sa.gif

মিনিদের ভাগ্য বদল হবে কি?
আ্ওয়াজ ডেস্ক :: 19:27 :: Wednesday January 8, 2020 Views : 142 Times

চলতি মৌসুমে দেশে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদিত হয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ১৭০ বছরের চা চাষের ইতিহাসে এটি চা উৎপাদনের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর পরও দেশের বাজারে চায়ের দাম কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু কেন? সে এক প্রহেলিকা! এ ধাঁধার কোনো উত্তর পাওয়া যাবে না!

কারণ এ দেশে ডিমান্ড ও সাপ্লাই তত্ত্ব কাজ করে না! ধান কাটার ভরা মৌসুমেও চালের দাম বাড়ে এখানে!

এ বিপুল চা উৎপাদনের পর একজন চা শ্রমিকের কথার সূত্র ধরে এ লেখা। একটি টিভি চ্যানেলে একজন চা শ্রমিক বললেন তাদের দৈনিক মজুরি ১০২ টাকা। তারা মজুরি নিয়ে অনেক আন্দোলন করেছেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তিনি প্রশ্ন করেন, ১০২ টাকা দৈনিক আয়ে কোনো পরিবার কি চলতে পারে এই বাজারে? কে দেবে এ প্রশ্নের উত্তর?

মালিকপক্ষের একজন বললেন, তারা চায়ের ন্যায্যদাম পাচ্ছেন না, তাই শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে পারছেন না! মালিকদের ন্যায্যদাম আসলে কত? দামি বাড়ি, দামি গাড়ি, ব্যাংকে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা, বিদেশে সপরিবারে প্রমোদ ভ্রমণ, নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণ- সবই চলে, শুধু শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরির বেলায় যত অজুহাত। চা শ্রমিকদের জীবন সম্পর্কে যারা খবর রাখেন, তারা জানেন এসব ভাগ্যহীন মানুষের অস্থিচর্মের শরীর আফ্রিকার দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষদের কথাই মনে করিয়ে দেয়। কী করে এ শরীরে এরা হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে?

চা শ্রমিকরা আদতে এক ধরনের আধুনিক ক্রীতদাস। এই ক্রীতদাসদের ঘামে আমাদের মতো ভদ্রলোকের সকাল, সন্ধ্যা, রাতের চায়ের আড্ডা জমে ওঠে। কত বড় বড় মানুষ চায়ের আসরে কত বড় বড় কথা বলেন, চায়ের টেবিলে তাবড় তাবড় সব সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু কেউ কখনও ভুলেও একটিবারও ভাবেন না কারা তাদের চায়ের পেয়ালা ভরে দিচ্ছে স্বাদ ও সুগন্ধে।

প্রায় দেড়শ’ বছর আগে যখন ব্রিটিশরা চা উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করে, তখন তারা পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুরা, পুরুলিয়া, ঝাড়খন্ড, উড়িষ্যা, তামিলনাড়ু থেকে অভাবী লোকদের নিয়ে এসেছিল চা বাগানে কাজ করাতে। তখন এসব হতদরিদ্র মানুষকে সচ্ছল জীবনের নানা প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। চায়ের বাগানে কাজ করলে দারিদ্র্য থাকবে না, তারা সুখে থাকবে। কিন্তু প্রায় দেড়শ’ বছর পরও সেই আশ্বাস কথার কথাই রয়ে গেছে।

দেশ এখন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। তাহলে কেন এই হতভাগাদের বঞ্চনার অবসান হচ্ছে না? এ বঞ্চনা ও শোষণের অবসান কবে হবে? কবি কালি দাশগুপ্ত ভাগ্যবিড়ম্বিত চা শ্রমিকদের জীবন নিয়ে একটি অসাধারণ কবিতা লিখেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে গানে রূপান্তরিত হয় এবং বিপুল জনপ্রিয়তা পায়-

‘চল মিনি আসাম যাব, দ্যাশে বড় দুখ রে,

সর্দার বুলে কাম কাম, বাবু বুলে ধরি আন

সাহেব বুলে লিব পিটের চাম

রে যদুরাম, ফাঁকি দিয়া পাঠাইলি আসাম।’

শত বছরের দাসত্বের পরও চা শ্রমিক মিনিদের জীবনের দুঃখ গেল না। কবে সুদিন আসবে এদের জীবনে?
সুত্র .যুগান্তর



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution