sa.gif

শ্রমিক ছাটাইয়ের উছিলায় মালিকরা কারখানা বন্ধ করছে
সৌমিত্র কুমার


ন্যুনতম মজুরি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় বড় কিছু কারখানাতে কার্যকর হয়েছে। কিন্তু ছোট্ট ও মাঝারি মানের কারখানাগুলোতে ততটা বাস্তবায়ন হয়নি। এক্ষেত্রে প্রথমেই একটি কথা বলে রাখি তা হলো ন্যূনতম মজুরি ঘোষণাতেই শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণ করেনি। কারণ হলো মজুরির গ্রেড অনুযায়ী বাড়ানো হয়েছে, বেসিকের গ্রেড সে হারে বাড়েনি। এ নিয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সে অসন্তোষ থেকেই শ্রমিকদের মাঝে শ্রমিকরা বিক্ষোভ হলো। এ আন্দোলনের কারণ ছিল নতুন ন্যূনতম মজুরি কার্যকরের ফলে কোন কোন গ্রেডে মজুরি কমে যাওয়া। ওই আন্দোলনের ফলেও অনেক শ্রমিককে চাকরি থেকে ছাটাই করা হয়, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এভাবে শ্রমিকদের মাঝে ভীতি ছড়িয়ে তৈরি পোশাক কারখানাগুলো যে যার মত করে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করে।


এর ফলে শ্রমিকরা দেখতে পেলো প্রত্যাশা অনুযায়ী বেসিক তো পানি। যতটুকু বাড়ছে এটা আবার কমপ্লায়েন্স গ্রæপ কারখানাগুলো বাদে মাঝারি মানের কারখানা ও ছোট্ট কারখানাগুলোতে বাস্তবায়ন করেনি। তারা এখনো বাস্তবায়ন করেনি। গাজীপুর বলেন, সাভার বলেন, মিরপুর বা নারায়গঞ্জের কথা বলেন মাঝারি ও ছোট্ট মানের কারখানাগুলোতে এখনো ন্যুনতম মজুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে এক) অসন্তোষ ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের সময় বেতন কমে যাওয়া, দুই) যে মজুরি ঘোষণা হয়েছে তা বাস্তায়ন না এবং সর্বশেষ ৩) অসন্তোষ হলো ঘোষিত মজুরি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে শ্রমিক ছাটাই করার আতঙ্ক।


নতুন মজুরি কার্যকরের সাথে সাথে শ্রমিকদের জন্য আরও বিপদ শুরু হয়েছে। যতটুকুই মজুরি বেড়েছে এটুকু কার্যকর করার জন্য কারখানার চাপটা গেিয় পড়েছে শ্রমিকের উপরে। একদিকে নতুন মজুরি কার্যকর করা হয়েছে হয়েছে অন্যদিকে শ্রমিক কমানো শুরু করেছে। আগে যে লাইনে ৫০ জন শ্রমিক ছিল, এখন সেই লাইনে ৪০ জন শ্রমিক দিয়ে আগের কাজটিই করানো হচ্ছে। এতে উৎপাদন ঠিক থাকলেও শ্রমিক কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে শ্রমিকদের উপর নির্যাতন মাত্রা বেড়েছে।


এই যে শ্রমিক ছাটাই হচ্ছে-এক্ষেত্রে শ্রমিকের যে প্রাপ্য; ছাটাই করার সময় শ্রমিকদের যে আইনানুগ পাওনা দিতে হয়- তা থেকেও মালিক পক্ষ শ্রমিকদের বঞ্চিত করছে। এই ছাটাইয়ের উছিলা হিসাবে মালিক পক্ষ কখনো কখনো শ্রমিকদের বেতন বন্ধ করে দিচ্ছে; তখন শ্রমিকরা বেতনের দাবি জানাচ্ছে, বেতনের জন্য বিক্ষোভ করছে। মালিক পক্ষ শ্রমিকের এই বিক্ষোভকে কাজে লাগাচ্ছে। কিছু শ্রমিককে কারখানা ছাটাই করছে। এক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যারা শ্রমিকদের এ ¯^ার্থগুলো দেখ-ভাল্ করে থাকে তারাও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। যার ফলে এখন শ্রমিকদের মধ্যে ধরণের ছাটাই আতঙ্ক বিরাজ করছে। এবং এখন পর্যন্ত সাভার, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ, মিরপুর মিলে প্রায় ১০০ কারখানাতে এ ধরণের ছাটাই করা হয়েছে। আমার মনে হয়, ছাটাই করার জন্যই বেতন বন্ধ করে এবং এ ধরনের ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে।


মালিক পক্ষ হিসাব দিয়ে বলছে কারখানা বন্ধ যাচ্ছে। আমরা দেখেছি এই বন্ধ কারখানার বড় অংশ তারা এক স্থান থেকে আরেক স্থানে কারখানা স্থানান্তর করেছে। আর একটি অংশ তারা তৈরি পোশাক শিল্প খাত থেকে অন্য খাতে ব্যবসা স্থানানাÍর করছে আর ছোট্ট একটি অংশ যারা প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে কারখানা বন্ধ করছে। প্রতি বছর রপ্তানি বৃদ্ধির যে হার-এটার তাই প্রমান।


এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আর সরকার ও বিজিএমইএ এর পদক্ষেপের অভাবে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। শ্রমিকদের মধ্যে ভয়-ভীতি ও চাকুরির চলে যাওয়ার আতঙ্ক কাজ করছে। এ অবস্থায় আমরা মনে করি ন্যূনতম মজুরি সরকার যেটাই ঘোষণা করেছে-সেটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে কি না-সেটা সরকারের খতিয়ে দেখার দরকার। মনে রাখতে হবে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার সময়ই যথেষ্ট ফাঁক- ফোকর ছিল। প্রতিবছর ইনক্রিমেন্ট যেটা হওয়ার কথা ছিল সেটাই শ্রমিকরা পাইনি।


এদিকে মালিকদের যুক্তি, তারা যে মজুরি বৃদ্ধি করেছে এ মজুরি বায়াররা দিচ্ছে না। এটা আসলে কতটুকু সত্য তা নিয়ে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ইনক্রিমেন্ট হিসাবে যা দেওয়ার কথা সেটাই তো মালিকরা দিচ্ছে-এর বাইরে বাড়তি টাকা তো মালিকরা দিচ্ছে না। তাহলে এত অজুহাত কেন! যখন ন্যুনতম মজুরি ঘোষণা করা হয় তখন আমরা দেখেছিলাম গ্রেড প্রতি ১৫,২০, ৫০ বা ১০০ টাকা বেড়েছিল। কিন্তু এই মজুরি বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে মালিকরা সরকারের কাছে থেকে উৎসে কর সুবিধাসহ বিভিন্ন নীতি সুবিধা নিয়েছে। এই বাজেটেও তারা আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা সুবিধা নিয়েছে। কিন্তু যে শ্রমিককে সুবিধা দেওয়ার কথা বলে সরকারের কাছে থেকে এত সুবিধা নিলো এই শ্রমিককেই ছাটাই করা হচ্ছে; শ্রমিকদের চাকুরির নিশ্চয়তা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বেতন বৃদ্ধির ফলে শ্রমিকরা যে উপকৃত হবে-তার উল্টো শ্রমিকদের চাকরি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আমার মনে হয় মজুরি বৃদ্ধির কথা বললেও শ্রমিকরা সুবিধা হারাচ্ছে, চাকরি হারাচ্ছে এবং এর ফলে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। এই বেতন আর ছাটাইকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মাঝে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

সৌমিত্র কুমার: সাংগঠনিক সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট ।






Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution