sa.gif

প্রস্তাবিত বাজেট
মালিক-ব্যবসায়ীদের জন্য পুরুষ্কার আর শ্রমিকের জন্য হাহাকার
--সৌমিত্র কুমার



বাংলাদেশে বাজেট মানেই শ্রমিক- সাধারণ মানুষের কাছে এক মূর্তিমান আতংকের নাম। যদিও বাজেট ঘোষণা করা হয় জুন মাসে কিন্তু সাধারণ জনতা তা উপলব্ধি করতে শুরু করে আরও ১/২ মাস আগে থেকেই। কারণা বাজারে গেলেই দোকানীদের ভবিষ্যতবানী শোনা যায় কোন কোন জিনিষের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে তার তালিকা, কিন্তু কখনও ভুল করেও এই দেশের সাধারণ মানুষ শোনতে পায়নি যে বাজেটে কোন জিনিষের দাম কমানো হয়েছে। শ্রমজীবি মানুষের কাছে বাজেট তাই সংগত কারনেই এক অজানা আশংকার নাম।
পক্ষান্তরে মালিক  শ্রেনী ও ব্যবসায়ীদের কাছে বাজেট মানেই আরও বেশি মুনাফা তৈরির সরকারি লাইসেন্স প্রাপ্তি। বাজেট আসার আগেই তারা স্টক করা শুরু করে,ক্ষেত্রবিশেষে এখন সরকারি ঘোষণার আগেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো শুরু করে দেয়।
এবারের ৩,৪০,৬০৫কোটি টাকার এই বিশাল বাজেট ঘোষণার মালিকদের জন্য কি কি পুরুষ্কার রয়েছে তার একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা করা যায়:
১) এখন যেকোন পণ্যের বা সেবার মূল্য নির্ধারন করবেন ব্যবসায়ীরা। সরকারের অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন নেই,ব্যবসায়ীরা যা নির্ধারন করবেন তাই চূড়ান্ত ;
২) কালো টাকার ১০% জরিমানা দিলেই আড়তদারি-মজুতদারি-কালোবাজারি-ঋনখেলাপি করফাকি ইত্যাদি করে যা অবৈধ আয় তা বৈধ হয়ে যাবে। যার ফলে বড় ব্যবসায়ী-পুঁজিপতি মালিকদের দূর্নীতি লুটপাট অব্যাহত রাখার অফুরন্ত সুযোগ করে দেয়া হল
৩) গার্মেন্টস মালিকদের কর্পোরেট কর ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০শতাংশ করা হল। যার ফলে মালিকদের আরও বেশি করে মুনাফার সুযোগ এবং তা বিদেশে পাচারের সুযোগ দেয়া হল।
৪) বাজেটে যে সমস্ত জিনিষের মুল্য কমানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে তা বেশির ভাগই সাধারন শ্রমজীবি মানুষের ক্রয় তালিকায় নেই। এসব পণ্যের সাথে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কোন সম্পর্ক নেই, আবার এগুলোর মুল্য কমানোর সুফল পরোক্ষভাবেও মানুষের পকেটে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ মালিক ব্যবসায়ীরাই পণ্যের মুল্য নির্ধারন করবেন তাদের খুশিমতো।
তাছাড়া ঘোষণার বাইরেও নানানরকম প্রনোদনার ব্যবস্থাতো আছেই।

পক্ষান্তরে শ্রমজীবি সাধারন মানুষের জন্য এই বাজেটে কি ঘোষণা আছে তার তালিকা যদি দেখা যায়:
১)বাজেটে ঘোষিত আয় ২,৪৮,২৬৮ কোটি টাকার ৭১.৩ শতাংশই আসবে নানারকম মুল্যসংযোজন কর আরোপের মাধ্যমে এই সাধারণ জনগনের পকেট থেকে। কারণ বাংলাদেশের বড়লোকদের ব্যাংকঋণ, বিদ্যুত,পানির বিল,আয়কর ইত্যাদি অনেক কিছুই ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ আছে কিন্তু শ্রমজীবি সাধারণ মানুষের কোন করই ফাঁকি দেয়ার সুযোগ নেই,আর মানুষ তা করতেও চায় না।
২)রুটি,বিস্কিট, জুতা,সেন্ডেল,মোবাইল এর কলরেট এর মতো অধিকাংশ সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য পণ্যের  নামই মুল্যবৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে।
৩) পণ্যের বা সেবার মূল্য ব্যবসায়ীদের নির্ধারণের সুযোগ দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এই বাজেট পাশের পরে পরিবহন, চিকিৎসা, শিক্ষা,আমদানিকৃত পণ্য ইত্যাদি যা কিছু বেসরকারি খাতে রয়েছে তার মুল্যবৃদ্ধি ঘটবে
৪) বাৎসরিক ২.৫লক্ষ টাকার উপরে আয় হলেই তাকে কমপক্ষে ৩ থেকে ৫হাজার টাকা কর দিতে হবে। যার ফলে অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারও এই করের আওতায় চলে আসবে।
৫) মাথাপিছু কর দিতে হবে ১৫হাজার১৭২টাকা যা গত বছরের তুলনায় ৪হাজার টাকা বেশি। কিন্তু এই অতিরিক্ত কর দিয়ে জনগণ সরকারের কাছ থেকে কি পাবে তার কোন ঘোষণঅ এই বাজেটে আছে কি?
যে গার্মেন্ট শ্রমিক দেশের ৮০ ভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মুল চালিকাশক্তি সেই শ্রমিকদের জন্য   বাসস্থান ,শিক্ষা, চিকিৎসা, রেশনিং ইত্যাদির জন্য বাজেটে কোন ঘোষণঅ  নেই।আছে গার্মেন্টস মালিকদের জন্য করছাড়ের ঘোষণা ! অর্থমন্ত্রী বেসরকারি সেক্টরে পেনশন চালুর কথা বলেছেন কিন্তু গার্মেন্টস সহ বিভিন্ন সেক্টরে আজও পর্যন্ত শ্রমআইনে ঘোষিত গ্র্যাচুইটি র বিধানই চালু হয় নি? ইপিজেডে থাকলেও বাইরের কারখানাগুলোতে এখনো প্রভিড্যান্ট ফান্ড চালু হয় নাই। তাহলে এই ঘোষণা আসলে কি বেসরকারি সেক্টরে পেনসন চালু,নাকি অংশিদারিত্বের নামে সরকারি শ্রমিক-কর্মচারিদেরকেও তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত  করার কৌশল তাতে প্রশ্ন দেখা দেয়।মোটের উপর এই বাজেট ঘোষণঅকে  তেলা মাথায় আরও তেল দেওয়ার ঘোষনা বলেই প্রতিয়মান হচ্ছে।তবে যদি সত্যিকারেই দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হয় তাহলে শ্রমজীবি তথা শ্রমিকের শিক্ষা-চিকিৎসা-বাসস্থান তথা আর্থসামাজিক উন্নয়নকল্পে বিশেষ বরাদ্দের কোন বিকল্প নেই।
বাজেট ঘোষনার পরই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষের দাম আবার বৃদ্ধি পাবে, তার উছিলায় বাড়ির মালিকরা আবারও বাড়িভাড়া বাড়িয়ে দিবে। তখন শ্রমিকরা তাদের আগের মজুরি দিয়ে সংসার চালাবে কিভাবে?
বেতন বৃদ্ধির আগে তাই মহার্ঘভাতা চালু, রেশনিং,সরকারি ডরমেটরি নির্মান এবং শিল্পাঞ্জলে সরকারি হাসপাতাল,স্কুল,কলেজ ইত্যাদি নির্মানের দাবি করেছিল শ্রমিকরা। তাই বাজেট এই ব্যাপারে স্পষ্ট ঘোষণা  থাকলে শ্রমিকদের নিকট তা শ্রমিকবান্ধব বলে বিবেচিত হতো। কিন্তু আশ্চর্যজনক সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিকের ভোটে নির্বাচিত সরকারগুলো কেবল মালিকদের স্বার্থই সংরক্ষন করে চলেছে। তাই শ্রমিকদের আজ সচেতনভাবে ঐক্যবদ্ধ দাবির আন্দোলনে শরিক হওয়া সময়ের কর্তব্য।
সৌমিত্র কুমার দাশ ,সাংগঠনিক সম্পাদক,কেন্দ্রিয় কমিটি,গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট।






Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution