sa.gif

 রানা প্লাজা ধসের পর  উৎপাদন ব্যবস্থা আরও দমনমূলক হয়েছে
- মোশরেফা মিশু


রানা প্লাসা ধসের পর শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সামনে চলে আসে। এতদিন তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের সীমাহীন অবহেলা করা হয়েছে, শোষণ করা হয়েছে রানা প্লাজা ধসের পর বিষয়টি ফুটে উঠে। এরপর বিভিন্ন মহল থেকে শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পাঁচ বছরে তার অধিকাংশই পূরণ করা হয়নি। বরং এক ধরণের শৈরাতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে।


শ্রমিকদের নিরাপত্তা মানে শুধু ভবনের নিরাপত্তা নয়; ভবনের ফাটল ভাঙ্গা চোরা মেরামত নয়। তারপর এ কাজগুলো হয়েছে, ভাল। কিন্তু কারখানার ভেতরে যদি শ্রমিককে পিটিয়ে মেরে ফেলে হয়, এগুলোও শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তাহীনতা? যেখানে জীবনের নিরাপত্তা নেই, কাজের নিরাপত্তা নেই। ভবনের মেরামত করা বা নির্মাণ করে ভবন শক্তিশালী করা হলেও শুধু এগুলো মধ্যে দিয়ে শ্রমিকদেরও নিরাপদ কর্মপরিবেশ বলবো না; নিরাপদ কর্মপরিবেশ বলতে একটি স্বাস্থ্যকর মানবিক কর্মপরিবেশকে বুঝিয়ে থাকি। সেই অর্থে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে।


শ্রমিকরা যদি ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয় তাহলে তাদের ছাটাই করা হয়, মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ঢোকানো হয়। আর মজুরি বৃদ্ধির দাবি করলে তাদের রাষ্ট্র বিরোধী মামলা করা হয়। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে শ্রমিকদের মামলা দিয়ে জেলে ঢোকানো হলো। এটা কোন নিরাপদ কর্মপরিবেশ নয়। এটা একটি সৈরাতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা চলছে। সৈরাতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখে সেই শিল্প কারখানাতে কখনো নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলা যাবে না। 

একেবারে নিদেন পক্ষে যদি কারখানার ভবন শক্তিশালী করণের কথা চিন্তা করেন, সেটাও অর্জিত হয়নি। টঙ্গীর টাম্পাকো বা গাজীপুরের মাল্টি ফ্যাবের অগ্নিকান্ডে শ্রমিক মারা গেলো। রানা প্লাজা ধসের পর যদি নিরাপদ কর্মপরিবেশই সৃষ্টি করা হলো তাহলে এ দুটি কারখানায় কেন শ্রমিক নিহত হলো? বয়লার বিস্ফোরণের ফলে এ অগ্নিকান্ড ঘটলো। এ কারখানাগুলোতে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তারা যদি ভবন ও অগ্নি নির্বাপন নিরাপদই করে থাকে তাহলে কেন এমন ঘটনা ঘটলো? কারখানার কর্মপরিবেশ যদি নিরাপদই থাকে তাহলে দাহ্য পদার্থ আর আগুন লাগতে পারে এমন বস্তু এক সাথে রাখা হলো, অথচ বুঝলো না? কারখানাগুলোতে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা আছে তো এগুলো পরিচালনা করার লোক নেই, প্রশিক্ষন নেই। আবার কোনটা হয়তো মেয়াদ পার হয়ে গেছে। সব কিছু মিলে আমরা বলি, তৈরি পোশাক কারখানায় এখনো নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি হয়নি।


এ্যাকোর্ড বা এলায়েন্স যেটা করেছে তা শ্রমিকদের কর্মপরিবেশের চিন্তা থেকে করেনি। তাদের পুঁজির নিরাপত্তার জন্য যা করার প্রয়োজন তা করেছে। রানা প্লাজার ধসের পর যখন তাদের বিরুদ্ধে ভোক্তারা প্রতিবাদ শুরু করলো তখন তারা অন্য দেশের চলে যাওয়ার পরিবর্তে এখানে কিছু খরচ করার করা চিন্তা করেছে। কারণ এখানে যত সস্তা দামে কাজ করানো সম্ভব হবে তা আর কোন দেশে করানো সম্ভব হবে না। ভিয়েতনাম বলেন, কম্বোডিয়া বলেন বা মিয়ানমারের কথা চিন্তা করেন তাহলে দেখবেন যে বাংলাদেশে সব চেয়ে কম মজুরি। এ অবস্থায় তারা বাংলাদেশে কাজ করানো সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বাংলাদেশের ভবনের নিরাপদ করা কথা চিন্তা করেছে। 

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে ট্রেড ইউনিয়ন না করতে দেওয়া নিয়ে বিদেশি ক্রেতাদের ভোক্তাদের অসন্তোষ্টি আছে। তারমানে তোমরা সেখানে পণ্যের সঠিক দাম দাও না-তারা সেখানেও প্রতিরোধের শিকার হলো। তারপর ক্রেতারা একোর্ড ও এলায়েন্স করলো। এরফলে কিছু কাজ হলেও তা শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশের নামে কিছু কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। এই বন্ধ করে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে হাজার হাজার শ্রমিককে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। কারখানা বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিককে বেকার করে দেওয়া তো কোন সমাধান নয়। তাদের পুনবার্সন করা হয়নি। 

ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও বলা হচ্ছে আগের চেয়ে নিবন্ধন দেওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। কত বেড়েছে, সরকারের হিসাবেই সেটা ৫ শতাংশ। কোন শিল্পে ৫ শতাংশ ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন দেওয়া কোন অগ্রগিতর চিত্র নয়। আগে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কোন কারখানার ৩০ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতির প্রয়োজন ছিল, এখন ৪০ শতাংশ। রানা প্লাজা ধসের পর বলা হয়েছিল ট্রেড ইউনিয়ন সহজ করা হবে, এটা কি সেই সহজ করার নমুনা? শ্রমিক সংখ্যা ৫,০০০ এর বেশি হলে ২৫ শতাংশ। আর কম হলে ২০ শতাংশ। এটা সহজ হলো? ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে এই যে শ্রমিক সংখ্যার ‘বার’ দিয়ে এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হলো।


সভা,সমিতি,ট্রেড ইউনিয়ন করা শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার। এটা না করতে দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি পরিপন্থি। এটা অগণতান্ত্রিক এবং সংবিধান পরিপন্থি। অবাধ ট্রেড ইউনিয়নের নির্দেশনা হলো শ্রমিকরা নিজেরা নেতা নির্বাচন করবে, ট্রেড ইউনিয়ন করবে। তাদের কথা বলার ফোরাম তৈরি করবে। এটা সারা পৃথিবীতে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। রানা প্লাজা ধসের পর এত কথা বলো হলো-কিন্তু আমরা বাস্তবে তা দেখতে পাইনি। 
* লেখক পরিচিতি: সভাপতি, গার্মেন্ট শ্রমিক শ্রমিক ঐক্য ফোরাম।






Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution