sa.gif

তৈরি পোশাক শিল্পে যৌন হয়রানি রোধে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে
জলি তালুকদার
মো. কামরুজ্জামান :: 21:15 :: Friday October 4, 2019 Views : 131 Times

যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের হাইকোর্টো নির্দেশনা আছে। একটি রীটের প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে মে মাসে হাইকোর্ট থকে এ নির্দেশনা আসে। এরপর থেকে কিছু কারখানায় তৈরি পোশাক কারখানাতে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়েছে। তারপর আর বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু এটা হওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে এরই মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্পে যৌন হয়রানি অনেকটা কমেছে। এটা শ্রমিকের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের ফল। শ্রমিকরা যত সচেতন হয়েছে, ততটা অধিকার বাস্তবায়ন হয়েছে, ততটাই যৌন হয়রানি বিরোধী সচেতনাসহ শ্রম আচরণগত পরিবেশের উন্নতি হয়েছে।

এক একজন গার্মেন্টস শ্রমিক নিজেরাই কারখানার ভেতরে এবং বাইরে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রতিরোদ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে তারা পারে না। অনেক সময় নারী শ্রমিকরা যৌন হয়রানির শিকার হয়ে অভিযোগ করতে গিয়ে আবার নতুন করে নির্যাতনের শিকার হন, আবার চাকরিও হারায়।

গত ১০ বছরের নারী নির্যাতনের তুলনায় এখন যদি হিসাব করা হয় তাহলে দেখা যাবে প্রতিরোধের ক্ষমতাটা শ্রমিকদের মধ্যে বেড়েছে। আমরা দেখেছি তৈরি পোশাক শিল্পে নানাভাবে কুরুচিপূর্ণ কথা বা শব্দ ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে এই যৌন নিপীড়ন ও যৌন হয়রানিসহ নানা রকম বাজে ব্যবহারের বিরুদ্ধে যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তারা কারখানার ভেতরে প্রতিরোধ করার চেষ্টাও করে। যদিও গার্মেন্টস শ্রমিকদের দীর্ঘ দিন ধরে গড়ে ওঠা আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে যৌন হয়রানির বিষয়টি ততটা স্পষ্ট নয়। কিন্ত এই প্রতিরোধ টা ভেতরে ভেতরে চলে। তার পরেও দেখা যায় বড় ধরনের হয়রানি হয়েছে।

কারখানার ভেতরে যৌন হয়রানীর শিকার হলে শ্রমিকরা এর বিরুদ্ধে দাঁড়ালে দেখা যায় মালিক পক্ষ যৌন হয়রানীরকারী পক্ষ নিচ্ছে। এক্ষেত্রে যদি ভিতরের চাপটা সঠিক তৈরি করা যায় তখন এই যায়গা থেকে উন্নতি সম্ভব। তখন দেখা যাবে মালিক পক্ষ যৌন হয়রানীরকারীর পক্ষ নিবে না। শ্রমিকদের প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে আগের তুলুনায় প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেড়েছে। শ্রমিকদের এ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি অব্যহত থাকলে আগে যেভাবে বা এখনও কারখানার ভেতরে নারী শ্রমিকদের সঙ্গে খিস্তি খেউর করা হয়, গায়ে হাত দেওয়া এটা আর থাকবে না।

আমি মনে করি তৈরি পোশাক শিল্প যৌন হয়রানির হার শুন্যের কোটায় এখনি নামিয়ে আনার সুন্দর সময়। এটা যদি শ্রমিকদের মধ্যে থেকে হাই কোর্টের নির্দেশটা কার্যকর করা যেত, একটা প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা যেত এবং প্রত্যেকটা কারখানায় প্রতিরোধ কমিটি বাধ্যতামূলক করা যেত তাহলে এই যৌন হয়রানির যে কথা বলছি তার উন্নতি হতো।

জলি তালুকদার: সাধারণ সম্পাদক, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution