sa.gif

শ্রমিকদের কর্মহীন করার পথ ছেড়ে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে
এম এ শাহীন :: 21:09 :: Thursday June 25, 2020 Views : 235 Times

বৈশ্বিক মহামারি করোনার মহাদুর্যোগে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক ও অপরাপর শিল্প কারখানার শ্রমিকরা। চলমান এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, চাকুরি ও জীবন রক্ষায় মালিক ও সরকারের দায়িত্বশীল কোন পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বরং পোশাক কারখানা মালিকরা রপ্তানি অর্ডার বাতিল হয়ে যাওয়া ও বাজার ধরে রাখার যুক্তি দেখিয়ে কারখানা খুলে দিয়ে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে উৎপাদন শুরু করেছে।
 
সে সময় সড়কে গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে গ্রামের বাড়িতে থাকা শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে আসার সম্ভব ছিলো না বিদায় সরকার ও মালিকপক্ষ থেকে বলা হয়ে ছিলো তারা বাড়িতে থেকে ৬৫% বেতন পাবে এবং চাকুরির নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। গণপরিবহন চালু হলে তারা ফিরে এসে কাজে যোগদান করবে। বিভিন্ন শিল্প কারখানার শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা মোবাইল একাউন্টে শুধু এপ্রিল মাসের বেতন পেয়েছে কিন্তু গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরে আসার পর ৯০% শ্রমিক কাজ যোগদান করতে পাড়েনি। মালিকরা নানা ছলচাতুরি করে তাদের কাজে যোগদান থেকে বিরত রেখেছে। এমনকি অধিকাংশ শ্রমিকের কাছ থেকে জোরপূর্বক ইস্তফা নিয়ে চাকুরিচ্যুত করেছে।
 
এখন আবার কাজ কমে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে গণহারে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মিশনে নেমেছে। করোনা বিপর্যয়ের মধ্যে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক যে সব সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে তা অত্যন্ত অমানবিক। এই দুঃসময়ে মালিকদের মানবিক হওয়ার কথা কিন্তু তা না হয়ে তারা আরো বেশি অমানবিক হয়ে উঠেছে। যে শ্রমিকরা বছরের পর বছর মুনাফা করে দিয়েছে বিপদের সময় সেই শ্রমিকদের দায়িত্ব না নিয়ে মালিকরা উল্টো তাদের বেতন-ভাতা বকেয়া রেখে ছাঁটাই, লে-অফ ও কারখানা বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিকদের জীবন জীবিকা হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। মালিকরা যখন মুনাফা করেছে তখন তো শ্রমিকদের বেশি বেতন দেয়নি তাহলে দুর্যোগ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের দায়িত্ব নিবে না কেন?
এছাড়া মালিকরা তো করোনার শুরুতেই শ্রমিকদের এপ্রিল-মে-জুন এই তিন মাসের বেতন দেয়ার কথা বলে সরকারের কাছ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা নিয়েছে। তারপরও শ্রমিকদের দুই চার মাস বেতন দিয়ে চালাবে না এটা তো হতে পাড়ে না। মালিক ও সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দিয়ে ছিলো মহামারিকালে কোন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হবেনা, কোন কারখানা লে-অফ ও বন্ধ করা হবে না কিন্তু মালিকরা সে কথা রাখেনি। তাদের এই আচরণের বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থাও নেয়নি। ফলে মালিকরা আরোও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শ্রমিকদের অভিযোগ রয়েছে মালিকরা পরিকল্পিত ভাবে শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের গ্রেফতার হয়রানি এবং ছাঁটাই করে চাকুরির আইনি ক্ষতিপূরণ ও ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। 
 
এই পরিস্থিতির মধ্যে বিজিএমইএ সভাপতির প্রকাশ্যে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা মালিকদেরকে আরো বেশি উস্কে দিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে তারা আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে একের পর এক শ্রমিক স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। মালিকদের এই অন্যায়-অত্যাচার ও জুলুুম নির্যাতন শ্রমিকদের মনে চরম ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। এতে শিল্পে অস্থিরতা তৈরি হবে যা সামাল দেয়া সম্ভব হবে না ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে যাবে।
 
ছাঁটাই করে শ্রমিকদের কর্মহীন করার পথ ছেড়ে বিকল্প পথ খোঁজে বের করতে হবে। যে শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরায় সেই শ্রমিকদের এই মহামারি সময়ে কর্মহীন করে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়া যাবে না। মহামারিকালে যে সব শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়েছে তাদেরকে চাকুরিতে বহাল রাখতে হবে নয়তো শ্রম আইন অনুযায়ী চাকুরির ক্ষতিপূরণসহ সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের কারণে এবং শ্রমিকরা তাদের চাকুরি রক্ষায় ক্ষুব্ধ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে। শিল্পের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে হলে শ্রমিক ছাঁটাই, মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হয়রানি বন্ধ করে মালিকদেরকে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী অন্যায় সিদ্ধান্ত থেকে সড়ে আসতে হবে। দিনেদিনে শ্রমিকরা ব্যাপকভাবে করোনা আক্রান্ত হচ্ছে।মহামারি ঠেকাতে কারখানা গুলোতে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের জীবন রক্ষায় সুচিকিৎসা ও চাকুরি/কর্মের নিশ্চয়তা দিতে হবে।


Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
11/1/B, Kobi Josimuddin Road, Uttor Komlapur,Motijheel, Dhaka-1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution