sa.gif

মালিকদের শোষণমূলক মানসিকতা পোশাক শিল্পকে ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছ


তোবা আন্দোলনের সার্থকতা
কোন দাবি শ্রমিকদের পক্ষে, কোনটি বিপক্ষে তা চিহ্নিত করা


তোবা গ্রæপের চলমান শ্রমিক আন্দোলনের শক্তির দিক হল, শ্রমিকরা নিজেদের পক্ষের দাবি এবং বিপক্ষের দাবির মধ্যে পার্থক্য ধরতে পেরেছেন। আন্দোলনের শুরুতে তারা ‘মজুরি দাও, না হলে মালিককে মুক্তি দাও’ এই দাবিতে রাস্তায় নামলেও দ্রুতই তারা বুঝেছেন খুনি মালিক দেলোয়ারের মুক্তির দাবিটা তাদের পক্ষে না। দালাল শ্রমিক নেতারা তাদের বুঝিয়েছিল মালিককে জেল থেকে মুক্ত করলেই তাদের সমস্যার সমাধান হবে। শ্রমিকদের এই সকল পকেট শ্রমিক নেতাদের চিনতে বেশি সময় লাগে নাই। ফলে শ্রমিকরাই দালালদের আন্দোলন থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।


তাজরিন গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১১২ শ্রমিকের হত্যার জন্য দায়ি দেলোয়ার হোসেনের সর্বোচ্চ শাস্তির ৫ দফা দাবিতে তোবার আন্দোলন অগ্রসর হয়। এক পর্যায়ে সরকার ও বিজিএমইএ দালাল নেতৃবৃন্দের সাথে আবারও একটি বৈঠক করে। পরবর্তীতে খুনি দেলোয়ারের জামিন দিয়ে আরো বাইরে আনা হয়। আমাদের সকলের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে দেলোয়ারকে জেল থেকে বের করার জন্য এক ধরনের ষড়যন্ত্র মূলকভাবে তোবার পাঁচটি কারখানা শ্রমিকের মজুরি দেওয়ার মতো সামর্থ সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকা সত্তে¡ও তাদের সময় মতো মজুরি পরিশোধ করা হয়নি। ফলে খুনি দেলোয়ারকে তাজরীনের হত্যাকাণ্ডের এক বছর তিন মাস পর গ্রেফতার করে পাঁচ মাসের মাথায় তারও জামিন দেওয়া হয়। সেখানে হত্যার কারণ ছাড়াও শ্রম আইনে ১২৩ ধারা অনুযায়ী মজুরি পরিশোধ না করার জন্য তার শাস্তি হওয়া উচিত; সেখানে তাকে জামিন দিয়ে পুরস্কৃত করা হোল। উল্টো গ্রেফতার করা হলো শ্রমিক নেতৃবৃন্দের।


সরকার ও মালিকদের কাছে ১৬০০ শ্রমিকের বাঁচা-মরার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে খুনি দেলোয়ারের যত বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। আন্দোলনের চাপে শ্রমিকদের ৩ মাসের মজুরি ও অভার টাইমের টাকা দিতে বাধ্য হয়। যদিও তারা শান্তিপূর্ণ অনশন কর্মসূচিতে ৩ তলায় ৬ আগস্ট টিয়ারসেল ও পিপার স্প্রে দিয়ে অনশনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে।


এই আন্দোলনের স্বার্থকতার দিক হচ্ছে শ্রমিক, বিবেকমান সচেতন মানুষ ব্যাপক সমার্থন জানিয়ে তোবার শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। অনশনের পাশাপাশি শিল্প কারখানাগুলোতে নানান কর্মসূচি পালিত হয়। কিন্তু বর্তমানে এসে শ্রমিকদের সাথে কোন ধরনের আলোচনা না করেই অবৈধ ভাবে তোবা গ্রæপের ৫টি কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়। শ্রমিকদের আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত করার আরেকটা বড় ধরনের চালাকি। তাই আমাদের দাবি অবিলম্বে কারখানা খুলে দেওয়া হোক। অথবা শ্রমিকদের আইনগত পাওনা পরিশোধ করে গার্মেন্ট শিল্পে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা হোক।
যুগ্ন সাধারন সম্পাদক,গার্মেন্ট শশ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র






Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution