• আপডেট টাইম : 05/12/2020 10:55 PM
  • 300 বার পঠিত
  • সাইফুর ইসলাম
  • sramikawaz.com

মহামারী করোনা আবারও আঘাত হানা শুরু করেছে। আবারও শ্রমিকরা আক্রান্ত ঝুকিতে পড়েছেন। দেশে প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত সংখ্যা দুই হাজারের উপরে উঠেছে। মৃত্যু হচ্ছে ৩৫-৪০ জন করে। এ অবস্থা শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু কলকারখানাগুলোর আয়োজন দেখে মনে হচ্ছে না শ্রমিকদের করোনা থেকে নিরাপত্তার জন্য কোন উদ্যোগ আছে।

যে কোন দুর্যোগ এলে ক্ষতি গুনতে হয় শ্রমিককে। চলতি বছরের মার্চ মাসে করোনাভাইরাস আক্রান্ত শুরু করলে সব কিছু থমকে যায়। থমকে যায় সারাদেশ। অফিস, কল-কারখানা সব বন্ধ করে দেওয়া হয়। মাসের পর মাস ছুটি না পাওয়া শ্রমিকরা ছুটি পেয়ে গ্রামের বাড়িমুখি হলো। কিছু দিনের জন্য বাসায় থাকার সুয়োগ হলো, প্রিয়জনদের কাছে থাকার সুযোগ হলো।  এই সুযোগে শ্রমিকরা চলে যান প্রিয় মানুষগুলোর কাছে ।

এরপরই সকল যানবাহন বন্ধ, সকল অফিস আদালত বন্ধ। এ অবস্থায় শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বলা হলো। দেশের অর্থনীতি সচল রাখার দায়িত্ব যেন কেবল শ্রমিদের। সারা বিশ্ব যখন মানুষ নিরাপদ দূরত্বে বসবাস করছে। ঘর থেকে বের হচ্ছে না। তখন গার্মেন্টস শ্রমিকরা গাদাগাদী করে ট্রাকে-ভ্যানে বা পায়ে হেটে ঢাকা রওনা দিলেন। মাইলের পর মাইল পায়ে হেটে জীবনের  তোয়াক্কা না করে কারখানায় এলেন। এ অবস্থায় অনেক শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হলেন। অনেকে মারাও গেলেন। দেশ রক্ষা, দেশের উৎপাদন বাড়ানো বা দেশের অর্থনীতি সচল রাখার দায়িত্ব যেনো একমাত্র শ্রমিকের। অন্য কারো কোন দায়িত্ব নেই।

যে শ্রমিক জীবনের ঝুকি নিয়ে কারখানায় এলেন। করোনার আক্রান্তের মধ্যেই কারখানায় উৎপাদন শুরু করলেন সেই শ্রমিককেই সুযোগ বুঝে ছাটাই শুরু করা হলো। শ্রমিকের নামে সরকারের কাছে থেকে প্রণোদনা  নেওয়া হলো আবার সেই শ্রমিককে ছাটাই শুরু করা হলো। অনেক শ্রমিক ছাটাইয়ের  শিকার হয়ে ঢাকায় বেকার অসহায় জীবন শুরু করলেন। কেউ কেউ গ্রামের বাড়ি ফিরে গিয়ে বেকার কর্মহীন জীবন যাপন করছেন।

শ্রমিকের সামান্য জ্বরে কারখানা কর্তৃপক্ষ বেতন ছাড়া ১৪ দিনের ছুটিতে রাখতো। তারপর আবার কাজে যোগ দিতে চাইলে যোগ দিতে পারতেন না। করোনা সার্টিফিকেটের ঝামেলা সহ্য করতে হতো। অনেক কারখানা কোন নোটিস না দিয়েই কারখানা বন্ধ করেছে । এখন শ্রমিকের চোখে মুখে শুধু হতাশা আর হতাশা।  অনেক শ্রমিক নিজ গ্রামে ফিরে গেছে শূন্য হাতে  । সেখানে গিয়েও শ্রমিকরা করম নেই । অনেক শ্রমিক অনাহারে দিন কাটাচ্ছে ।

করোনার মহামারীর মধ্যে যেখানে কারখানা মালিক ও সরকারকে মানবিক হতে হবে মালিকরা সেখানে শ্রমিকদের ছাটাই শুরু করলো। বিশেষ করে সন্তান সম্ভাববা মাতৃকালিন ছুটিতে যাবেন এমন নারী শ্রমিক; অনেকদিন ধরে কাজ করছেন বেতন তুলনামূলক বেশি-এমন শ্রমিককে বেছে বেছে ছাটাই করা হলো। এখনো এ রকম ছাটাই চলমান আছে। যে নারী শ্রমিকটি জীবনের সব চেয়ে মূল্যবান সময়টা  কারখানার উৎপাদনের কাজে ব্যয় করলেন; যে পুরুষ শ্রমিকটি যৌবনের পুরোটা কারখানার উৎপাদনে ব্যয় করলেন তাকে পুরস্কৃত করার পরিবর্তে ছাটাই করা হলো। এর চেয়ে অমানবিক ঘটনা আর হতে পারে না। আবার ছাটাই করার সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার প্রাপ্যটুকু পরিশোধ করা হচ্ছে না।

করোনা মহামারীর মধ্যে অনেক শ্রমিক কর্ম হারিয়েছেন। এর মধ্যেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এতে জীবনের ব্যয় বেড়ে গেছে দ্বিগুন। যারা চাকরি করছেন তারাও প্রাপ্ত বেতন দিয়ে কুলাতে পারছে না। এ অবস্থায় মহার্ঘ ভাতা চালু করে বাড়তি ব্যয়ের বোঝা কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হয় শ্রমিককে। শ্রমিকের জীবনের চাহিদাও বহন করতে হবে। সবক্ষেত্রে শ্রমিককেই বিসর্জন দিতে হবে। আর শ্রমিকের শ্রম ও জীবনের বিনিময়ে সবকিছু মালিকরা ভোগ করবে-এটা হতে পারে। শ্রমিকের ভালোর দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। তা না হলে শ্রমিকদের অসন্তষ্টি জনিত ক্ষতি শ্রমিককেই সামাল দিতে হবে।    সাইফুল ইসলাম: সভাপতি, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, সাভার আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...