sa.gif

৪৬ কারখানা বন্ধ: মালিক পক্ষের বেপরোয়া শোষণের ফল
খাইরুল মামুন মিন্টু


তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক গণমাধ্যমকে বলেছেন ব্যবসা সংকট ও অনৈতিক প্রতিযোগিতার কারণে শ্রমিকদের বেতনভাতা, মজুরি এবং অফিসের ব্যয় বহন না করতে পেরে গত সাড়ে ৬ মাসে ৪৬ তৈরি পোশাক কারখানা (গার্মেন্টস) বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চাকরি হারিয়েছেন ২৫ হাজার ৪৫৩ শ্রমিক ও কর্মকর্তা।
গার্মেন্ট খাতের এ অবস্থা সার্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়াবে বলে দাবী করেছেন তিনি। তিনি বলেছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় মাসে ৪৬টি গার্মেন্টস বন্ধ হয়েছে। তাতে ২৫ হাজার ৪৫৩ শ্রমিক ও কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন। আর ব্যবসায়ীরা ব্যবসা হারিয়েছেন।বিদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে পোশাক কারখানাগুলো এখন দর কষাকষি করতে পারছে না। কিন্তু কেউ সাহস করে বলতে পারছে না।

কিছু কারখানা ওভার ইনভেস্টমেন্ট (অতিরিক্ত বিনিয়োগ) করে আসছে। ফলে এখন এই খাতে চরম দুরবস্থা চলছে। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই এখন পর্যন্ত ৪৬ কারখানা বন্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, সারাক্ষণ আমাদের বলা হচ্ছে আমরা ভালো করছি। আমরা আসলে কোথায় ভালো করছি? ব্যবসার বৈশ্বিক যে আবহাওয়া তাতে আমি মনে করি না আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের আগে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। এতগুলো মাস আমরা সামলাবো কীভাবে?
একের পর এক ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন মন্তব্য করে রুবানা হক বলেছেন, সবাই বলছে আমেরিকার জন্য ব্যবসা বাড়বে। ব্যবসা বাড়বে ঠিক আছে। কিছুলোক হয় তো রপ্তানি করবেন বেশি। কিন্তু ক্ষুদ্র ও মাঝারি যে কারখানা আছে, সেগুলো কিন্তু একটার পর একটা বন্ধ হচ্ছে।
আমরা সবাই অবগত আছি ২০১৬ সাল থেকে গার্মেন্ট শ্রমিকদের আন্দলনের ফলে ২০১৯ সালে জানুয়ারিতে নিম্নতম বেতন ৫৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০০০ টাকা নির্ধারণ করে নিম্নতম মজুরী বোর্ড। গার্মেন্ট শিল্পে নিম্নতম মজুরী বৃদ্ধি হওয়ার পর থেকে শ্রমিকদের উপর চরম নির্যাতন-নিপিড়িন, ফাও খাটানো, তিন জন শ্রমিকের কাজ দুই জনকে দিয়ে করানো, ঘন্টায় ডবল প্রডাকশন দেওয়া, মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ দিয়ে হয়রানী, জেলেপুরে রাখা, স্থানীয় মাস্তান-সন্ত্রাসী দিয়ে মাইর পিটসহ নানান নির্যাতন। ২০১৯ সালের শুধু জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাসেই ১১ হাজার শ্রমিক ছাঁটায় করা হয়েছে এবং জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৫০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক ছাঁটায় হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। যাদের ছাঁটায় করা হয়েছে তাদের আইনানুগ পাওনা ঠিক মত দেওয়া হয়নি।

এবারের মজুরির আন্দোলন করতে শ্রমিকরা বুঝেছে, কারখানা ভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন করা কতটা জরুরি, তাই শ্রমিকরা কারখানায় কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন, এতেই গার্মেন্ট মালিকরা শ্রমিকদের উপর অখুশি হয়ে কারখানা বন্ধ রেখে ট্রেড ইউনিয় সদস্য বা নেতা শ্রমিকদের ছাঁটায় করে দিচ্ছে।

গত সাড়ে ৬ মাসে যে ৪৬ তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে তা দুটো কারনে। প্রথমত. শ্রমিকরা কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাই শ্রমিকরা যাতে ট্রেড গঠন করতে না পারে । দ্বিতীয়ত, বড় পুঁজির কাছে ছোট পুঁজির মালিকেরা মার খাচ্ছেন বলে ছোট কারখানাগুলো বন্ধ হচ্ছে। যেসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে তারা অনেকেই কমপ্লায়েন্ট নয়। নতুন করে কমপ্লায়েন্ট করতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছে। বড়দেরগুলো কিন্তু আরও বড় হচ্ছে, কোন কোন গার্মেন্ট ভাড়া বিল্ডিং থেকে নিজের বিল্ডিংএ স্থানান্তর করছেন এবং গার্মেন্ট মালিকরা বিদেশে টাকা পাচার করছেন, শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা থেকে বঞ্চিত করার জন্য অনেক ধরণের নাটক করছেন।

  খাইরুল মামুন মিন্টু: সাংগঠনিক সম্পাদক, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র

 






Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution