• আপডেট টাইম : 16/11/2020 11:19 AM
  • 281 বার পঠিত
  • গোলাম সরওয়ার
  • sramikawaz.com

তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখতে আমরা যতটা সচেতন তার বিন্দুমাত্রও চেষ্টা করি না তথ্যের সরবরাহ ধারণ ও বিশ্লেষণ করে তা হতে শিল্পে উপযোগী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে। তথ্যপাচার একটা দ-নীয় অপরাধ, তা রোধ করতে বহু আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং সময়মতো তা ব্যবহার করে দ-িত ব্যক্তির ওপর প্রয়োগও করা হয়েছে।



শিল্পোন্নত হওয়ার পেছনের দুর্বলতা হিসেবে আমরা এতদিন দক্ষ জনশক্তি আর পৃষ্ঠপোষকতাকে দায়ী করে আসছি। নিঃসন্দেহে এটা একটা অন্যতম কারণ যা আমাদের দেশের কলকারখানাগুলো মানবিকতা আর সুদিনের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে আগামী দিনের বারতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এর ফলে একদিকে যেমন শিল্পের মালিকরা প্রশ্নাতীতভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে অপরদিকে শিল্প জড়িত শ্রমিক কর্মচারীরা নুনে ভাতে শীর্ণকায় শরীরে দক্ষ হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

 

করযোগ্য আয় হলেই একজন শ্রমিকের বেতন/মজুরি হতে উৎস কর কর্তন করে রাষ্ট্র তার দায়িত্ব ঠিকই পালন করছে কিন্তু শিল্পের ক্রান্তিকালে শ্রমিক/কর্মচারী শূন্য হাতে বাড়ি ফিরলে তার খবর কেউ রাখে না। এমনকি তার আত্মীয়-স্বজনও ঐ শ্রমিকের প্রতি সহানুভূতি দেখায় না। মাস শেষে যখন শ্রমিকের সন্তানের পুষ্টির ওপর রাষ্ট্রযন্ত্রের ছড়ি ঘোরায় তখন তাদের বিজ্ঞ কলম জীবিরা বামহাত পাততেও দ্বিধা করে না। যাই হোক, আমাদের দরবারহীন অর্থনীতি আরও এগিয়ে যাক, শ্রমিকের ত্যাগে গড়ে উঠুক শিল্পময় দেশ, তৈরি হোক দক্ষ মানবশক্তি।

প্রথমেই তথ্যের ঘাটতি ও আমাদের শিল্পের কথা বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু শ্রমিকের কথা না বলে তথ্য নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি বেমানান। আজকাল লক্ষ্যণীয় যা সর্বত্রই বহুল ব্যবহৃত টার্ম তা হলো তথ্য প্রযুক্তিতে আমরা অনেক এগিয়ে যাচ্ছি। কথাটি একদম সত্য কিন্তু এর সঙ্গে কলকারখানাগুলো কতটুকু সঙ্গতিপূর্ণ বা টেকসই হচ্ছে তা রাষ্ট্র খেয়াল করছে কি? তা জানি না তবে শিল্প মালিকরা হঠাৎ করে নানান ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে তা বাস্তবতা থেকে বলতে পারি।

যেমন প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুরাতন যন্ত্রপাতি বাতিল করতে হচ্ছে, তার সঙ্গে জড়িত কর্মচারীরাও কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাই তথ্যের সরবরাহ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থা প্রখর করতে হবে রাষ্ট্রকেই। যাতে কোম্পানিগুলো তড়িঘড়ির মধ্যে না পড়ে। কোভিড-১৯ এর সময় আমরা লক্ষ্য করলাম ইটালি, আমেরিকা তথ্যের অভাবে কিভাবে ব্যর্থ হলো। তথ্যের নির্ভুল উপস্থাপনায় চীন আজ সব দিক থেকে শীর্ষে চলে যাচ্ছে। আমাদের এই ক্ষুদ্র অর্থনীতি যেন পরিবর্তনের ঢেউ সামলাতে গিয়ে পড়ে না যাই তার জন্য আমাদের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

 

আগে আমরা জানতাম নলেজ ইজ পাওয়ার কিন্তু এখন বলা হয় ইনফরমেশন ইজ পাওয়ার। ইদানীংকালে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকার স্বার্থে অপারেশনের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন করতে চাচ্ছে। সনাতন উৎপাদন ধারণায় আর ভরসা রাখতে পারছে না। এখন একটা ধারণা করপোরেটের সকল পর্যায়ের মাথায় ঢোকানো হচ্ছে তা হলো কোম্পানিগুলো লীন ম্যানুফ্যাকচারের পথে হাঁটবে। টয়োটা কোম্পানি অর্ধ শতাব্দীরও বেশি আগে এই পদ্ধতির প্রবর্তন করে। যা এতদিন পরে আমাদের দেশের কলকারখানা গুলো তাগিদ অনুভব করছে।

 

এর কারণ যতটা না সিস্টেম চালাতে অনীহা তার চেয়ে বেশি মানবিক। কারণ লীন পদ্ধতিতে অতিরিক্তের কোনো স্থান নেই। অপ্রয়োজনীয় মানবসম্পদের কোনো জায়গা হয় না। উৎপাদনও করা হয় চাহিদার সঙ্গে গাণিতিক হিসেব করে। ইনভেন্টরি (মজুদ) সংরক্ষণ করে রাখার প্রয়োজন হয় না। যার ফলে একদিকে যেমন ক্যাপিট্যাল ব্লকিং কমে যায় অপরদিকে ব্যবস্থাপনাতে স্বল্প লোকবল ব্যবহার করতে হয়। এই পদ্ধতি চালু করতে হলে কোম্পানিগুলো ৫টি ধাপে অগ্রসর হবে আর তা ৫ এস নামে পরিচিত। সর্ট, সেট ইন অর্ডার, সাইন, স্ট্যান্ডারাইজ্, সাসটেইন। এর ফলে বিলোপিত হবে যা অপ্রয়োজনীয়। প্রয়োজনীয় কর্মী ও সম্পদের যথার্থ ব্যবহারের মাধ্যমে পুঁজির সর্বত্র ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

পরিচ্ছন্নতার কথা আজ সবখানেই দামী হয়ে উঠছে, যা ৫০ বছরেও আমরা আনতে পারিনি। অথচ লাল রক্ত কতটা পরিচ্ছন্ন ছিল তা কি কেউ কখনো ভেবে দেখেছি? যদি আমরা একটিবার নিজের রক্তের দাম দিতে শিখি তাহলে তথ্যের ভিতরে আবর্জনা ঢুকবে না। আর পদ্ধতির ঘেরাটোপে আমাদের নিরীহ মানুষগুলোকেও আটকে থাকতে হবে না।

লেখক : বহুজাতিক কোম্পানির সহমহাব্যবস্থাপক

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...