sa.gif

শ্রমিকের জীবন নিয়ে নিষ্ঠুর খেলা বন্ধ করতে হবে 
এম এ শাহীন :: 12:12 :: Saturday July 4, 2020 Views : 246 Times

 

দুনিয়াব্যাপী যা কিছু মনুষ্য সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন তা শ্রমিকের শ্রমে ঘামের বদৌলতে হয়েছে। অথচ শ্রমিকরা আদিকাল থেকে আজ অবধি অবহেলিত শোষিত-নির্যাতিত ও বঞ্চিত। বৃটিশ ও পাকিস্তান সময়কালে শ্রমিক শ্রেণী যেভাবে শোষিত হয়েছে তার চেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে আরো বেশি শোষণ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু শ্রমিক শ্রেণী শোষণ থেকে মুক্তি পায়নি। বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালেও আমাদের রাষ্ট্র শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম ও নিষ্ঠুর খেলা খেলছে। এদেশের মালিকরা সস্তায় শ্রমিকের শ্রম নিয়ে অধিক মুনাফা করে রাতারাতি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে কিন্তু শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নে তারা কোন কাজ করেনি। টাকার গরমে মালিকরা এখন শ্রমিকদেরকে মানুষই মনে করে না।

ক্ষুধার্ত শ্রমিকরা পেটের ভাত জোগানোর তাগিদে করোনা মৃত্যু ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কাজে যোগ দেবে। এটা ভেবে মহামারি পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মালিকরা তাদেরকে কারখানায় কাজ করতে বাধ্য করেছে। এ দেশের শ্রমিকরা এতোটা অবহেলিত যে তাদের জীবন-জীবিকা নিয়ে সরকার ও মালিকরা যে যার ইচ্ছে খুশি মতো তামাশা করে যাচ্ছে। দুর্যোগ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও জীবন রক্ষায় রাষ্ট্র ও মালিকরা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তার পরেও শ্রমিকরা নিজের জীবন ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়ে উৎপাদনে যুক্ত হয়়েছে। পেটে ক্ষুধা আছে বলেই তারা এতো কিছু মুখ বন্ধ করে নিরবে সয়ে যায়। কারণ শ্রমিকদের বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল তার শ্রমশক্তি। মালিকদের কাছে এই শ্রম বিক্রি করেই তাদের জীবন চালাতে হয়। ফলে দুর্যোগের মধ্যেও তারা চাকুরি রক্ষার জন্য করোনার মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে কাজ করে চলেছে। 

 

করোনার মহাদুর্যোগে শ্রমিকদের দায়িত্ব না নিয়ে সরকার ও কারখানার মালিকরা একের পর এক শ্রমিক স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পোশাক কারখানায় গণহারে শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করে এক লাখের অধিক শ্রমিককে কর্মহীন করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকল বন্ধ ঘোষণা করে অর্ধ লাখেরও বেশি শ্রমিক পরিবারকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের মনে চরম ক্ষোভ জন্ম নিচ্ছে। ফলে দেশে অস্থিরতা তৈরি হবে যা সামাল দেয়া সম্ভব হবে না। সংকট মোকাবেলায় দেশে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। শ্রমিক স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের পথ থেকে রাষ্ট্র ও কারখানা মালিকদেরকে সড়ে আসতে হবে।

 

যে শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরায় সে শ্রমিকদের কর্মহীন করে মৃত্যু ঝুঁকিতে ফেলে দেয়া যাবে না। শ্রমিকদের আয় রোজগার বন্ধ হয়ে গেলে তাদের পক্ষে কর্মক্ষম থাকা বা বেঁচে থাকা সম্ভব হবে না। করোনা সংকট সারা জীবন থাকবে না কিন্তু শ্রমিকরা কর্মহীন হলে আগামী দিনে দেখা দেবে খাদ্য সংকট ও দারিদ্রতা আর দারিদ্রতাও এক দুরারোগ্য ব্যাধি। দারিদ্রতার কারণে করোনার চেয়েও অনেক বেশি মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে বা প্রাণহানি ঘটতে পারে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কোন শিল্প কারখানায় শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করা ও কারখানা লে-অফ করা সমুচিত নয়। করোনার বিপর্যয়ে প্রধানতম অর্থনৈতিক সংকটের শিকার শ্রমিকরা তাদের বাঁচিয়ে রাখতে শিল্প কারখানা গুলো দেউলিয়া বা বন্ধ হতে দেওয়াও যাবে না। সংকট মোকাবেলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় প্রধানতম রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।

 

এই দুঃসময়ে শ্রমিকদের জিম্মি করে তাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারো নেই। শ্রমিকরাও এদেশের নাগরিক।অন্যদের মতো তাদের ও বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। শ্রমিকদের জীবন নিয়ে এতো হেলাফেলা কেন হবে? ভুলে গেলে চলবে না শ্রমিকদের হাত দিয়েই বিকশিত হয়েছে মানব সভ্যতা। পৃথিবীতে যা কিছু সুন্দর সব কিছু তৈরি হয়েছে শ্রমিকের হাত দিয়ে। করোনা মহামারি সময়ে তাদের জীবন বলি দিয়ে মুনাফা করার প্রবণতা মালিকদের পরিহার করতে হবে।

 

কারখানা কয়েক মাস বন্ধ থাকলে মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ঠিক তবে সে ক্ষতি পুষিয়ে উঠাও সম্ভব কিন্তু একজন শ্রমিকের জীবন চলে গেলে তাকে তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। মালিকদের কাছে শ্রমিকের জীবন তুচ্ছ হলেও তার পরিবারের কাছে তা মহা মূল্যবান। তাদের জীবন মৃত্যু ঝুঁকিতে ফেলে দেয়া যাবে না। শ্রম শোষণ বন্ধ করে শ্রমিকদের জীবন রক্ষা করতে হবে। শ্রমিকরা বেঁচে না থাকলে কল-কারখানার চাকা কে ঘুরাবে? উৎপাদনের চাকা না ঘুরলে মুনাফা আসবে কোথা থেকে। কারখানার উৎপাদন ও দেশের অর্থনীতির স্বার্থেই শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। বাঁচাতে হলে আগে তাদের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

 সকল মানুষের সুরক্ষা দেয়া ও জীবন রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শ্রমিকদের জীবন রক্ষায় কারখানা মালিকদের যতোটা দায়িত্ব রয়েছে তার চেয়ে সরকারের অধিক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের জীবন রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। আজকে দেশের যতোটুকু উন্নয়ন হয়েছে তা শ্রমিকদের অবদান। সরকার বলছে দেশ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে, খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়েছে সে সব সম্ভব হয়েছে একমাত্র শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের বদৌলতে। শ্রমিকদের এতো অবদান থাকার পরেও এই মহাদুর্যোগ কালীন সময়ে তাদের জীবন জীবিকা নিয়ে রাষ্ট্র নিষ্ঠুর খেলা খেলছে। এই নিষ্ঠুরতা দেখে সারা দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। দ্রুত এই মরন খেলা বন্ধ করতে হবে।

 # এম এ শাহীন, সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি। 

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
11/1/B, Kobi Josimuddin Road, Uttor Komlapur,Motijheel, Dhaka-1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution