sa.gif

বঙ্গবন্ধু সকল বিতর্কের উর্ধ্বে :
ডিআরইউ এর আলোচনায় নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 22:29 :: Friday August 28, 2020 Views : 75 Times

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সকল বিতর্কের উর্ধ্বে রাখতে হবে। ইতিহাসকে বাদ দিয়ে পথচলা যায়না।

২৮ আগস্ট শুক্রবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু ও গণমাধ্যম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধুকে সকল বিতর্কের উর্ধ্বে রাখার আহবান জানিয়ে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোন বিতর্ক করার প্রয়োজন নেই। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তখনই বিতর্ক হয়, যখন বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের লালন-পালন করা হয়। বিতর্ক তখনই হয়, যখন এই খুনীদের পুনর্বাসন করা হয়, যখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। এই বিতর্ক থেকে যতদিন আমরা বেরিয়ে আসতে পারব না; ততদিনই আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন, ৩০ লাখ শহীদদের যে স্বপ্ন , সেই স্বপ্ন এখানে বাস্তবায়ন হবে। রাজাকার, আলবদর, আল শামসদের স্বপ্ন এই বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর প্রতি এটাই আমাদের ওয়াদা থাকবে।

নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু একমাত্র নেতা যিনি একটি রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করেছেন। সে রাজনৈতিক দলকে জনগণের দ্বারে দ্বারে নিয়ে গেছেন। তাদের একই প্ল্যাটফর্মে এনে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।
স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন। এবং সেই দলের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে, দেশ স্বাধীন হয়েছে। তার নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এটা পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয়টি নেই।

বাকশালকে ঘিরে যারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকে জায়েজ করার চেষ্টা করে তাদের সমালোচনা করে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাকশালকে একটি নেগেটিভ জায়গায় ফেলে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলা হয়, যেগুলো কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, বাকশালের কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ একা ছিলনা। তদানীন্তন যত রাজনৈতিক দল ছিল সবাই সেখানে গিয়েছিল। বাকশাল আওয়ামী লীগ বা অন্য রাজনৈতিক দলের মতো ছিল না। সেটা ছিল একটি সরকারি রাজনৈতিক দল। এবং সেটার অনেকগুলো সহযোগী সংগঠন ছিল। সেগুলোর জাতীয় কমিটি ছিল। তখন বঙ্গবন্ধু কমিটি করে দিয়েছিলেন গণমাধ্যমের কী হবে! সাংবাদিক নেতাদের সেই কমিটির সুপারিশই বাকশালে অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীদের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা বঙ্গবন্ধুর চিন্তা- চেতনা আগলে রাখতেন। আজকে আমাদের দায়িত্ব বাংলাদেশকে আগলে রাখার। গণমাধ্যম এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সময়েও এখানকার মানুষ বিরোধিতা করেছে।


বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কোথাও প্রতিবাদ হয়নি- এমন বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রতিবাদ হয়নি, এটা সত্য কথা নয়। খুনীদের মদদ দেয়ার জন্যই রাজনৈতিক কারণে এ কথা প্রচার করা হয়। প্রতিবাদ হয়েছে; তবে প্রতিবাদের ভাষা ছিল ভিন্ন।

বঙ্গবন্ধুকে টুঙ্গিপাড়ায় মাটিচাপা দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল, সেখানে প্রতিবাদ হয়েছে, প্রতিবাদের মুখে তাকে গোসল করাতে হয়েছে। প্রতিবাদের কারণে একজন মুসলমান হিসেবে তার জানাযা পড়ানো হয়েছে। প্রতিবাদ হয়েছে বলেই, ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধুর খুনীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। সেই সময় অস্ত্রের মুখে অনেকে কথা বলতে পারেননি।

বিশেষ অতিথির বক্তেব্যে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও ডেইলি অবজারভার এর সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতাকে মর্যাদা দিয়েছেন। সেজন্য তিনি গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে দিয়েছেন। গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম কর্মীদের সুরক্ষার জন্য আইন প্রনয়ণ করেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলোচনা সভা আয়োজনের জন্য ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিআরইউর সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ জার্নালের সম্পাদক শাহজাহান সরদার বলেন, বঙ্গবন্ধু সব সময়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বিশ্বাস করতেন। বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনাও গণমাধ্যমের প্রতি উদার। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাথে প্রধানমন্ত্রীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, সময়ের আলোর নির্বাহী সম্পাদক শাহনেওয়াজ দুলাল, ডিআরইউর অর্থ সম্পাদক জিয়াউল হক সবুজ ও সাংগঠনিক সম্পাদক হাবীবুর রহমান।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
11/1/B, Kobi Josimuddin Road, Uttor Komlapur,Motijheel, Dhaka-1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution