sa.gif

তৈরি পোশাক রপ্তানি অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 08:56 :: Monday October 7, 2019 Views : 302 Times

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি সূচিত হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ শতাংশের ওপরে। চলতি বছরের শুরুতে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে কিছুটা কমলেও প্রবৃদ্ধি দুই শতাংশের মধ্যে ছিল। দ্বিতীয় মাসে এসেও বড় ধরনের পরিবর্তন চোখে পড়েনি। কিন্তু তৃতীয় মাসে এসে প্রায় দুই শতাংশ কমে গেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হাল নাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।


অর্থনীতিবিদ ও তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, রপ্তানি হ্রাসে ব্যবস্থা না নিলে অর্থনীতিতে বড় ধরনের মাসুল গুনতে হবে।

জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসে ৮ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে চেয়ে কম রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ কম রপ্তানি হয়েছে।

এ বছর জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসের কৌশলগত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৯ দশমিক ১০৬ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক। তিন মাসে সবচেয়ে রপ্তানি কমেছে তৈরি ওভেন তৈরি পোশাকের। হ্রাসের হার ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে হ্রাসের এ হার খুবই এলার্মিং বলে মনে করছে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা।

ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হওয়ার কারণে রপ্তানি আয় কমে গেছে বলে মনে করছেন বিকেএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, অবস্থা উত্তরণে ব্যবস্থা না নিলে আগামীতে তৈরি পোশাক রপ্তানি ধস অব্যাহত থাকবে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দ্রুততার সঙ্গে ডলারের বিপরীতে অংশিক হলেও টাকার অবমূল্যায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশে ওভেন তৈরি পোশাকের কার্যাদেশে যাচ্ছে পাকিস্তানে ও নিট তৈরি পোশাকের কার্যাদেশ আরেক প্রতিবেশী মিয়ানমারে চলে যাচ্ছে উল্লেখ করে এই উদ্যোক্তা নেতা বলেন, দেশ দুটি ডলারের বিপরীতে সে দেশের মুদ্রার অবমূল্যয়ন করার ফলে কম দামেই বেশি রপ্তানি আয় করছে। এতে ক্রেতারাও কম দামে তৈরি পোশাক পাচ্ছে।এর ফলে বায়াররা বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান ও মিয়ানমারমুখী হচ্ছে।

এক সময় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য ছিল পাট। পাট এখন ৫ নম্বর রপ্তানি পণ্যে পরিণত হয়েছে। রপ্তানি আয়ের দিক থেকে পাটকে পেছনে ফেলে উপরে উঠে গেছে তৈরি পোশাক, সিমেন্টের মতো মধ্যবর্তী উৎপাদিত পণ্য, কৃষিজাত পণ্য এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। পাট এখন মোট রপ্তানি আয়ের ২ দশমিক ২৯ শতাংশে নেমেছে। আর তৈরি পোশাক রপ্তানি উঠেছে মোট রপ্তানি আয়ের ৮৩ দশমিক ৫১ শতাংশে। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে সময় সময় উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ না নেওয়া হলে তৈরি পোশাক রপ্তানি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।

পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে বাংলাদেশের হাতে একটি মাত্র অস্ত্র আছে তা হলো ডলারের বিপরীতে টাকা অবমূল্যায়ন করা। টাকার অবমূল্যায়ন করলে মূল্যস্ফীতির যে সম্ভাবনার কথা কেউ কেউ বলছে তা ঠিক নয়। তিনি বলেন, আমাদের অন্য রপ্তানি খাতগুলো আগে থেকেই রুগ্ন হয়ে আছে। একটি মাত্র খাত তৈরি পোশাক শিল্প যা আমাদের অর্থনীতিকে প্রাণশক্তি দিয়েছে।

এ শিল্প রুগ্ন হলে আমাদের অর্থনীতির চলন শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে। এছাড়াও বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিতে একটি মন্থর ভাব চলছে। বিশেষ করে ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্থর অবস্থা চলছে। এই মন্থর অবস্থা রপ্তানিকে বাধাগ্রস্ত করছে। আগামীতে এ মন্থর গতি প্রলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য এখন থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

তৈরি পোশাক শিল্প একমাত্র শিল্প যেখানে পল্লী অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ৩৫ লাখ নারী কর্মে নিয়োজিত হয়েছে। এর ফলে মাস শেষে মজুরি হিসাবে প্রাপ্ত অর্থ বিপুল পরিমাণ শহর থেকে পল্লী অঞ্চলে যাচ্ছে। এতে অন্যদিকে নিজস্ব ভোক্তা শ্রেণি তৈরি হচ্ছে এবং সামাজিক অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তারা মনে করছে তৈরি পোশাক শিল্প ব্যাহত হলে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা থমকে যেতে পারে।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution