sa.gif

রানাপ্লাজা ধসে শ্রমিকের নিরাপত্তার কথা উঠলেও পাঁচ বছরে কার্যত নির্যাতন বেড়েছে -কাজী রুহুল আমিন


রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বিদেশি ক্রেতারা ভোক্তাদের চাপে পড়ে। এ চাপ আমাদের দেশের শিল্পের উপরও এসে পড়ে। সেই ভোক্তাদের চাপে বিদেশি ক্রেতারা একোর্ড-এলায়েন্স গঠন করে। এরপর শ্রমিকরা যেখানে কাজ করেন সেখানকার ভবনের নিরাপত্তা, অগ্নি নির্বাপন নিরাপত্তা এবং বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার ব্যাপারে কিছু কাজ হয়েছে। কিন্তু তা যথেষ্ট না। তার প্রমান হলো গাজীপুরের ট্রাম্পাকো ফয়েল কারখানা, মাল্টিফ্যাব গার্মেন্টস কারখানা ইত্যাদি। এখনো সকল কারখানায় নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। নিরাপত্তা বলতে গেলে শুধু একটি ভবনের নিরাপত্তা নিলেই হবে না। নিরাপত্তা বলতে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কাজের পরিবেশ-এই সব বিষয়গুলিকে বিবেচনায় নেওয়া দরকার। দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে এখনো সেটা হয়নি।
আমরা দেখি সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি নেই। আগের চেয়ে যৌন হয়রানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যৌন নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে। কালখানায় শ্রমিকদের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয় সেই শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কারখানায় একটি অমানবিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতে কম মজুরির ফলে মানসিক ও শারীরিকভাবে শ্রমিকরা দুর্বল থাকেন। অন্যদিকে বার বার আইনের সংশোধনির মাধ্যমে শ্রম আইনে ও শ্রম বিধিতে এমন কিছু ধারা সংযোজন করা হয়েছে, যাতে নির্যাতন করা যেন একটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। এই আইন ও বিধিকে ব্যবহার করে তারা শ্রমিকদের নির্যাতন করে যাচ্ছে।
বর্তমান আইনে ১০টি আচরনকে অসাদারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো মালিকের ইচ্ছামত করা হয়েছে। তারা শ্রমিকদের দমানোর জন্য এটা করেছে। যেমন কোন শ্রমিক তার উর্দ্ধতন কর্মকর্তার অবাধ্য তাকে অসাধারচনের দায়ে অভিযুক্ত হবেন। এখানে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কথা না শোনা বা অবাধ্য হওয়াকে কি বোঝানো হয়েছে? আইনের এ ধারার বলে উর্দ্ধতন কর্মকর্তরা শুধু কাজের ব্যাপারে নয়, শ্রমিকের ব্যক্তিগত পর্যায়েও হস্তক্ষেপ করে; হয়রানি করে। নোটিশ দেয় শ্রমিক উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কথা শোনেনা, অবাধ্য হয় ইত্যাদি ইত্যাদি বলে চাকরিচ্যুত করে।
আইনে এমন বিধান রাখা হয়েছে-চিঠি দিয়ে বলে দিলেই হলো তার আর চাকরি নেই। কোন সুযোগ-সুবিধা পায় না। কোন শ্রমিক ১০,১৫ বা ২০ বছর চাকরি করার পরও কোন উর্র্দ্ধতন কর্মকর্তা একটি চিঠি দিলেই সব কিছু থেকে অধিকার হারান। মালিক একটি চিঠি তার জীবনের সব অর্জন মেরে দিচ্ছে। এই আতঙ্ক শ্রমিকদের মধ্যে বিরাজ করছে। এ্ আইনের ফলে ও কোন কারণ ছাড়াই শ্রমিককে ছাটাই করছে মালিকরা। এখানে রানা প্লাজা ধসের পর শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে শ্রমিককে আইনি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
রানাপ্লাজা ধসের পর যে শোভন কাজের কথা বলা হয়েছিল তার চেয়ে বেশি নিরাত্তাহীনতার জালে আটকে ফেলেছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মাঝে একটি সহানুভুতি ছিল তা থেকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি হলো গার্মেন্টস কারখানা নয় যেন কারাগার, এই কারাগার ভাঙ্গতে হবে। এই কারখানা সেই কারাগার এখনো রয়ে গেছে। রানা প্লাজা ধসের পর নানা কথা বলা হলেও সেই কারাগারের পরিবর্তন হয়নি।
এই আজও সকালে একটি কারখানা থেকে একটি ফোন এলো কাজ করার সময় একজন শ্রমিকের হাতে সুচ ঢুকে গেছে। যন্ত্রনায় ছটপট করছে। মালিক তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি, কোন টাকা দেয়নি। এমনি ছুটিও দেয়নি। বলেছে, এখন যাও পওে বিবেচনা করে দেখবো, সাতদিন পরে এসো। এটি একটি ছোট্ট ঘটনাও হলেও এটা হলো তৈরি পোশাক কারখানা এখনকার অবস্থা। এ থেকে বোঝা যায় বাস্তব অবস্থাটা কি।
ট্রেড ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে আগের চেয়ে খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে। আগে ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম স্বাধীনভাবে চালানো যেতো না। কিন্তু আইন করে আষ্টে-পৃষ্টে আগের মত বেধে ফেলা ব্যবস্থাও ছিল না। যেমন, আইনের একটি ধারাতে আছে, স্থায়ী শ্রমিক ছাড়া ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হতে পারবে না। অন্যদিকে আউট সোর্সিং বা ঠিকাদারের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এবং শ্রমিকদের স্থায়ী করা হচ্ছে না। আবার আরেক জায়গায় বলা হচ্ছে স্থায়ী শ্রমিক ছাড়া ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হতে পারবে না।
ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে আরও অনেক শর্ত জুড়ে দিয়ে ট্রেড ইউনিয়নকে কঠিন করে তোলা হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়ন না করতে দেওয়ার এ ধরনের কালাকানুন করে আমাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুন্ন করেছে। একই সাথে জাতীয় শ্রমনীতি ও আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ফ্রীডম অব এসোশিয়েনের কোন কার্যকারিতা নেই।
এখানে দুর্নীতি আর একটি সমস্যা তৈরি করেছে। দুর্নীতি করে মালিকপক্ষের পকেটের কিছু ট্রেড ইউনিয়ন করে বাইরের দুনিয়ার কাছে বোঝানোর চেষ্টা করছে এখানে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত চিত্র হলো এ সব নামসর্বস্ব ট্রেড ইউনিয়ন। এখানে কোন ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম করার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এই সব ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের সময় নিজস্ব লোক দিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছে। অথবা নিবন্ধনের পর পরই নেতৃবৃন্দকে কারখানা থেকে বের দেওয়া হয়েছে। এ সব ট্রেড ইউনিয়নের কোন কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হয় না। আমরা কোন রেজিষ্ট্রেশন করতে গেলেই, সংগঠন করতে গেলেই সেইখানেই শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করা, হয়রানি করা হয়, মামলা দেওয়া হয় এবং জেলে ঢোকানা হয়। সব মিলে এই গার্মেন্টস শিল্পের মালিকরা মালিকানা চরিত্র অর্জন করেনি। তারা যেমন রানা প্লাজা, তাজরীন ফ্যাশন, স্পেকটার্মসহ বিভিন্ন কালকানায় শ্রমিকদের লাশের উপর দাঁড়িয়ে লুটপাট করছে। সরকারও তাদের এটা করার সুযোগ দেয়। কারণ এ সব শ্রমিকদের জন্য সহায়তা হিসাবে যা আসে তা শ্রমিকদের কাছে পৌছেনা, লুটপাট হয়ে যায়।






Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution