sa.gif

পোশাক শিল্পে শোষণনির্ভর নয়া পুঁজি ও ট্রেড ইউনিয়ন মুখিমুখি
সুুদীপ্ত শাহীন :: 08:57 :: Tuesday October 8, 2019 Views : 367 Times

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শতকরা ৯০ ভাগ রপ্তানি হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির শীর্ষে রয়েছে পুরুষ ও ছেলে শিশুদের সুতি ট্রাউজার। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক প্রেরণকারী শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের তুলনায় প্রতি বর্গমিটার কাপড়ের মূল্য প্রকৃত ডলার মূল্যে হিসাব করলে দেখা যায় সাধারণভাবে মূল্যসূচক কমে আসছে এবং বাংলাদেশে সর্বনিম্ন স্তওে নেমে এসেছে। ইউরোপে বাংলাদেশ থেকে যে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয় তার বড় অংশই হচ্ছে টি-শার্ট। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ২৫০ মিলিয়ন কিলোগ্রাম টি-শার্ট রপ্তানি করেছে। যা দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ চীন, ভারত, তুরস্কের চেয়ে সর্বনিম্ন মূল্যে রপ্তানি করেছে। সম্প্রতি তা আরো কমে গিয়ে প্রতি কেজি টি-শার্টের পূর্বমূল্য ছিল যেখানে ১১.২১ ইউরো, এখন তা ১০.৬৩ ইউরো-তে দাঁড়িয়েছে। বায়ার বা ক্রেতা গোষ্ঠী কর্তৃক রপ্তানিকারক দেশের সরবরাহকারিদের লিড টাইম এর চাপ, পণ্যমূল্য কমানো এবং দ্রুত ফ্যাশন পরিবর্তনের (ব্র্যান্ড জারার মডেল অনুসরণে) পর দেখা যায় সরবরাহকারী অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সবচেয়ে কম। ডব্লিউআরসি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান মজুরি জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ আনুমানিক মাত্র ১৪ শতাংশ পূরণ করে। যেটি অন্যান্য পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর চেয়ে সর্বনিম্ন।


অথচ শ্রমিকদের মজুরি ও শিল্পের স্বার্থ রক্ষার দায় সরকারের। দালাল পুঁজির প্রতিনিধিত্বকারি সরকার এ ক্ষেত্রে গার্মেন্টস মালিকদের বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করলেও জাতীয় শিল্পস্বার্থ ও শ্রমিকদের ম্বার্থরক্ষায় কোন উদ্যোগ নেয় নি। বাস্তবত দেখা যায়, পোশাক খাতে অধিকাংশ সাব-কন্ট্রাক্টরনির্ভর কারখানায় ন্যূনতম মজুরি দেওয়া হয় না। এ ছাড়া নতুন মজুরি কাঠামোয় মালিকপক্ষের মূল মজুরি বৃদ্ধি ২৩ শতাংশ দাবি করা হলেও প্রকৃত হিসাবে ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে তা প্রায় ২৬ শতাংশ কম।


মজুরি বৈষম্য নিয়ে আন্দোলন করায় ৫ হাজার শ্রমিককে আসামি করে ৩৫টি মামলা করা হয়েছে। ১৬৮টি কারখানায় ১০ হাজার শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ হিসাবে মজুরি বাড়েনি, বাস্তবিক অর্থে সার্বিকভাবে ২৬ শতাংশ কমানো হয়েছে। অন্যদিকে বেতন বাড়ানোর অজুহাতে মালিকরা সরকারের কাছ থেকে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে নিচ্ছে।

 

এসবের মধ্যে রয়েছে করপোরেট ট্যাক্স ১৫ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করা, গ্রিন ফ্যাক্টরির ক্ষেত্রে ১৪ থেকে ১০ শতাংশ, এর পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম আমদানিতে ৫ শতাংশ ডিউটি নির্ধারণ, বন্দরসেবা গ্রহণে নির্ধারিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ ও নতুন বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ নগদ সহায়তাসহ তিন ক্ষেত্রে মোট নগদ সহায়তা ১০ থেকে ১২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রায়োগিক দুর্বলতা রয়েছে। মাত্র ৩ শতাংশ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে, যার অধিকাংশই মালিকদের দ্বারা প্রভাবিত। ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে মালিক ও সরকারের আইনি ও প্রায়োগিক কৌশলের কারণে গার্মেন্টস কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে উঠছে না। মাত্র ৩ শতাংশ কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে, যার অধিকাংশই মালিকদের দ্বারা প্রভাবিত।


পরিসখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৪৬৯ টি কারখানার ইউনিয়ন গঠন গড়ে উঠেছে। যা বিদ্যমান প্রায় চার হাজার কারখানার এই খাতে কোনোভাবেই তা প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। এর মধ্যে কোন কোন টিরবকারখানা বন্ধ হয় গেছে বা ইউনিয়ন নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। এর বাইরে রেজিস্টার্ড-আনরেজিস্টার্ড কিছু ফেডারেশন রয়েছে। যেগুলোর মধ্যে চিহ্নিত কিছু ফেডারেশন একচেটিয়া পুঁজির স্বার্থে ও পরিকল্পনায় প্রণীত হয়ে তাদের স্বার্থরক্ষা করে চলেছে। কতকগুলি বিভিন্ন অনৈতিক উপায়ে মালিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন রকম সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে দেশীয় মালিকদের দালালি করে যাচ্ছে। এর বাইরে প্রগতিশীল ট্রেড ইউনিয়নের কথা বলে কোন কোন ফেডারেশন গার্মেন্টস সেক্টরে সক্রিয় থাকলেও আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন বিভ্রান্তি পোষণ করার মাধ্যমে গার্মেন্ট শ্রমিকদের মুক্তির সঠিক কর্মসূচি ও কর্ম পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারছে না। তাই আমাদের মত নয়া-উপনিবেশিক আধা-সামন্তবাদী দেশে সা¤্রাজ্যবাদী লগ্নি পুঁজি বিনিয়োগকৃত গার্মেন্টস শিল্পের বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অর্থনৈতিক মুক্তির সাথে শোষণমুক্তির আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কর্মপরিকল্পনা ও কর্মসূচি নির্ধারণ করতে হবে।

 



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution