• আপডেট টাইম : 07/11/2020 02:55 PM
  • 607 বার পঠিত
মেহেদী হাসান তুষার
  • প্রকৌশলী মেহেদী হাসান তুষার
  • sramikawaz.com


ব্রিটেনে আবারো এক মাসের লকডাউন।এছাড়াও লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যেও। ভীতিকর বার্তা দিয়েছেন ব্রিটেনের প্রেসিডেন্ট বরিস জনসন।

ডাউনিং স্ট্রিটে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, সকল রেস্তোরাঁ, ব্যায়ামাগার, পানশালা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনে জরুরি নয় এমন দোকানপাট চার সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে।

তবে গতবারের লকডাউনের সাথে খানিকটা তফাৎ থাকবে এবার। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকবে। ডিসেম্বরের ২ তারিখের পর লকডাউন শিথিল করা হবে।

লকডাউন ঘোষণার সাথে সাথেই বহুজাতিক আন্তর্জাতিক পোশাক আমদানিকারক জায়ান্ট বায়ার রা অর্ডার স্টপ করা শুরু করেছে।দেশের বড় বড় স্বনামধন্য পোশাক প্রস্তুতকারক গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে এমন খবরই নিশ্চিত করা হয়েছে। এমন খবরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টর এর সাথে জড়িত সকলের মধ্যে এক ধরণের উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য যে,এর আগে গত লকডাউনে বিভিন্ন দফায় প্রায় ১ মাস (২৬মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল) গার্মেন্টস সেক্টর বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের সব গার্মেন্টস কারখানা এ লে-অফ এর কারনে ৫৫% মজুরি প্রদান করা হয়। এতে শ্রমিকদের জীবন-ধারণে নেমে আসে অবর্ণনীয় কষ্ট। অনেক শ্রমিক ই ১০,০০০ টাকা মুল বেতন এ লে-অফ এর রুল অনুযায়ী ৫৫০০ টাকা বেতন পাওয়ায় বাড়ি ভাড়া,যাতায়াত এবং মাসিক খাওয়া খরচ,সংসার চালানোয় হিমশিম খেতে হয়েছে। এছাড়াও সেই সময় পবিত্র দুই ঈদ পালন হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী খুলনা-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এর হস্তক্ষেপে এবং পোশাক মালিকদের আন্তরিকতায় ও শ্রমিক ফেডারেশন এর নেতাদের সহযোগিতায় দুই ঈদ এর বোনাস দেওয়াতে শ্রমিক দের কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হয়েছে।

বর্তমানে বড় বড় বায়ারগুলো (H&M,Kiabi,Leftis,Zara,Mango,Pull & Bear) অর্ডারের পরিমাণ কমাতে শুরু করেছে। এর ফলে গার্মেন্টস সেক্টর এর সুইং লাইনগুলো ফাকা হয় যেতে শুরু করেছে। আবার বর্তমানে ২০২০ সাল শেষের দিক হওয়াতে শ্রমিকদের ৫% বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এর বিষয় টিও আলোচনায় উঠে আসছে। যেহেতু এই বছর পোশাক শিল্পে একটু মন্দা যাওয়াতে অনেক ছোট ছোট কারখানার মালিকরা বসে যাওয়াতে বেশ কিছু সংখ্যক শ্রমিকদের চাকরি হারিয়েছে।যদিও বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ ভালোভাবেই এই দুর্যোগ কে মোকাবেলা করেছে।

এখন সামনে দেখার বিষয়,বর্তমান শীতকালে করোনা সংক্রমণ,অর্ডারের প্যাটার্ন,শ্রমিকদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট সবমিলিয়ে মালিক,শ্রমিক ও সরকারের ত্রিমুখী আন্তরিকতায় আমাদের গার্মেন্টস সেক্টর ভবিষ্যতে কতটুকু এগিয়ে যেতে পারে। দেশের প্রায় ৩-৪ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সাথে জড়িত।পোশাকশিল্প বাচলে বাংলাদেশ বাচবে।

প্রকৌশলী মেহেদী হাসান তুষার।
বিএসসি ইন ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং(IPE),কুয়েট।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...