sa.gif

নির্মাণ শ্রমিকের পেশাগত নিরাপত্তা ও সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করতে হবে
নবী আল ফকির


সব কিছু নির্মাণ করে নির্মাণ শ্রমিকরা। রাস্তা থেকে অট্টালিকা, শিল্প-কারখানা থেকে প্রাসাদ নির্মাণ হয় শ্রমিকের শ্রমে-ঘামে। কিন্তু এই শ্রমিকের মূল্যায়ন নেই, ঠিক মত বেতন-ভাতা নেই। কাজ করার সময় আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নেই। দূর্ঘটনায় কোন শ্রমিক আহত বা নিহত হলে প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ নেই। এই বঞ্চনা নিয়ে কোথাও আইনি প্রতিকার চাইতে গেলে সেখানে বিচারেও সঠিক ব্যবস্থা নেই। দিনের পর দিন ঘুরিয়ে নির্মাণ শ্রমিকরা শেষ পর্যন্ত বিচারের আশা চেড়ে দিয়ে চলে আসে।

নির্মাণ শ্রমিকরা এত কষ্ট করে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে বহুতল ভবন, রাস্তা নির্মাণ করেন সে কষ্ট করেন তার বিনিময় সে শ্রমিকের যে মজুরি পাওয়ার কথা তা পাননা। মালিকরা সব কিছু করতে পারে সমস্যা নাই, শুধুমাত্র শ্রমিকের বেতন দিতে সমস্যা, শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ দিতে গেলে সমস্যা। আমরা চাই নির্মাণ শ্রমিকের বেতন আরও বৃদ্ধি করা হোক, নির্মাণ শ্রমিকরা রোদ-বৃষ্টি এর মাঝে জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করেন, দুর্ঘটনার ঝুকি নিয়ে কাজ করেন তাদের কাজ করার সময় পেশাগত সকল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

আমরা যখন কাজের সময় মালিকের সঙ্গে স্ট্যাম্পে চুক্তি করি তখন মালিকরা শ্রমিকের নিরাপত্তার বিষয়গুলো চুক্তিতে আনতে চায়না। তারপর আমাদের দাবির ফলে চুক্তিতে শ্রমিকের নিরাপত্তার বিষয়গুলো যখন আনে তখন স্ট্যাম্পে স্পষ্ট ভাবে লেখা থাকে-শ্রমিকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা মালিকেরই করতে হবে, কিন্ত ব্যস্তবে তা কিছুই দেয় না।

এ ব্যাপারে সরকারের যে বিভাগ এগুলো দেখা শোনা করে তাদের কোন গুরুত্ব নেই। অথচ এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কারণে অনেক শ্রমিক আহত-নিহত হচ্ছে। ক্ষতিপূরণটাও ঠিক মত দেয় না মালিকরা। যদি একটা দুর্ঘটনায় কোন শ্রমিক আহত বা নিহত হন তাহলে ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার জন্য লুকিয়ে রাখে। কেউ না জানে এমন করে গোপনে শ্রমিকের লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। আহত হলে গোপনে নামে মাত্র চিকিৎসস্যা করে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে সরকারের যে বিভাগের দেখার দরকার তারা দেখে না।

সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যদি শ্রমিকের সমস্যাগুলো নজরদারি করতো, শ্রমিকদের, আইনের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছে-এই বিষয়টি যদি সরকার ভাল করে দৃষ্টি দিতো তাহলে নির্মাণ শ্রমিকরা বঞ্চিত হতেন না। এর ফলে মালিক বা নিয়োগকর্তারা শ্রমিকদের যোগ্য প্রাপ্য দিতে বাধ্য হতো। শ্রমিকরা সুস্থ শরীরে কাজ করতে পারতেন। এতে বেশি কাজ করতে পারতেন, এতে দেশ ও মালিকেরই লাভ হতো।

কঠোর পরিশ্রম করে শ্রমিকরা যে আয় করেন তা দিয়ে শ্রমিকের কোনমতে সংসার চলে। নির্মাণ শ্রমিকদের কাজ অস্থায়ী হওয়ার কারণে পরিবার-পরিজন কাছে রাখতে পারেন না। এতে যেখানে কাজ করেন সেখানে একবার খরচ হয়, আবার গ্রামের বাড়িতে আরেকবার পরিবারের জন্য খরচ হয়। ফলে প্রাপ্য মজুরি দিয়ে কোন ভাবেই চলে না। এর ফলে সন্তানদের দেখা-শোনা বা খরচ করা কঠিন হয়ে যায়।

আমরা নির্মাণ শ্রমিকরা কেউই নির্মাণ শ্রমিক হয়ে জন্ম নেইনি। আমাদেরও ইচ্ছা ও আশা-আকাক্সখা আছে আমাদের সন্তানরা লেখাপড়া শিখে বড় হোক, ভাল লেখাপড়া করে ভাল কোন চাকরি করবে। কিন্তু শোষণমূলক সমাজ আমাদের জন্য এমন ব্যবস্থা করে রেখেছে যাতে শ্রমিকের সন্তান শ্রমিকই হয়, শ্রমিকের সন্তান মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে। আমরা এমন ব্যবস্থা চাই না। আমরা নির্মাণ শ্রমিকরা চাই সন্তানদের জন্য লেখাপড়ার ব্যবস্থা করতে হবে, লেখাপড়া শেষে চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের দাবি মানতে হবে।

* নবী আল ফকির : সভাপতি,আশুলিয়া থানা সড়ক ও নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন ।
অনুলিখন: মো. কামরুজ্জামান
 






Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution