sa.gif

বড় শিল্প গোষ্ঠী আকিজেও শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে !


বড় শিল্পগোষ্ঠী আকিজ গ্রæপের কারখানাতেও শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। কথায় কথায় ছাঁটাই, শ্রমিককে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, মাতৃকালিন ছুটি নেই, নিয়োগ পত্র থাকলেও অংশিক। এ অবস্থা চলছে আকিজ গ্রæপের মানিকগঞ্জে অবস্থিত আকিজ টেক্সটাইল মিলস লি: কারখানায়।


শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কারখনাটির নারী শ্রমিককে মাতৃকালিন ছুটি দেওয়া হয় না। এক নারী শ্রমিক ছুটি না পেয়ে গর্ভে সন্তান নিয়েই কাজ করতে বাধ্য হন। এ অবস্থায় গর্ভেই সন্তান নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। চাকুরি হারানোর ভয়ে কোন উপায় না পেয়ে ‘কপালের দোষ’ মেনে মুখ বন্ধ করে চাকরি করতে বাধ্য হয়েছেন। সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছে গত ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে। এখন কোন শ্রমিক সন্তান সম্ভাববা হলে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। শ্রমিকরা জানান, কোন শ্রমিক অসুস্থ হলেও ছুটি বা গেট পাশ দেওয়া হয়না, কারখানায় খাবার পানিা ব্যবস্থা ঝুঁকিপুর্ণ, নারী শ্রমিকদের সাথে খারাপ আচরণ ও যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করা হয়। শ্রমিকদের সাথে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়।


কারখানায় নারী পুরুষের বেতনের বৈষম্য প্রকট। নারী শ্রমিকদের গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করানো হয়। উৎপাদন লক্ষপূরণ না হলে ১ থেকে ২ দিনের পর্যন্ত হাজিরা কেটে দেওয়া হয় এবং অশালিন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। কারখানায় দেরিতে গেলে বা কারখানায় অনুপস্থিত থাকলে কোন আইনানুগ পাওনা পরিশোধ না করেই বেআইনিভাবে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়। শ্রমিকরা জানান, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ইয়ার্ন ডাইং ইউনিটের এক নারী শ্রমিককে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে লজ্জা থেকে বাঁচতে নারী শ্রমিকটি চাকরি চেড়ে চলে যান। জানা গেছে ওই নারী শ্রমিক এখন গ্রামে অবস্থান করছেন। এছাড়া রাতের শিফটে কাজ করার সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে বা ঠুনকো অজুহাতেই নারী শ্রমিককে গায়ে হাত দেয়।


শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতিদিন তাদের তিন শিফটে কাজ করতে হয়, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২ টা। দুপুর ২ টা থেকে রাত ১০ টা। রাত ১০ টা থেকে সকাল ৬ টা। রাত ১০ টায় ছুটির পর নারী শ্রমিকদের নিরাপদে বাড়ী ফেরা কঠিন। তারপরও বাধ্য হয়ে কারখানায় কাজ করতে হয়।


কারখানায় পানি পানের নিরাপদ ব্যবস্থা নেই বলে জানান শ্রমিকরা। শ্রমিকদের পানি পান করার দরকার হলে কারখানার নীচ তলাতে যেতে হয়। সেযখানে খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানে পানি পান করা খুবই ঝুঁকি। কারখানার খাওয়ার পানির লাইনের নীচে ডাইংএর সুতা ধোয়ার লাইন যার কারণে সেখানে স্যাত স্যাতে হয়ে থাকে। কোন কারণে পা পিছলে গেলেই ড্রেনের পানিতে পড়ে যাওয়ার ভয় আছে। সেই সাথে শরীরের জন্য ভয়ঙ্কও কেমিক্যাল পানির সাথে মিশে যেতে পারে। তাই অনেকেই ভয়ে পানি খেতে আসেন না।


শ্রমিকরা জানান, কোন শ্রমিককে বাথরুমে যেতে হলে সুপাভাইজারের কাছে থেকে সময় উল্লেখ করে টয়লেট পাস নিতে হয়। টয়লেট পাসে যে কয় মিনিট সময় উল্লেখ থাকে সেই কয় মিনিটের মধ্যেই কাজে যোগদান করতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজে না ফিরলে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করা হয়। এমন কি বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কাছে জানানোর চেষ্টা করলে ওই শ্রমিকের উপর মাত্রা আরও বাড়ে।
আকিজ টেক্সটাইল মিলস কারখানা কর্তৃপক্ষ যখন তখন শ্রমিক চাকরিচ্যুত করে থাকে। শরীরিক অসুস্থতার কারণে যদি কোন শ্রমিক একদিন কারখানায় উপুস্থিত হতে না পারে তাহলে তাকে তার আইডি কার্ড কেড়ে নিয়ে কোন পাওনাদি না দিয়েই চাকরিচুত করা হয়। আবার জরুরী প্রয়োজনে কাউকে ছুটি কিংবা গেইট পাশ দেওয়া হয়না। শ্রমিকরা জানান, এ সব অনিয়েমের প্রতিবাদ করলে শ্রমিককে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা হয়। চাকুরিতে যোগদানের সময় থেকেই নারী শ্রমিকদের কম বেতন ধায্য করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে কারখানার কোন উর্দ্ধতন কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কারখানার ফ্লোর ইনচার্জ আশরাফুল হক শ্রমিক আওয়াজকে বলেন, নারী শ্রমিকের মাতৃকালিন ছুটি না পাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। শ্রমিক আওয়াজকে তিনি বলেন, আমাদের কাছে কোনা শ্রমিক ছুটি চাইলে আমরা ছুটি দিয়ে থাকি। তবে শ্রমিকদের সাথে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগটি আমরা শ্রমিকের ফ্লোরের শিফ্ট ইনচার্জেও সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, শ্রমিককে দিয়ে কাজ করানোর জন্য যে ভাবে কথা বা ব্যবহার করতে হয়-সেটা করা হয। এর বাইরে যৌন হয়রানি বা নির্যাতন এ সব কিছু করা হয় না। শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন করতে চাইলে শ্রমিককে ছাটাই করা হয়না বলে তিনি জানা।


কারখানা নিয়ে শ্রম আচরেণ নিয়ে শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করেন সেগুলো সত্য বলে জানিয়েছেন আকিজ টেক্সটাইল মিলস লি: শ্রমিক ও কর্মচারি ইউনিয়ন (প্রস্তাবিত) এর সভাপতি রুবেল। তিনি শ্রমিক আওয়াজকে বলেন, শ্রমিকদের নির্যাতনের প্রতীবাদ ও কারখানায় ইউনিয়ন গঠন করার কারণে তার চাকুরি হারাতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।






Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution