sa.gif

শ্রমিক কি শুধুই আধুনিক দাস!



শ্রমিক অধিকার সংগঠন ইন্ডাস্ট্রি অল বলছে নিরাপত্তাহীন কাজের মাধ্যমে চাকুরিজীবি বা শ্রমিক তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। শ্রমিকের যে সব সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা খন্ডকালীন বা চুক্তি ভিত্তিক কাজের মাধ্যমে অনেকেই তা পান না বলে এ ধরনের কাজকে নিরাপত্তাহীন কাজ বলা হয়ে থাকে। বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতেই এধরনের নিয়োগ দেওয়া হয়।

এসব বিষয়ে বিবিসি বাংলার সাথে বলেন ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিলের এর রায় রমেশ চন্দ্র। তিনি বলেন, তার আইনানুগ নিয়োগপত্র, চাকরির  স্থায়ীত্ব, চাকরির বেনিফিট, গ্রাচুইটি, রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট এটা সকল শ্রমিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হওয়া দরকার। বিশ্বায়নের এই যুগে বা মুক্ত বাজার অর্থনীতির নামে বিশ্বব্যাপী খন্ডকালীন বা অস্থায়ী আউটসোর্সিং এর নামে শ্রমিকদেরকে আধুনিক দাসে পরিণত করা হয়েছে। আমাদের আন্দোলন এর বিরুদ্ধেই। আমরা চাই প্রত্যেকটা শ্রমিক তার শ্রম বিক্রি করার যে অধিকার, সকল শ্রমিক একই সুবিধা পাক।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে শ্রমিকেরা কি কি অধিকার থেকে বঞ্চিত হন এর জবাবে রমেশ চন্দ্র বলেন, চাকরি যদি স্থায়ী না হয় তাহলে সেই শ্রমিকরা পেনশন সুবিধা, ইনক্রিমেন্ট সুবিধা, উৎসব ভাতা, বাড়ি ভাড়াসহ নানা সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হন। অথচ স্থায়ী শ্রমিকরা এসব সুবিধা ভোগ করে থাকে। অস্থায়ী শ্রমিকেরা বেতন পান দৈনিক মজুরের মত।

বাংলাদেশে কতগুলো সেক্টরে এ ধরনের চিত্র দেখা যায় এমন প্রশ্নের জবাবে রমেশ চন্দ্র বলেন, আমাদের দুইটা সেক্টর যদি মেজর ধরি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধিন এবং বেসরকারি মালিকানা উভয় মালিকানায় এধরনের শ্রমিক আছে। আমরা মনে করি রাষ্ট্র হওয়া উচিত নোবেল ইমপ্লয়ার। বাংলাদেশ বিমান সেখানেও অস্থায়ী শ্রমিক আছে। যারা বছরের পর বছর ১২ থেকে ১৪ বছর কাজ করার পরও স্থায়ী হয়না। আমাদের যে সচিবালয় আছে সেখানেও অস্থায়ী শ্রমিক আছে তারা বছরের পর পর কাজ করছে কিš‘ স্থায়ী হয়না। এমনকি বৃদ্ধ বয়সে অবসর গ্রহণ করার পর খালি হাতে বাড়ি ফিরছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সরকারি, আধাসরকারি, ¯স্থায়ীত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী শ্রমিক আছে। জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প পুরাটাই অস্থায়ী শ্রমিক নির্ভর।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ীশ্রমিক নিয়োগ বাড়ছে কিনা এর জবাবে রমেশ চন্দ্র বলেন, অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ শুধু বাংলাদেশে বাড়ছে তা নয় বিশ্বব্যাপী এধরনের নিয়োগ বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী বিশ্বায়নের যে প্রভাব সে প্রভাবে পুঁজিপতিরা শ্রমজীবি মানুষকেই একমাত্র শোষণের সহজ পথ হিসাবে বেছে নিচ্ছে। অন্যান্য খাতে খুব একটা মুনাফা করতে পারছেনা। মুনাফা করার একমাত্র নিরাপদ জায়গা তারা মনে করে শ্রম শক্তিকে যদি বঞ্চিত করে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে মুনাফা অর্জন করা। ১৫ ভাগ মানুষের কাছে সারা বিশ্বের ৮৫ ভাগ সম্পদ রয়েছে। আমাদের দেশেও একই অবস্থা। ধনী দেশের সাথে গরিব দেশের পার্থক্য অনেকভাবে বাড়ছে।

রমেশ চন্দ্র আরও বলেন , আমাদের দেশের শ্রম আইনে আছে কোন কারখানায় বা কোন প্রতিষ্ঠানে তিন মাস কাজ করে তাকে তিন মাস পরে থেকে মালিক বা যারা নিয়োগ দিয়েছে তারা ঐ শ্রমিককে স্থায়ী নিয়োগ দিতে বাধ্য। এ আইন সরকারিই মানছেনা, ব্যক্তি মালিকানা মালিকরা মানছেনা। সুতরাং সে আইনটাকে যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি আমরা জানাই।






Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution