• আপডেট টাইম : 18/11/2020 10:19 AM
  • 186 বার পঠিত
কাজ নেই। তারপরও কারখানায় আসা। যে কাজ টুকু আছে তাই করার চেষ্টা।
  • মো. কামরুজ্জামান
  • sramikawaz.com

 

মাহামারী করোনার কারণে মানবেতর জীবন যাপন করছে পুরান ঢাকার প্রেস ও বাইন্ডিং কারখানার শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার বাবুবাজার, জিন্দাবাহার, তাঁতী বাজারে সরেজমেনে ঘুরে দেখা যায়, কাজ না থাকায় শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন।  আবার কাজ না থাকায় অনেক প্রেস ও বাইন্ডিং কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়েছে হাজার শ্রমিক-কর্মচারি। পরিবার পরিজন নিয়ে এ সব শ্রমিক কর্মচারি মানবেতন জীবন যাপন করছেন।

অনেকেই কাজ না থাকায় এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় ও চলে যাচ্ছে। বাবুবাজারে অবস্থিত শাহজান প্রোডাক্টস এর শ্রমিক রবিউল শ্রমিক আওয়াজকে বলেন, করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার পর থেকে স্কুল কলেজ বন্ধ শুরু হয়। তখন আমাদের ও কারখানা দীর্ঘ ৩মাস বন্ধ থাকে। বন্ধ থাকা কালীন আমাদের কোন বেতন-ভাতা দেয়নি। দীর্ঘ প্রায় ৩ মাস বন্ধ থাকার পর কারখানা খুললেও কাজ নেই বললেই চলে। স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় কারণে প্রভাব পড়ে আমাদের কাজ কামে।  কাজ-কাম না থাকায় আমাদের ঠিক মত বেতন ভাতা ও পরিশোধ করছেনা কারখানার মালিকরা।

এমন অবস্থায় আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে জীবন যাপন করছি। শাজাহান প্রোডাক্টস এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মো. শাজাহান শ্রমিক আওয়াজকে বলেন, দীর্ঘদিন লকডাউন থাকায় স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় আমারা বড় ধরনের ক্ষতি সম্মুখিন হয়েছি। একদিকে কাজ কাম কম, আরেক দিকে বেশি রেটে মাল কিনে কম রেটে বিক্রি করতে হচ্ছে। স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় বাইরে মালের চাহিদা না থাকায় শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও ঠিক মত দিতে পারছি না। জানিনা এই ক্ষতি কতদিনে পূশিয়ে উঠবো।

তিনি আরও বলেন, কাজ না থাকার কারনে শতকরা প্রায় পঁচানব্বই জন ই ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। অনেকেই চালান পুঁজি হারিয়ে, আরো ঋণ-দেনা করে  কারখানা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

এমন অবস্থা বিরাজ করছে-ফকিরাপুল, পল্টন, কাঁটাবন ও বাংলা বাজারের প্রেস ও বাইন্ডিং শ্রমিকদের। করোনাকালে অন্যান্য শ্রমিকরা কর্ম হারিয়ে বিভিন্ন ভাবে সহায়তা পেলেও এ সব শ্রমিকদের ভাগ্যে কোন রকম সহায়তা জোটেনি। এখন পর্যন্ত সেই কর্মহীনতা অবস্থা বিরাজ করছে। কিছু কিছু শ্রমিক কাজ ফিরে পেলেও বেতনের নিশ্চয়তা নেই। তারপরও কারখানায় আসে হয়তো কাজ আসবে, মালিক  মালিকও বেতন দেবে।  

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...