• আপডেট টাইম : 31/01/2021 12:49 PM
  • 187 বার পঠিত
সনৎ নন্দী
  • জাফর আহমদ
  • sramikawaz.com

রবীন্দ্রনাথের বীর পুরুষ পড়ার ওই বয়সে বীরপুরুষের এক ধরণের ছবি আঁকতাম। সে ছবিটা আরও পর ১৯৮৮ সালেও ছিল। সেবার ইস্পাত-এর বার্ষিক সংবাদদাতা সম্মেলন হলো। পরের বছরের শুরুর দিকে হলো অনুষ্ঠানটি। ইস্পাতে হলুদ খামে করে নিউজ পাঠাতে হতো। বৃহস্পতিবারে ছাপা হতো, পোস্ট অফিসের মাধ্যমে রোববার ঠিকানায় পৌছে যেতো। (পত্রিকার ডিএ নম্বরের তখনো কার্যকারিতা ছিল। পত্রিকার ডিএ নম্বর এখন অনেকটা জমিদারের পোড়াবাড়ির অবস্থা)

শিল্পকলাতে ওই অনুষ্ঠানটা হচ্ছিলো, সাজ সাজ ভাব। অনুষ্ঠানে ঢোকার সময়েই কম্পিউটার কম্পোজ করা একটি ঝক ঝকে ইস্পাত ধরিয়ে দেওয়া হলো। আগে দুয়েকবার কম্পিউটার কম্পোজ সাময়িকি দেখলেও পত্রিকা হিসাবে প্রথম ইস্পাত দেখলাম। ঝকে ঝকে, চমকে গেলাম। তখনও শিশার বর্ণ বসিয়ে কলাম সাজিয়ে কম্পোজের যুগ চলমান।
মঞ্জুরুল এহসান মিঠু ভাই ইংগিত দিলো এই অনুুষ্ঠানে একটি পরীক্ষা হবে, পুরস্কারও দেয়া হবে। মিঠু ভাই তখন ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক। ঘোষণা অনুযায়ী মনে মনে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম। যারা আসছেন, ভবন-সব খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করলাম, পরীক্ষা দেবো ! কম্পিউটারে কম্পোজ করা ইস্পাতটি খুটে খুটে দেখলাম। দু-চারলাইন করে পড়লামও। বেশি করে পড়লাম নীচে লেখকের পরিচয়। ইস্পাত সাধারণ ট্যাবলয়েড ৬ পাতায় প্রকাশিত হতো, পুরাতন ধারাতেই। বিশেষ সংখ্যায় পৃষ্ঠা সংখ্যা বেড়েছে। যেখানে কুষ্টিয়ার সাংবাদিকদের লেখা ছাপা হয়েছে। যা কিনা কম্পিউটার কম্পোজে, আধুনিক প্রেসে।
সুষমামন্ডতি, তারুন্যদিপ্ত একজনের ছবি-লেখা-পরিচয়ে চোখ আটকে যায়। নিজে যেখানে স্কুল পড়–ুয়া সংবাদদাতা, সাংবাদিক হওয়ার দুর্দ ান্র্দত ইচ্ছা, সেখানে ঢাকার বড় পত্রিকার সাংবাদিকের লেখা নিজ পত্রিকায়; কি যে ভালো লাগা, কি যে মুগ্ধতা! এ যেন রবীন্দ্রনাথের বীরপুরুষ। যেন শিশুমানসে লালিত বীরপুরুষকে আবিস্কার করে ফেললাম। মজার কথা হলো আমার শৈশবি সাংবাদিকতার বীর পুরুষ আবিস্কার করা হলেও কথা হলো না, দেখা হলো না। প্রায় ৩৫ বছর আর দেখা হয়নি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মিঠু ভাই ঘোষণা দিলো পরীক্ষা শুরু হবে। ইস্পাতের একটি প্যাড ও ইকনো কলম ধরিয়ে দেওয়া হলো। পরীক্ষা হলো- অনুষ্ঠানে কি হলো তার খবর লেখা। লেখা শুরু করলাম। জমাও দিলাম। নিউজের কাগজ পড়ে প্রথমে আমার লেখা দেখে মিঠু ভাই বলল, এটা কার ?
-আমার, আমি বললাম।
-প্যাডের উপরে লেখছো ? এটা বাতিল। আমি তোমার কাছে এটা কখনো আশা করিনি।
খুব আশাহত হলাম। তাহলে আমারে কাছে বেশি আশা করেছিল। নতুন প্যাডের উপরের পাতাটা লিখতে হয়, যতটা জানাজানির ব্যাপার ছিল। তার চেয়ে একটি পাতা বাঁচাতে চেয়েছিলাম। যা হোক এরপর কখনো আর ভুল করবো না। তবে আফসোস থেকে গেলো পরীক্ষায় আমার নিউজটি অবতীর্ন হতে পারলো না, আগেই আউট। কিন্তু বছরের সেরা সাংবাদাতা হিসাবে আমার নাম ঘোষণা আর ১০ টাকা দামের ৫টি প্রাইজবন্ড আমার আফসোস ভুলিয়ে দিলো। আর নিউজ লেখাতে প্রথম হলো যদদূর মনে পড়ে তারিকুল হক তারিক।
যা হোক আমার বীর পুরুষের কথায় আসি। অনুষ্ঠানে আমার শৈশবের বীরপুরুষের দেখা হলো না, কথা হলো না। অনুষ্ঠানে ছিল কিনা জানতে পারলাম না।
অবশেষে আমার সেই বীরপুরুষের সঙ্গে দেখা হলো প্রায় সাড়ে তিন দশক পর প্রেসক্লাবের ইউনিয়ন অফিসে। হ্যাঁ, আমাদের সনৎ নন্দী দার কথা বলছি। আজ দাদার শুভ জন্মদিন, শুভ জন্মদিন দাদা।
সাংবাদিকতা সিনিয়র, জুনিয়র, শ্রদ্ধার বিষয়টি আজও বিদ্যমান। শুরু-শিষ্যের মত। দাদার জন্মদিনে সে কথাটি আরও একবার শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই। শুভ জন্মদিন দাদা, ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...