sa.gif

পোশাক শিল্পের অগ্রগতি ধরে রাখতে দরকার সম্মিলিত প্রচেষ্টা


পোশাক শিল্পের অগ্রগতি ধরে রাখতে দরকার সম্মিলিত প্রচেষ্টা
-আব্দুল্লাহ হিল রাকিব

তাজরীন ও রানা প্লাজা ধসের পর উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে আমরা শঙ্কিতÍ হয়ে পড়েছিলাম। ভেবেছিলাম যে অবস্থায় পড়লাম এর থেকে উত্তৃর্ণ হতে পারবো কিনা? কিন্তু কাজ শুরু করার পর আমরা বুঝতে পারছি ক্রেতাদের মনমত কাজ করতে পারছি। এ্যাকোর্ড-এলায়েন্স কাজ শুরু করার সময় মনে করেছিলাম অনেক কারখানা হয়তো অনফিট হয়ে যাবে। বাস্তবে এটা হয়নি। গোটা কয়েক কারখানা পাওয়া গেছে যেগুলো আনফিক হয়েছে। কিছু কারখানাকে সংস্কারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পরামর্শ অনুযায়ী আমরা কাজ করেছি। এখনো করছি। এতে আমাদের ইমেজ বেড়েছে। এ্যাকোর্ড-এলায়েন্স যখন ক্রেতাদের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছে আমাদের সরকার বা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করেছে। এতে আমাদের ইমেজ বেড়েছে।  

এ্যাকোর্ড-এলায়েন্সকে আমাদের ফান্ড দিচ্ছে। এর ফলে যে আশক্সখা করেছিলাম, সে আশক্সখা আর নেই। আইএফসি জায়কা সহযোগিতা দিয়ে এগিয়ে এসেছে। এটা চলতে থাকলে দুইদন বছরের মধ্যে সকল সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে।

এরপর আমাদের সমস্যা আসতে পারে পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়টি। অনেক কারখানাতেই বিষয়গুলো নিরাপত্তার বিষয়টি কভার করেনা। সার্বিক নিরাপত্তা কথা চিন্তা করার দরকার। কিন্তু সক্ষমতার কথা চিন্তা করলে সমস্যা আছে।  সকল কারখানায় সেটা পারবে না। ক্রেতারা পোশাকের যে দাম দেয় সে অর্থ দিয়ে এটা চালিয়ে নেয়া সমস্যা হচ্ছে।  এ অবস্থায়  বিনিয়োগ করে তুলে নেযা কষ্ট সাধ্য হবে। সেফটি এলায়েন্স করতে গেলে ক্রেতাদের এগিয়ে আসতে হবে।  এক্ষেত্রে এসোসিয়েশন বা সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষত্রে যেহেতু বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান হয়েছে। যদি এসব কারণে কর্মসংস্থান ব্যহত হয়. এটা সরকারের উপরেই বর্তাবে।

অর্থনীতিবিদদের উচিত হবে আরো এগিয়ে আসা। যারা পোশাক শিল্প নিয়ে চিন্তা করে তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। দেশের পোশাক শিল্পকে শক্ত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করতেই এটা দরকার। সরকার এটা কিভাবে এগিয়ে নিবে কিভাবে  করবে, এটা সরকারের ব্যাপার।  সরকারের নীতি নির্ধারক বসে সিদ্ধান্ত নেবে এটা আমরা প্রত্যাশা করি।  যেভাবে করার দরকার সেটা করুক।

ফায়ার ফাইটিং একুইপমেন্টগুলোকে ডিউটি ফ্রি করে দেয়া দরকার। বিশেষ করে এ্যাকোর্ড-এলায়েন্স যেসব কারখানার অংশিক সংস্কার প্রস্তাব করে, সে সব কারখানার সহযোগিতা দরকার। যেমন ধরুন, কোন কারখানা যদি নিরাপদ না হয় সেখানে শ্রমিককরা কাজ করতে পারবে না। কাস্টমাররা তো বলেই দিয়েছে কাজ দেবে না। শেয়ার বিল্ডিং  বা ছয়তলার উপরে ফায়ার সার্ভিস বা অন্য নিরাপত্তা নেই। যে সব কারখানা নিরাপদ না সে সব কারখানায় শ্রমিকরা কাজ করতে যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে ভাল কাস্টমাররাও বেরিয়ে যাচ্ছে।  এ্যাকোর্ড-এলায়েন্স যদি সার্টিফাইড না করে থাকে তাহলে তারা কাজ দেবে না। নতুন করণীয় আসছে এগুলো পোশাক শিল্পে সংযোজন করতে হবে। এগুলো যদি সমাধান না হয়  তাহলে আমরা আমাদের ব্যবসা সংকুচিত করবো। ব্যবসাটা হয়তো অন্য দেশে চলে যাবে।

রাজনৈতিক সমস্যা আমাদের অন্যতম সমস্যা। কোন ক্রেতা যখন কার্যাদেশ  দেয় তখন তারা ঝুকি ব্যবস্থাপনা বিষয়গুলো বিচেনা করে। তারা এখন বলছে আমি কার্যাদেশ দিচ্ছি, আমাদের দেশে ফাইনান্সিং কোম্পানি যারা ইন্সুরেন্স করে সেই ইন্সুরেন্স সার্পোট করছে না। তারা ঝুকি ফ্যাক্টর  বেশি মনে করছে, এ জন্য  ফাইনান্স করতে চাচ্ছেনা। এখন বিষয়টি কত সুক্ষ পর্যায়ে  চলে গেছে। কিন্তু এই ক্রেতাদের  ফাইনান্সিং কোম্পানি বা এলসি খুলবে তখন তারা যে ইন্সুরেন্স খুলবে, তখন তারা ইন্সুরেন্স দিবে না।
এখন প্রতিমুুহুর্তে খবর চলে যাচ্ছে ক্রেতাদের কাছে। তারা বলছে দেশের ১০০দিনের হরতাল হয়েছে, ভাংচুর হয়েছে, অগ্নি সংযোগ হয়েছে, অস্থিরতা হয়েছে। এটা কোন ইতিবাচ খবর নয়। এতে ক্রেতারা এগুচ্ছেনা।  এই অস্থিরতা যদি থাকে তাহলে তারা কমমূল্যেও তারা পোশাক নিবে না। গত রাজনৈতিক সহিংসতায় তারা তা প্রমান করেছে।  তারা কম দামের পোশাকের চেয় জীবন, বিনিয়োগের নিরাপত্তার কা চিন্তা-ভানা করছে।

তবে আমরা একেবার নিরাস নই। দেশের যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকে, অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়, রানা প্লাজা দুর্ঘটনা ও তাজরীন অগ্নিকান্ডের পর যে নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছিল  তা যদি না আসে তাহলে অবশ্যই আমরা ক্রেতা পাবো।
রানা প্লাজা তাজরীন আগ্নিকান্ডের পর কতটুকু ব্যবসা আমরা হারালাম তা যদি চিন্তা করি-এটা খুবই সিগনিফিকেন্ট। আমাদের এখন গুরুত্বপুর্ণ সময় চীন তাদের কাজ কমিয়ে দিচ্ছে, সেটা আমাদের ধরতে হবে। আমরা যদি চীনের ছেড়ে দেয়া কাজ না ধরতে পারি তাহলে আমাদের বড় ধরনের সম্ভাবনা হাত ছাড়া হবে। গত বছর পাকিস্তান জিএসপি সুবিধা পাওয়ার পর কারণে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করেছে।

আমরা যদি ইমেজ উদ্ধার করে সক্ষমতা নিয়ে ঘুরে দাড়াতে না পারি তাহলে সামনে যে সম্ভাবনা হাত ছানি দিচ্ছে, আমরা হয়তো তা কাজে লাগাতে পারবো না। তা নিয়ে যাবে পাকিস্তান, ভিয়েত নাম বা সাব সাহারান দেশগুলো।






Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution