• আপডেট টাইম : 05/11/2020 12:27 AM
  • 16 বার পঠিত
এভাবেই চলাফের করতেন ইরফান সেলিম
  • আওয়াজ ডেস্ক
  • sramikawaz.com


নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর (বরখাস্ত) ইরফান সেলিমের ক্ষমতার দাপট শুধু বাইরে নয়, পরিবারের মধ্যেও ছিল। সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের পুরো পরিবারের অশান্তির কারণ ছিলেন তিনি। ইরফান দুই ভাইকে বাদ দিয়ে একাই বাবা হাজী সেলিমের সব সম্পত্তি একাই দখলের চেষ্টায় ছিলেন। এর প্রতিবাদ করার কারণে বড় ভাই সোলেমান সেলিমের গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করেননি তিনি।

সম্পত্তি দখলে ছোট ভাই আশিক সেলিম যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ান এজন্য তাকে কৌশলে অস্ট্রেলিয়া পাঠিয়ে দিয়েছেন। দেশে এসে যাতে আশিক ব্যবসা বাণিজ্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না পারে এজন্য তাকে অতিরিক্ত টাকা পাঠান। আর বড় ভাই সোলেমান সেলিম অনেকটা ইরফানের কাছে জিম্মি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।


সূত্রমতে, ২০১৮ সালের জুন মাসে ইরফান তার বাবাকে সমস্ত সম্পত্তি লিখে দেয়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু অপর দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি তা করতে রাজি হননি। যে কারণে হাজী সেলিমকে বেশ কিছুদিন বাড়ির বাইরে বের হতে দেননি ইরফান। এতে তিনি সন্তান ইরফানের ওপর আরো ক্ষিপ্ত হন। সন্তানের এমন অপকীর্তির কারণে লোকলজ্জায় হাজী সেলিম বাইরে কাউকে কিছু বলতেও চাননি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইরফান নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে পিটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি রেখে পালিয়ে যান। পরে যখন বিষয়টি চাউর হয়ে যায়, তখন নিজে বাঁচার জন্য তাদের প্রতিষ্ঠান মদিনা গ্রুপের কর্মকর্তাকে ধানমণ্ডি থানায় পাঠান, যেন বিষয়টি আপসের মাধ্যমে সমাধান হয়ে যায়। যাতে ওই কর্মকর্তা কোনো মামলা না করেন। শুধু থানায় নয়, তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ শুরু করেন আপসের জন্য। কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ধানমণ্ডি থানায় সিগন্যাল যায় যে, ভিকটিম যে পদক্ষেপ নিতে চাইবে সেই পদক্ষেপে যাতে পুলিশ সায় দেয়। অভিযোগ নিতে যেনো পুলিশ গড়িমসি না করে। পুলিশের শক্ত অবস্থান এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কড়া সিগন্যালের কারণে ইরফানের আপসের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।



এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের ধানমণ্ডি জোনের এডিসি আব্দুল্লাহিল কাফি গণমাধ্যমকে জানান, নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফের মারধরের ঘটনায় দু’পক্ষই থানায় এসেছিল। পরে ভিকটিমের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তিনি মামলা করবেন। পুলিশ তার মামলা নিয়েছে। বিষয়টি পুলিশ সুষ্ঠুভাবে তদারকি করেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, হাজী সেলিম অসুস্থ হওয়ার আগে পুরো ব্যবসার ভার তিনি একাই সামলাতেন। যখন তিনি স্ট্রোক করে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন তখনই মদিনা গ্রুপের পুরো ব্যবসা নিজে কব্জা করার চেষ্টা করেন ইরফান। তার এই অপকর্মে দুই ভাই ছিলেন বড় অসহায়। অনেকটা বাধ্য হয়ে সোলেমান সেলিম চুপ হয়ে যান। মদিনা গ্রুপের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা তার ভয়ে তটস্থ থাকতেন। তার দ্বারা মানসিক নির্যাতনের কারণে একাধিক কর্মকর্তা চাকরি ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।


পুলিশ জানায়, বাসা বা অফিস থেকে যখন তিনি বের হতেন তখন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মীরা এবং প্রাইভেট বাহিনীর সদস্যরা গাড়ির হুইসেল বাজিয়ে পুরো রাস্তা ফাঁকা করতেন। হুইসেল শোনার পর যদি কারো গাড়ি রাস্তা থেকে দ্রুত না সরতো তাহলে তাদের কপালে তাৎক্ষণিক শনির দশা নেমে আসতো। তার প্রাইভেট বাহিনী তাকে সেখানেই পিটিয়ে জখম করে দিতো। ঘটনাস্থলে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষ বিষয়গুলো দেখেও না দেখার ভান করতো।

সূত্র জানায়, প্রতিদিন গভীর রাতে মদ পান করে ইরফান তার ক্যাডার বাহিনীকে নিয়ে চকবাজার এলাকায় হাঁটতে বের হতেন। রাতে ব্যক্তিগত কাজে কেউ বের হলে তিনি তাদের অযথা জেরা করতেন। কোনো ধরনের তর্কে জড়ালেই তাকে ধরে নিয়ে যেতেন টর্চার সেলে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিল হলেও সাধারণ মানুষ তার কাছে সমস্যা নিয়ে গেলে তাকে পেতো না। তার বডিগার্ড জাহিদ অঘোষিত কাউন্সিলর ছিলেন। এলাকার সব বিষয়াদি তিনি দেখভাল করতেন।

সূত্র: কালের কন্ঠ

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...