• আপডেট টাইম : 17/11/2020 08:55 AM
  • 18 বার পঠিত
  • আওয়াজ প্রতিবেদক
  • sramikawaz.com

এখন থেকে কোনও পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই বিদেশে ভ্রমণ করতে পারবেন প্রাপ্তবয়স্ক সউদী নারীরা। শুক্রবার দেশটির রাজ দরবারের এক আদেশে এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ২১ বছরের বেশি বয়সী যে কোনও নারী এখন থেকে কোনও পুরুষ অভিভাবকের অনুমোদন ছাড়াই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবে।

কট্টর ইসলামি শাসন ব্যবস্থার তেল নির্ভর অর্থনীতির দেশ সউদী আরবে নারীদের জন্য অভিভাবকত্ব আইন প্রচলিত রয়েছে। এই আইন অনুযায়ী নারীদের ঘরের বাইরে বের হওয়াসহ অন্য কাজের আগে অভিভাবেকর অনুমতির দরকার পড়ে। ২০১৭ সালে অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমাতে সউদী যুবরাজ এক সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। সংস্কার প্রক্রিয়ার আওতায় গত বছর সউদী নারীদের গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বাধা দূর হলেও সব বাধা দূর হয়নি এখনও। দেশটিতে ‘কঠোর অভিভাবকত্ব আইন’ বহাল থাকায় তাদের এখনও বাধা দিতে সক্ষম পুরুষ অভিভাবকরা।
নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতিসহ কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সউদী সরকার উচ্চাকাক্সক্ষী পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও এখনও দেশটিতে নারীদের জন্য বড় বড় কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেখানে পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা প্রচলিত থাকায় নারীদের পড়াশোনা, ভ্রমণ বা অন্য কোনও কাজের জন্য বাবা, স্বামী বা ভাইয়ের অনুমতির দরকার পড়ে। তবে শুক্রবার ঘোষণা করা নতুন আদেশে বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্ক সকল ব্যক্তিই এখন থেকে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার এবং ভ্রমণ করার স্বাধীনতা পাবে। রাজকীয় ফরমানে নারীদেরকে সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করার সুযোগ এবং বিয়ে করা বা বিয়ে বিচ্ছেদের অধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সউদী নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে ওই আদেশে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পুরুষের অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত বিধানের কারণে সউদী নারীরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের জীবনযাপনে বাধ্য হয়। এখনও বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হলে নারীদের পুরুষের অনুমতি নিতে হয়। বিয়ে, তালাক ও পাসপোর্ট নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত কোনও নারী একা নিতে পারেন না। দেশটির এমন আইনের সমালোচনা চলে আসছে অনেক বছর ধরে।

সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সউদী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ২০১৬ সালে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে সউদী আরবের অর্থনীতি পরিবর্তনের প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়। এ সময়ের মধ্যে সউদী আরবের শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণের হার ২২% থেকে ৩০% এ উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে কানাডাসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে সউদী আরবের অনেক প্রভাবশালী বা বিত্তশালী নারীদের আশ্রয় চাওয়ার অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে এর মধ্যেও। তারা লিঙ্গবৈষম্যের কারণে অত্যাচারের শিকার হয়ে দেশত্যাগ করতে চেয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

এ বছরের জানুয়ারিতে ১৮ বছর বয়সী রাহাফ মোহাম্মদ আল-কুনুন’কে আশ্রয় প্রদান করে কানাডা। তিনি সউদী আরব থেকে পালিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এক পর্যায়ে থাইল্যান্ডের ব্যাংককের বিমানবন্দরের একটি হোটেল রুমে আটকা পড়ে যান তিনি এবং সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক সাহায্যের আবেদন করেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...