত্বরত সিনিয়র পুলিশ উপ-পরিদর্শক মো: মোস্তফা হাওলাদার। তিনি বর্তমানে চাকুরী থেকে অবসরপ্রাপ্ত রয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে পুলিশের চাকুরী সূত্রে মোস্তফা হাওলাদার কুষ্টিয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের মালখানায় দায়িত্বরত সিনিয়র পুলিশ উপ-পরিদর্শক কর্মনিযুক্ত ছিলেন। এসময় দুইটি মামলা নিষ্পত্তি অন্তে আদালত কর্তৃক ধার্যকৃত জরিমানার টাকা যথাক্রমে ৪৩ হাজার এবং ২০ হাজার ২’শ টাকা আদায় করেন। নিয়মানুযায়ী টাকা ট্রেজারি চালানে মাধ্যমে সরকারী কোষাগারে জমা দেয়ার দায়িত্ব ছিলো মোস্তফা হাওলাদারের উপর। তিনি টাকা জমা দিয়েছেন ঠিকই তবে ৪৩ হাজারের স্থলে ৩হাজার এবং ২০হাজার ২’শ টাকার স্থলে ২শ টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারী কোষাগারে জমা করেন। সেই সাথে জমাদেয়া ওই ট্রেজারি চালানের কপিতে ঘষামাজা করে ৩হাজারকে ৪৩হাজার এবং ২শ টাকাকে ২০হাজার ২’শ টাকা দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা করেন। বিষয়টি পরবর্তীতে নিরিক্ষায় ধরা পড়লে আদালত তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দেন পুলিশ সুপারকে। আদালতের আদেশে তৎকালীন কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা তদন্ত শেষে প্রাথমিক সত্যতা ঘটনার পেয়ে ২১ এপ্রিল ২০১০ তারিখে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। বিষয়টি আদালতের নজরে আসায় দুদকের উপরে তদন্তসহ মামলা দায়েরের আদেশ দিলে দুদক মামলাটির তদন্ত করেন। দুদকের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সরকারী অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশন সমšি^ত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক সাহার আলী বাদী হয়ে ১২ ডিসেম্বর, ২০১০ সালে কুষ্টিয়া সদর থানায় কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. কায়েম উদ্দিন এবং সিনিয়র কোর্ট উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোস্তফা হাওলাদারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে দুদক ২০১১ সালের এপ্রিলে চার্জশীট দেয় আদালতে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন দুদকের কৌশুলী এ্যাড. আল মুজাহিদ ইসলাম মিঠু জানান, এই মামলার ঘটনাটি হয়ত বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছোট; কিন্তু এর গুরুত্বপূর্ন দিক হলো- সরকারী দপ্তরগুলিতে দায়িত্ব পালনকালে এরা নানা ভাবে অনিয়ম দুর্ণীতিও করে যাচ্ছে এবং যাবে আবার আইনের ফাক ফোকর গলিয়ে কিভাবে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে তারই একটা বিশ্লেষন ধর্মী মামলার উদাহরণ এটি। দুদক এই মামলার মধ্যদিয়ে প্রমান করতে সক্ষম হয়েছে যে, অপরাধী যেই হোক, সনাক্ত হয়ে গেলে পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। কুষ্টিয়ায় আদালত অঙ্গনে দায়িত্ব পালনকালে এই মামলার আসামী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তফা হাওলাদার পুলিশের করা তদন্তের সূত্রে ফাক ফোকর গলিয়ে বেড়িয়ে গেলেও দুদকের দেয়া চার্জশীটে দীর্ঘ ¯^াক্ষ্য শুনানী শেষে ১৯৭৪ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে বিজ্ঞ আদালত দুইটি মামলার মধ্যে একটি তে ১ বছর কারাদন্ড এবং অপরটিতে ২ বছরসহ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬মাসের কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে অপর আসামী কোর্ট ইন্সপেক্টর কায়েম উদ্দিনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...