sa.gif

করোনায় বন্ধ হচ্ছে শ্রমিকসন্তানের লেখাপড়া :
অনলাইনের বাড়তি খরচ মেটাতে পারছে না
আওয়াজ প্রতিবেদক, আশুরিয়া থেকে :: 15:38 :: Friday July 17, 2020 Views : 231 Times

করোনা মহামারির কারণে শ্রমিকদের আয় কমে গেছে। শ্রমিকদের বড় একটি অংশ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে। ফলে আয় নেই। একদিকে করোনা সংক্রমণের ভয় অন্যদিকে আয় কমে যাওয়া, এ অবস্থায় কোন মতে বেঁচে থাকায় বড় কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে স্কুল বন্ধ থাকার কারণে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প হিসাবে অনলাইনে লেখাপড়া শুরু উদ্যোগ নেয়া হলেও অনলাইন প্রযুক্তি ব্যবহার না জানা ও বেশি খরচ হওয়ার কারণে সেখানেও লেখাপড়া করতে পারছে না। এ অবস্থায় শ্রমিকসন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।


আশুলিয়া ও সাভার শিল্প এলাকায় শ্রমিকসন্তানদের লেখাপড়া পরিস্থিতি ও শ্রমিকদের আয়-রোজগারের খোঁজ খবর নিয়ে এমন তথ্য জানা গেছে। সঅভারের আকবর আলী এমন একজন পোশাক শ্রমিক। যার মাসিক রোজগার নেমেছে প্রায় অর্ধেকে। অন্য অনেক শ্রমিকের চাকরি চলে গেছে। আকবর আলী কোনো মতে টিকে আছে।


আয় কমে যাওয়ার কারণে আকবর আলীকে অনেক কষ্ট করে চলতে হচ্ছে। দুই ছেলে মেয়ে। ছেলেটি স্কুলে যায়। ছেলের স্কুল বন্ধ। নিজে বাড়িতে ছেলেকে লেখাপড়া করাতে পারছে না। অলাইনে লেখাপড়া শুরু হয়েছে। স্মার্ট ফোন কেনা বা স্মাটফোনে অনলাইন চালু করতে গেলে যে ডাটা কিনতে হয় সংসার চালিয়ে সে টাকা বাঁচাতে পারছে না। ফলে অনলাইনে লেখাপড়া হয়ে উঠছে না। কোন কোন ছেলে-মেয়ে অনলাইনে লেখপড়া করতে পারলেও আকবর আলীর সন্তানের লেখাপড়া করাতে পারছে না। এর ফলে অন্যের চেয়ে পিছিয়ে পড়ার হতাশা ছেলের মধ্যে কাজ করছে।


আকবর আলী বলেন, অল্প বেতন থেকেই দিতে হয় ঘর ভারা, গ্যাসবিল, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি। এ যেন জীবন নিয়ে যুদ্ধ। এর উপর সন্তানদের লেখাপড়ার চাপ। করোনার কারনে সন্তানদের লেখাপড়া ঠিক মত হচ্ছে না। তাদেরকে অনলাইনে ক্লাস করতে ডাটা প্যাক কিনতে হয়। কিন্তু অনলাইনে ক্লাস করার জন্য অতিরিক্ত ডাটা ব্যবহার করতে হয়। ফলে ডাটা প্যাক রেগুলার কেনা সম্ভব নয়। মাস শেষ হওয়ার আগেই অনেক সময় তাদের কে দেনা করতে হয়। ফলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।


একই অবস্থা বিরাজ করছে পরিবহন খাতের শ্রমিকদের। ২৬ মার্চের পর থেকে গণপরিবহন বন্ধ হয়ে গেলে আয় বন্ধ হয়ে যায় পরিবহন শ্রমিকদের। একই সময়ে স্কুল বন্ধ থাকায় সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। পরিবহন শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেল তারা খুব কস্টে আছে, মানবেতর জীবনযাপন করছে। বর্তমানে সীমিত আকারে পরিবহন চালু হলেও করোনার কারনে যাত্রী নেই বললেই চলে। পরিবহন শ্রমিক শাহআলম বলেন, আগের তুলনায় আয় নেই, তাই বলে কি খাওয়াও নেই! আমার পরিবারে সদস্য সংখ্যা চার জন, আমার এই অল্প আয় দিয়েই চলতে হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে চলা কস্টসাধ্য ব্যাপার। আমার দুইজন সন্তান তারা স্কুলে পড়ে। করোনার কারনে স্কুল বন্ধ থাকায়, তাদেরকে অনলাইনে ক্লাস করতে হয়। এজন্য ডাটা প্যাক কিনতে হয়। অল্প আয় দিয়ে রেগুলার ডাটা প্যাক কেনা সম্ভব নয়। একদিন ক্লাস করলে পাঁদিন করা হয় না। এমত অবস্থায় সন্তানদেও লেখাপড়া নস্ট হয়ে যাচ্ছে।

অনলাইনের লেখাপড়া খরচ জোগাতে না পেলে শুধু তৈরি পোশাক বা পরিবহন শ্রমিকসন্তানদেরই লেখাপড়া বন্ধ হয়নি। বন্ধ হয়েছে নির্মান শ্রমিক, ভ্যান-রিকসা শ্রমিকসহ কম আয়ের সকল শ্রমিকসন্তানের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে বা কোনমতে চালু রেখেছে। কথা হয় আশুলিয়ার ডেকোরেশন শ্রমিক সুজনের সাথে। সুজনের এক সন্তান স্কুলে পড়ে। সুজন বাবুর্চির কাজ করেন। বিয়ে বাড়ির রান্না করে থাকেন। করোনাকালীন সময়ে কোথাও বিয়ের আয়োজন নেই বললেই চলে, অনুষ্ঠান নেই। তাই বলে কি খরচ বসে আছে নাকি-সুজনের প্রশ্ন।

সুজন বলেন, এভাবে দিন চলতে থাকলে এক সময় না খেয়েই মারা যেতে হবে। মনে হচ্ছে শুধু চারদিকে অন্ধকার। কারো কারো জীবন যেন থমকে যাচ্ছে। এমত অবস্থায় সরকার যদি আমাদের জন্য কোন ব্যবস্থা না নেয় অনেক অপরাধের পথ বেঁছে নেবে।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
11/1/B, Kobi Josimuddin Road, Uttor Komlapur,Motijheel, Dhaka-1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution