• আপডেট টাইম : 22/01/2021 01:43 PM
  • 177 বার পঠিত
  • তৌহিদুর রহমান
  • sramikawaz.com

করোনার কারণে ইউরোপের বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় তৈরি পোশাকের কার্যাদেশ কমে গেছে-উদ্যোক্তাদের এ ধরণের কথা সরকারকে বোকা বানানোর কৌশল। আমার কাছে মনে হচ্ছে না তৈরি পোশাক কারখানা কার্যাদেশ হারাচ্ছে, কাজের গতি হারাচ্ছে। তবে কার্যাদেশ দেওয়ার যে গতি তা কিছুটা শ্লথ হয়েছে; বায়াররা কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বিষয়টি এ রকম নয়।


দ্বিতীয় পর্যায়ে ইউরোপের কিছু দেশে যেমন লকডাউন দিয়েছিল আবার তা তুলেও নিচ্ছে। ও সব দেশে পূর্ণ উদ্যোমে কাজ শুরু হয়েছে। মালিকরা এখন শুধু রাষ্ট্রের প্রণোদনার উপর নির্ভর কর চলতে চাচ্ছে। তার অংশ হিসাবে তারা কাজ নেই বলে বলে সরকার ও দেশবাসীকে বিভ্রæান্ত করতে চাচ্ছে। তৈরি পোশাক শিল্পে আবারও সংকট তৈরি হয়েছে বলে তারা সুবিধা নিতে চাচ্ছে।


আমরা বলছি না তৈরি পোশাক শিল্পে সংকট আসেনি। শিল্পে একটি সংকট আসতে পারে। এটা বৈশি^ সংকট, এমন সংকটের মুখোমুখি বাংলাদেশ কখনো হয়নি। নতুন পেক্ষাপট, নতুন চ্যালেঞ্চ, এ জন্য সরকার সহযোগিতাও দিয়েছে। মালিকরা নিজেদের সক্ষমতা প্রমানে ব্যর্থ হয়ে রাষ্ট্রীয় সহায়তা উপর নির্ভরশীলতা দেখাতে চাচ্ছে। বার সরকারের সহযোগিতার উপর নির্ভর করে চলতে চাচ্ছে।


কার্যাদেশ কমে গেছে-এটা তাদের এক ধরণের আইওয়াস। এর মাধ্যমে তারা সরকারকে বোকা বানাতে চায়। যেহেতু সরকার মনে করে দেশবাসিও জানে, পোশাক শিল্প দেশের প্রধান রপ্তানিমুখি শিল্প, সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থানের জায়গা। প্রধান বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের মাধ্যম- এটাকে তারা ব্যবহার করে সরকারকে দুর্বল করে সুবিধা নিতে চায়। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তারা বলেছে, আমাদের প্রণোদনা দাও, আগের প্রণোদনা ফেরত দেওয়ার সময় বাড়িয়ে দাও। যেটা ১৮ মাসে পরিশোধ যোগ্য সেটা চার বছর করা হোক। যে কোনভাবেই হোক রাষ্ট্রীয় সাহায্য সহযোগিতা যাতে অব্যাহত থাকে। আর বেশি বেশি করে যেনো পায়-এটাই তাদের লক্ষ্য।


সরকার যদি মনে করে, অর্থনীতিবিদরা যদি হিসাব নিকাশ করে পায় তৈরি পোশাক শিল্পকে এসব সুবিধা দেওয়া যায়, তাহলে উদ্যোক্তাদের সেই ধরণের অঙ্গিকারে আসতে বাধ্য করাতে হবে যে, কোন অজুহাতেই শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করা যাবে না। এভাবে উদ্যোক্তাদের শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে হবে। তারপর যদি সরকার মনেই করে এখানে সহযোগিতা দেওয়ার দরকার তাহলে দেবে। মনে রাখতে হবে সহযোগিতা নিয়ে একজন শ্রমিককে ছাঁটাই করা যাবে না। কোন অজুহাতেই একজন শ্রমিককেও চাকরিচ্যুত করা যাবে না।


সরকারের কাছে থেকে সহযোগিতা নেবে আবার শ্রমিককেও চাকরিচ্যুত করবে, তাদের অনিশ্চয়তা মধ্যে ফেলে দেবে তাহলে সরকারের এই ধরণের দায়িত্ব নিয়ে লাভটা কি ? মালিকদের দাবি মানার আগে সরকার এ সব বিষয় মনে রাখবে বলে শ্রমিকনেতা হিসাবে এটা দাবি।


মো. তৌহিদুর রহমান : সভাপতি, বাংলাদেশ পোশাক শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...