sa.gif

বাজেটে দিকনির্দেশনার অভাবে শ্রম শক্তির উন্নয়ন হচ্ছে না
-জাফর আহমদ


শ্রমশক্তির উন্নয়নে শ্রমিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা ও সহায়ক নীতি গ্রহণে বাজেটে দিক নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।  মোট জনশক্তির বড় অংশ কর্মক্ষম হলেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, কৌশলপত্র গ্রহণ ও সহায়ক নীতির অভাবে বিপুল জনশক্তিকে সঠিক কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

তথ্য পরিসংখ্যন বু্যরোর অনুযায়ী দেশের মোট জনশক্তিতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ৬০ লাখ। যাদের বয়স ১৫ বছরের উপরে। যদিও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয় ৫ কোটি ৮১ লাখ। এর মধ্যে ১ কোটি ৬৮ লাখ সক্রিয় নারী জনশক্তি। এই জনশক্তির মধ্যে প্রতিষ্ঠানিক খাতের জনশক্তির সংখ্যা ৭৬ লাখ ২১ হাজার এবং অপ্রতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকের সংখ্যা শতকরা ৫ কোটি ৪ লাখ ৫২ হাজার। যা মোট কর্মশক্তির ৮৬ দশমিক ৯ শতাংশ। শ্রম শক্তিতে নারী পুরুষের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানিকখাতে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ ও ৯ দশমিক ৭ শতাংশ নারী। অপ্রাতিষ্ঠানিকখাতে নারী শ্রমশক্তি বেশি। অর্থাৎ ৯০ দশমিক ৩ শতাংশ নারী। অন্যদিকে পুরুষ জনশক্তির হার ৮৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

দেশের মোট শ্রমশক্তি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রাতিষ্ঠানিক জনশক্তির মধ্যে বেশিরভাগ রয়েছে পাটকল, টেক্সটালস, গার্মেন্টস, চিনি, কাগজ, ট্যানারি, পরিবহন ও চা শিল্পখাতে। অপ্রতিষ্ঠানিক খাতের গৃহকর্ম ও কৃষিখাতে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কর্মরত আছে। কিন্তু এ সব শ্রমিকদের  স্বীকৃতি নেই। এরপর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বেশি অবদান রাখছে তৈরি পোশাক ও প্রবাসী শ্রমিকরা। প্রবাসে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মরত থাকলেও এসব শ্রমিকদের স্বীকৃতি ও মর্যাদা নেই। প্রবাসী শ্রমিককের বড় অংশটি যাচ্ছে নিজ উদোগে কোনও প্রকার প্রশিক্ষণ ছাড়াই। ফলে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক বিদেশে কর্মরত থাকলেও এসব শ্রমিকের দক্ষতার অভাবে রেমিটেন্স আসছে তুলনামূলক কম।

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট তত্ত্ অনুযায়ী, দেশের বিপুল সংখ্যক জনশক্তি তরুন। কিন্তু এসব জনশক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়নি। হায়কনীতিও গ্রহণ করা হয়নি। জনশক্তি থাকলেও প্রশিক্ষণ কিংবা দক্ষতা বৃদ্ধির কোনও উদ্যোগ নেই। ফলে উৎপাদশীলতাও সন্তোষজনক নয়।

গত কয়েক বছরের বাজেটে শ্রম মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চিত্রে দেখা যায়- ২০১১-১২ অর্থবছরে ছিল ৯৬ কোটি টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৮১ কোটি টাকা, ২০১৩-১৪ অর্র্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১১৪ কোটি টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল- ১৫৫ কোটি টাকা এবং চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২১৪ কোটি টাকা। বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে বাড়লেও দেশের শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট নয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন- নতুন কর্মখাত তৈরি, মজুরি কমিশন ও ন্যূনতম মজুরি বোর্ডকে শক্তিশালীকরণ, নারী-পুরুষের সমতা অনায়ন, পেশাগত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, শ্রমিকদের আবাসন, রেশনিংয়ের মাধ্যমে জীবনমান নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষতা বৃদ্ধি খাতভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও দিক নির্দেশনা দিতে হবে।

জাফর আহমধ, সম্পাদক, শ্রমিক আওয়াজ






Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution