• আপডেট টাইম : 01/02/2021 09:26 AM
  • 159 বার পঠিত
  • অ্যাডভোকেট জিয়াউল কবীর খোকন
  • sramikawaz.com

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) কারণে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে গেছে। আগে যারা চাকরি করতেন করোনার কারণে ছাটাইয়ের শিকার হয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু শিথিল হওয়ার কারণে চাকরি পাওয়ার জন্য শ্রমিকরা গেটে ভিড় করছেন। শ্রমিকদের এ চাকরি অনুসন্ধান আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি। ।


মালিকরা করোনার ভাইরাসের মহামারির উছিলায় অনেক সুযোগ সুবিধা নিয়ে করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু ওই করোনার উছিলায় শ্রমিকদের ততটাই চাকরি-জীবিকা কেড়ে েিনয় নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। রিজাইন করলে বা শ্রমিকের চাকরি অবসান করলে আইনি যে সব পাওনা রয়েছে, করোনার সুযোগ নিয়ে পুরাতন ও দীর্ঘদিন ধরে যে সব শ্রমিক চাকরি করছিলেন কোন রকম পাওনা না দিয়ে বা নামেমাত্র মাসের বেতন দিয়েই তাদের ছাটাই করেছে। এসব শ্রমিককে নানান কায়দায়, নানান ধারায় ছাটাই করেছে। সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে। এক্ষেত্রে মানবিকতা, আইনের বাধা নিষেধ কোন কিছুর তোয়াক্কা করেনি। ওই সব শ্রমিকরা এখন চাকরির আশায় গেটে আসা-যাওয়া করছে, ভিড় করছেন। যারা চাকরি হারিয়ে গ্রামে ফিরে গিয়েছিলেন, তারাও আবার ফিরে এসে চাকরির জন্য গেটে ঘুরছেন। আবার নতুন করে গ্রামে ফিরেও যাচ্ছেন।


চাকরি প্রার্থী শ্রমিকের সংখ্যা গেটগুলোতে বেড়ে গেছে। কোন কারখানায় একজন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার বিজ্ঞাপন দেখলে বা খবর পেলে সেখানে ২০ জন শ্রমিক হাজির হচ্ছেন। আগের চেয়ে ১০গুন শ্রমিক কারখানার গেটে গেটে চাকরির জন্য ধর্না দিচ্ছে। আগে কখনো এত বেশি শ্রমিকে চাকরির জন্য গেটে ভিড় করতে দেখা যায়নি।


চাকরি হারা শ্রমিকরা দিশেহারা। পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে বেঁচে থাকবেন-তা নিয়ে অতুলপাথারে পড়েছেন। চাকির হারিয়ে বড় একটি শ্রেনি ভিন্ন পেশা বেছে নেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন। কেউ রিকসা-ভ্যান চালাচ্ছেন, কেউ রাজমিস্ত্রি বা যে যে পেশা পাচ্ছেন বেছে নিচ্ছেন। কোন কারখানায় শ্রমিক নিয়োগ করা হবে শুনলে তারাই গেটে হাজির হচ্ছেন। এরপরও যারা টিকতে পারছেন না তারাও গ্রামে চলে যাচ্ছেন। যার স্ত্রী চাকরি করছেন সে হয়তো স্ত্রীর বেতনের উপর নির্ভর করে কোনমতে বেকার জীবন নিয়ে শিল্প এলাকাগুলোতে অবস্থান করছেন।


শ্রমিক বেকার হওয়ার প্রভাব শিল্প এলাকাগুলোতেও প্রবলভাবে পড়েছে। অনেক বাড়িওয়ালার অনেক বাড়ি ফাঁকা হয়ে গেছে, ভাড়া নেই। অনেকে ভাড়া কমিয়ে দিয়েছে।


করোনার মহামারি কমে আসার পর কারখানা খোলা হলেও এবং যে সব শ্রমিক কাজ করছেন তাদের উপর বেশি কাজের চাপ পড়েছে। কারখানাগুলো শ্রমিক কমিয়ে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ওভারটাইম কমিয়ে দেওয়ার ফলে আয় কমে গেছে। এর ফলে শ্রমিকের ¯^াস্থ্যের উপর বাড়তি চাপ পড়েছে। ¤্রমিকরা অভিযোগ করেছে গাজীপুরের সবচেয়ে বড় কারখানা ভিয়েলাটেক্স এক বছরের নীচে যাদের চাকরির বয়স-এ সব শ্রমিককে ছাটাই করে দিয়েছে। এ ধরণের ঘটনা আরও কারখানায় ঘটছে। শ্রমিককে ভয় দেখিয়ে বেশি কাজ করানোর কৌশল হিসাবে এ ধরণের ছাটাই করা হচ্ছে বলে শ্রমিকরা অভিযোগ করছেন।


এই ছাটাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে হচ্ছে করোনাকে সুযোগকে কাজে লাগানোর অংশ হিসাবে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে করোনার কারণে বন্ধ বা ছাটাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

অ্যাডভোকেট জিয়াউল কবীর খোকন : সহসভাপতি গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...