• আপডেট টাইম : 29/12/2020 11:17 AM
  • 485 বার পঠিত
  • আওয়াজ প্রতিবেদক
  • sramikawaz.com

এ বছর শ্রমিকের ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করার বিষয়টি মালিকদের মামা বাড়ির আবদারের মত প্রস্তাব। সুুযোগ পেলেই তারা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য যা করার দরকার তাই করবে, যা অনৈতিক বেআইনি ও করার দরকার নেই তাও তারা করবে। এই হলো তাদের চরিত্র। তারা লুটেরা মালিকের চরিত্র পেয়েছে-কল্যানকামী মর্যাদাবান উদ্যোক্তা হওয়ার চরিত্র অর্জন করতে পারেনি।
বছরে ৫ শতাংশ করে ইনক্রিমেন্ট দিতে হবে-এটা আইনে আছে। বছরে মূল্যস্ফীতি হওয়ার সাথে সাথে পণ্যের দাম বাড়বে, জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়বে। এই ব্যয় সামাল দেওয়ার জন্য ৫ শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধিরর বিষয়টি ওয়েজ বোর্ডে সন্নিবেশিত হয়েছে, আইনে সন্নিবেশিত হয়েছে। যদিও তখন আমাদের দাবি ছিল এটা ১০ শতাংশ করার।


এ বছর মূল্যস্ফীতি হয়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। তার মানে হলো আগের বছরের চেয়ে ৬ শতাংশ হারে পণ্যের দাম বেড়েছে। এতে গতবারের চেয়ে ৬ শতাংশ হারে বেতন কমেছে। আইন অনুযায়ী এই ডিসেম্বর মাসে ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দিলেও আগের বছরের চেয়ে ১ শতাংশ হারে কম থাকবে। করোনা ও মূল্যস্ফীতির কথা বিবেচনা করে, শ্রমিকদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে মজুরি আরও বেশি হারে বাড়ানোর উচিত ছিল। কিন্তু তারা উল্টো কমানোর প্রস্তাব করেছে। এটা পুরোপুরি অমানবিক, অনৈতিক ও বেআইনি। আশা করি মালিকরা এই হঠকারি সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে। সরকারকেও বলবো মালিকদের বেআইনি আবদার বাস্তবায়নে যেনো সম্মতি না দেয়।


মালিকদের এই অন্যায় আবদার কার্যকর হলে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারে। শ্রমিকরা কারখানা ছেড়ে রাস্তায় বের হয়ে আসতে পারে। সরকার ও মালিককে বলবো, ইনক্রিমেন্ট বন্ধ রাখার মত বেআইনি ও অমানবিক প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথে হেটে তৈরি পোশাক শিল্পকে অস্থির করার পাঁয়তারা করবেন না। আর এমন কিছু বলে আপনারা দায়ি থাকবেন।

মোশরেফা মিশু: সভাপতি, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরাম

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...