sa.gif

ঘোড়াশালে বন্ধ ঘোষিত রাষ্ট্রায়ত্ত জুটমিলের শ্রমিকদের বাসা ছাড়ার নির্দেশ
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 01:09 :: Wednesday July 22, 2020 Views : 143 Times

বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রাধীন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুটমিলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এবার স্থায়ী-অস্থায়ীসহ সকল শ্রমিক-কর্মচারীদের বাসা, দোকান ও লিজকৃত আবাদী জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মিলের প্রধান গেইটে সোমবার রাতে বাসা ছাড়ার নোটিশ লগিয়ে দিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। নোটিশে জানা যায়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পাট-১ অধিশাখার এক প্রত্রে ৩০ জুন ২০২০ মোতাবেক সরকারি সিদ্বান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুটমিলস্ করপোরেশন (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলসহ ২৫টি পাটকল শ্রমিকদের চাকুরী গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধার আওতায় অবসানসহ উৎপাদন কার্যক্রম ১ জুলাই থেকে সম্পূর্ণরুপে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

উক্ত আদেশ বাস্তবায়নে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলের সকল স্থায়ী, বদলি, দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকদের নামে বরাদ্ধকৃত বাসা, কাঁচাঘর, দোকানপাট, লিজকৃত আবাদী জমি মিল কর্তৃপক্ষের নিকট বুঝিয়ে দিয়ে মিল এলাকা ত্যাগ করার জন্য বলা হয়েছে।

গত ২ জুলাই রাত থেকে এ জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। মিলের সিবিএ সভাপতি ইউসুফ আলী সরদার জানান, মিলের প্রায় ৩ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী এই করোনা পরিস্থিতি ও ঈদকে সামনে রেখে মিলের উৎপাদন বন্ধ করার কারণে এমনিতেই বেকার হয়ে পড়েছে। তার উপর তাদের সকল পাওনাদি না দিয়ে তাদের বাসাবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেয়া ঠিক হয়নি। কোন শ্রমিকের হাতেই টাকা নেই। মালামাল নিয়ে বাড়ি যাওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব না। তাই মিল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ পাওনা টাকা পরিশোধ করে তাদের যেন বের করা হয়।

এদিকে মিলের পাওনা টাকা পরিশোধের আগে এমন খবরে হতাশা প্রকাশ করে মিলের শ্রমিক ইকবাল ও আব্দুস সালাম জানান, সরকার আমাদের পাওনা পরিশোধ না করে বের করে দিলে কোথায় যাবো। নতুন বাসায় উঠতে গেলে এডভান্স টাকা দিতে হয়। এ ছাড়াও করোনা ও বর্ষার সময় চলছে। বাসার মালামাল নিয়ে আমরা যেতেও পারবো না। এখন আমাদের কি উপায় হবে, আর যদি এই সময়ের মধ্যে আমাদের পাওনা পরিশোধ করে দেন তাহলে নোটিশ অনুযায়ী আমরা চলে যাবো। আর যদি সমস্ত পাওনা পরিশোধ না করে তাহলে যেন বাসা ছাড়ার মেয়াদ বাড়ানো হয়। তাছাড়া আমাদের ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন স্কুল কলেজে অধ্যয়নরত। ডিসেম্বর না আসা পর্যন্ত অন্য স্কুলে ভর্তিও করাতে পারবো না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুটমিলের প্রকল্প প্রধান মো. মতিউর রহমান মন্ডল জানান, নোটিশ অনুযায়ী শ্রমিকরা জুলাই ও আগস্ট মাস পর্যন্ত থাকতে পারবে। মিলে প্রায় ১৫০টি পরিবার আছে। ২০টির মতো দোকান আছে। আর শ্রমিকরা তো কলোনি ছেড়ে সবাই ইতোমধ্যে চলে গেছে। তিনি আরও জানান, নোটিশের দুই মাসের মধ্যে শ্রমিকরা পাওনা টাকা পেয়ে যাবে, তখন তারা স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি যেতে পারবে। সে জন্য আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তারপরেও যদি কারও পরিবারের সমস্যা থাকে এবং কলোনিতে আরও ১ মাস থাকার জন্য আবেদন করে আমরা সেই সুযোগও দিবো। এটা নিশ্চিত আমরা কাউকে জোর করে উঠাবো না।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
11/1/B, Kobi Josimuddin Road, Uttor Komlapur,Motijheel, Dhaka-1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution