• আপডেট টাইম : 10/11/2020 11:52 AM
  • 178 বার পঠিত
  • বিশেষ প্রতিবেদক
  • sramikawaz.com

বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে মিরপুর-১৩ তে অবস্থিত ওপেক্স ফ্যাশন গার্মেন্টস কারখানার তিন হাজারের অধিক শ্রমিক। ১০ নভেম্বর মঙ্গরবার সকাল ৮টার দিকে এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।  ওপেক্স কারখানা বন্ধ করে করে দিলে পাশেই মিরপুরে-১০ এর প্রায় ১০টি কারখানা কারখানা বন্ধ ঘোষনা করা হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওপেক্স ফ্যাশনের কারখানার শ্রমিকরা কারখানার ভেতর ও পাশের সড়কে অবস্থান করছিলেন। 


আন্দোলনরত ওপেক্স ফ্যাশন কারখানার শ্রমিকরা জানান, কারখনাটিতে অনিয়মতভাব বেতন দেওয়া হয়। ৯ নভেম্বর স্টাফ-কর্মকর্তারা বেতন নিয়েছে কিন্তু আমাদের শ্রমিকদের বেতন দেয়নি। তারা বলতেও পারেনি আমাদের কবে বেতন দেবে। আমাদের আরও দাবি আছে। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করছি। এখন প্রতিবাদ না করলে বেতন দেওয়া আরও দেরি করবে। আরও অনিয়ম করবে। আমরা কর্মকর্তাদের বৈষম্য মালিক ও সরকারকে জানাতে চাই। এ জন্য এই আন্দোলন।


শ্রমিক রোকশানা অভিযোগ করেন, মালিক নিজে এসে ৭ নভেম্বর বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন। ৯ তারিখে স্টাফ ও বড় কর্মকর্তারা বেতন নিলেও আমাদের বেতন দেননি। মালিকের অন্য কালখানার শ্রমিকদের বেশি সুযোগ সুবিধা দেওয়া হলেও এই কারখানা শ্রমিকদের দেওয়া হয় না। এটা বৈষম্য। ওপেক্স কাঁচপুরে হারিজয়রা বোনাস দেয় ৬০০ টাকা। এখানে দেয় ৪০০ টাকা। এ সব অনিয়ম দূর করতে হবে।
এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকরা আট দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো- সপ্তম কর্ম দিবসের মধ্যে আগের মাসের বেতন দিতে হবে। চাকরি থেকে অব্যাহতি বা অবসরে যাওয়ার প্রত্যক শ্রমিকের প্রাপ্য পাওনা দ্রুত দিতে হবে। চলতি ২০২০ সালসহ আগের সকল বাৎসরিক ছুটির টাকা প্রদান করতে হবে। হাজিরা বোনাস ৪০০ টাকা বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করতে হবে। বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট ৫ পার্সেন্টস দেওয়া হয়, বাড়িয়ে ১০ পার্সেন্টস করতে হবে। ওভারটাইমের টাকা ব্যতিত কোন শ্রমিককে অতিরিক্ত কাজ করানো যাবে না। অযথা বা অকারণে শ্রমিক ছাটাই করা যাবে না। মাতৃকালিন ছুটির টাকা প্রদান করতে হবে।


শ্রমিকরা জানায়, অক্টোবর মাসের ২৯ ও ৩০ তারিখে আগের জুলাই ও আগস্ট মাসের বেতন দেওয়া হয়। এ মাসে শ্রমিকদের না নিয়ে স্টাফরা নিয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের কবে বেতন দেয়া হবে তা স্পষ্ট করে বলেনি। এ কারণেই শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এ বিষয়ে কারখানার কোন কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি। তবে কোনো কোনো শ্রমিক অভিযোগ করে বলেছেন, ১৯ নভেম্বর অক্টোবর মাসের দেওয়ার কথা কারখানা থেকে দেওয়া হবে বললেও পাশাপাশি না দেয়া হতে পারে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়। কোন কর্মকর্তা বলেছে জানতে চাইলে বলতে চায়নি।

 

ওপেক্স কারখানা বিক্ষোভ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওপেক্স থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মিরপুর-১০ এ অবস্থিত মুনলাইট, রিসাল, জকি, লোডস্টার, এমবিএম, সারস, ভিশন, লোডস্টার সহ ১০টি কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ বিষেয়ে লোডস্টার কারখানার শ্রমিক মুন্না শ্রমিক আওয়াজকে বলেন, আমাদের কোন সমস্যা নেই। সমস্যা হলো ওপেক্স-এর। ওপেক্স-এর সমস্যার কারণে শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। ওখান থেকে আমাদের কারখানায় এসে ভাংচুর করতে পারে এ জন্য আমাদের কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে।


ভাংচুরেরর আশঙ্কায় কারখানা বন্ধের বিষয়টি স্বীকার করেন ভিসন গার্মেন্টস কারখানার পাশে অবস্থানরত কাফরুল থানা পুলিশ। সকাল থেকেই এসব কারখানায় পুলিশ অবস্থান করছেন। এসআই মোশারফ হোসেন বলেন, এই কারখানায় কোন সমস্যা নেই। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা এসে ভাংচুর করতে পারে এ জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা সকাল ৮টা থেকে এখানে অবস্থান করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...