• আপডেট টাইম : 06/12/2020 10:36 PM
  • 189 বার পঠিত
  • মো: সুমন আলী
  • sramikawaz.com

পৃথিবীতে মানুষ জন্মের পর তার বাবা-মায়ের কাছে শৈশব জীবনে বেড়ে উঠে। অবুঝ শিশু থেকে বাবা-মার মাধ্যমে নতুন জগতের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে শেখে। এটাই সামাজিক নিয়ম। এ নিয়ম যুগ যুগ ধরে চলছে, চলবে। কিন্তু আমার জীবনে ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটেছে। সমাজে ধনি সন্তানরা সুনাম, ¯^াচ্ছন্দ আর বিলাসিতার সাথে বেড়ে উঠতে থাকে। কিন্তু আমাদের মত নি¤œ আয়ের কৃষিজীবি পরিবারের সন্তানদের জীবন যুদ্ধ করে বেড়ে উঠতে হয়। এর মাঝে কেউ সফলতা পায়, আবার অনেকে মাঝপথে ঝরে পড়ে যায়।
আমার জন্ম হওয়ার পর নানা বাড়িতে বড় হই। আমার পিতা আমার মাকে প্রথমে মেনে নিতে পারে নাই। আমার জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে নানার বাড়িতে।
আমাদের বাড়ি রাজবাড়ি জেলার থানা পাংশা উপজেলার সাহামীরপুর গ্রামে। পরে আমার বাবা-মা আমার জন্য এক সাথে থাকি। আমি সাহামীরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হই। সেখান থেকে পঞ্চম শ্রেনি পাস করে কাচারীপাড়া মাধ্যমিক স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হই। বাবা পরের কৃষি শ্রমিক হিসাবে অনের কৃষিখেতে কাজ করে আমার পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন।
আমার পরিবারের দুই ভাইয়ের পড়া শোনার খরচ চালাতে বাবার খুব কষ্ট হতো। ঠিক মত কাজ পেতেন না। একদিন কাজ পেলে পরের দিন হয়তো কাজ পেতেন না। ফলে যে রোজগার করতেন তা দিয়ে চলা কঠিন হতো। একদিন খেয়ে থাকলে পরের দিন না খেয়ে থাকতে হতো। অনেকদিন না খেয়ে স্কুলে যেতে হতো। পুরো দিন না খেয়ে থাকতে হতে। বাবার কাছে খাবারের কথা বললে খাবার সময় মত দিতে পারতেন না। খাবার জোগাড় করতে না পেরে বাবা-মা খুব মন খারাপ করতেন। এভাবেই আমাদের দুই ভাইয়ের লেখাপড়া চলতে থাকে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই ২০০৯ সালে আমি এসএসসি পাস করি। ২০১১ সালে এইচএসসি পাস করি। পরে আমার নিজের চেষ্টায় মিরপুরে সরকারী বাংলা কলেজ থেকে ভর্তি হয়ে অনার্স শেষ করেছি। এবং মাস্টার্স পরীক্ষায় করোনা ভাইরাসের জন্য পরীক্ষা স্থগিত হয়ে গেছে।
অনার্স কøাসে ভর্তি হওয়ার পর বাবা পড়াশোনার খরচ চালাতে পারছিলেন না। পরে একটি গার্মেন্টস কারখানায় কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর পদে চাকরি নিয়ে কাজের পাশাপাশি পড়া শোনার খরচ চালাচ্ছি। কিন্তু এই চাকরি করে আমার বাবা-মা সংসারে খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অথচ বাবা-মার কষ্টের সংসারে কিছু সহায়তা করা প্রয়োজন। এতে আমার খারাপ লাগে। এই চাকরি করে নিজের সংসার খরচের পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি কোন মতে। চেষ্টা করছি একটু বেশি রোজগারের চাকরির জন্য। যদি সরকারি একটি চাকরি পাই তাহলে আমার আশা পূরণ হবে।
বাড়িতে বাবার শরীর খুব খারাপ। বাবা এখন কাজ করতে পারেন না। তাইতো যে কষ্ট নিয়ে আমাদের মানুষ করেছিলেন সংসারে সেই অভাব অনটন চলছেই। আমি ভালবেসে বিয়ে করি। বর্তমানে আমার দুই সন্তান। তাই তো আমার একটা ¯^প্ন সরকারী চাকরি পাওয়ার। যে কষ্ট করে লেখাপড়া করছি একটি সরকারী চাকরি পেলে পেলে সেই কষ্ট লাঘব হবে। কিন্তু নিজ¯^ লোকজন ও চাকরির জন্য টাকা না হলে চাকরি পাওয়ার উপায় নেই। সরকারী চাকরি পেলে নিজের পরিবারের পাশাপাশি বাবা-মাকে দেখা শোনা করতে পারবো। এর জন্য অনেক চেষ্টা করে চাকরি করতে পাই নাই।
তাই তো সরকারের কাছে আকুল আবেদন আমাকে একটা সরকারী চাকরি দিলে আমার পরিবারসহ সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভাকাক্সিখ হয়ে সরকারের সহযোগিতা প্রার্থনা করছি। এই চাকরিটা পেলে আমার পরিবারসহ আমাদের খুব উপকার হয়। আমি বাবা মায়ের প্রথম সন্তান। প্রথম সন্তান হিসাবে পরিবারের প্রতি আমার যে দায়িত্ব সে দায়িত্ব পালন করতে পারতাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...