sa.gif

সন্তান সম্ভাববা ৫ শ্রমিককে জোর করে চাকরিচ্যুত করলো আইরিস নীটওয়্যার : শ্রমিক নেত্রীদের ক্ষোভ


 বিশেষ প্রতিবেদক ও মো, কামরুজ্জামান : সন্তান সম্ভাবনা পাঁচ শ্রমিককে আটকে রেখে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে চাকরিচ্যুত করতে একটু টললো না গাজীপুরের আইরিস নীটওয়্যূার কারখানা মালিকের। সন্তান সম্ভাবনা এই নারী ম্রমিকরা যখন মানসিক ও শারীরিক প্রশানন্তির সাথে থাকবেন তখন চাকরি থেকের ছাটাইয়ের গ্লানি ও অর্থে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।

 

আইরিস নীটওয়্যার কারখানার মালিকের এ ধরণের আচরনকে স্বেচ্চাচারি ও অমানবিক উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শ্রমিক নেত্রীরা। এ বিষয়ে শ্রমিক আওয়াজ এর কথা হয় শ্রমিক নেত্রী ও সংসদ সদস্য সামসুন্নাহার এবং নাজমা আক্তারের।

 

বিষয়টিকে অত্যান্ত অমানবিক বলে মনে করেন জাতীয় মহিলা শ্রমিকলীগের সভাপতি সামসুন্নাহার এমপি। তিনি ফোনে শ্রমিক আওয়াজকে বলেন, কোন অবস্থাতেই কোন সন্তান সম্ভাববা নারী শ্রমিককে ছাটাই করতে পারে না।  আইনেও স্পষ্ট বলা আছে কোন কারখানায় কোন নারী ৬ মাস করলেই মাতৃকালিন ছুটি প্রাপ্য হবেন। কোনভাবেই তাকে কারখানা থেকে বের করতে পারবেন না।

 

চাকরিচ্যুতির শিকার নারী শ্রমিকরা হলেন, মৌসুমি আক্তার, আইডি নম্বর ৭৬১৭৬২; মর্জিনা খাতুন, আইডি নম্বর ৭৬২১৯; পারভীন আক্তার, আইডি নম্বর ৭৬২০৩৭; শাহিনা আক্তার, আইডি নম্বর ৭৪০০৭২ এবং দোলনা খাতুন, আইডি নম্বর ৬৬১০৪৬। সৌমুমি আক্তার আইরিস কারখানাতে ২০১৭ সালের মে মাস থেকে চাকরি করেন। মর্জিনা খাতুন চাকরি করেন ২০১২ সালের নভেম্বর মাস থেকে। পারভিন আক্তার চাকরি করছেন ২০১৮ সাল থেকে। শাহিনা চাকরি করেন ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে এবং দোলেনা চাকরি করছেন ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে।

 

ছাটাইয়ের শিকার সন্তান সম্ভাববা এসব নারী শ্রমিকরা জানান, করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর কারখানাটি বন্ধ ঘোষনার করা হয়। এরপর মে মাসের ১ তারিখ থেকে কারখানা খোলা হয়। এরপর একমাস চাকরি করার সময় ১ জুন সন্তান সম্ভাববা এসব নারী শ্রমিককে কারখানার প্রশাসনিক কক্ষে থেকে সাদা কাগজে দিয়ে তাতে পারিবারকি কাজ দেখিয়ে চাকরি থেকে রিজাইন করতে বলে। রিজাইন করতে না চাইলে তাদের ভয় দেখানো হয়।  ভয় দেখিয়ে স্বাক্ষর করার কাজটি করেন আইরিস কারখানার প্রশাসন বিভাগের দুই কর্মকর্তা মাসুমা ও টাইম কিপার মিলন। মে মাসের বেতনের টাকা ও ছুটির টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে কারখানা থেকে বের করে দেওয়া হয়।

 

ছাটাইয়ের শিকার পাঁচ নারী শ্রমিকই ফোনে শ্রমিক আওয়াজকে বলেন, তারা চাকরি করতে চায়, রিজাইন করতে চায় না। এমন কথা জানালে মাসুমা ও মিলন তাদের ভয় দেখায়।নারী শ্রমিকরা জানান, এ সময় তাদের অফিস ডেকে নিয়ে ধমক দিয়ে রিজাইন করতে বললে ভয়ে আমরা স্বাক্ষর করতে বাধ্য হই।

 

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে আইরিস কারখানার প্রশাসন বিভাগের সহকারী ম্যানেজার ইকবাল হোসেন বলেন তারা কিছুই জানেন না। জেনে জানাবেন বলে জানিয়ে এই প্রতিবেদকের কাছে থেকে চাকরি হারানো শ্রমিকের তথ্য নেন। কিন্তু পরে ফোন করলে ফোন ধরনেনি এই কর্মকর্তা।

 

একসঙ্গে পাঁচজন নারী শ্রমিকের চাকরিচ্যুতির বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য চেয়ে ফোন করা হলে বিজিএমইএ এর সভাপতি ড. রুবানা হকের মোবাইল ফোন থেকে তাঁর পিএস জানান, সভাপতি মাহেব এ বিষয়ে কথা বলবেন না, ব্যস্ত আছে। এ বিষয়ে কথা বলবেন অন্য একজন পরিচালক। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য সংশ্লিস্ট পরিচারকের সাথে ফোনে যোগাযেগ করা হলে তিনি কোন ধরণের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আমি দায়িত্ব প্রাপ্ত  নই।

 

সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার এ ধরণের ছাটাইকে মানবাধিকারের লংঘন ও বেআইনি বলে উল্লেখ করেন। তিনি ফোনে শ্রমিক আওয়াজকে বলেন, কোন নারী গর্ভবতী হলে তাকে ভারি কাজ থেকে সরিয়ে হালকা কাজ দেওয়ার কথা। সেখানে চাপ সৃষ্টি করে রিজাইন করে নেওয়া খুবই অমানবিক। একই সাথে এটাই ফৌজদারি অপরাধ। আমি সরকার  ও আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ করবো এত বড় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।    

 






Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution