sa.gif

রেডিশন কারখানা বন্ধ ঘোষণা
সবাই টাকা পেলেন, পেলেন না শুধু মাতৃকালিন ছুটিতে থাকা নারী শ্রমিকরা
মো. কামরুজ্জামান :: 16:24 :: Tuesday October 1, 2019 Views : 677 Times

টঙ্গীর বিসিকে অবস্থিত রেডিশন এ্যাপারেল কারখানাটি শ্রমিক, কর্মচারিদের পাওনা না দিয়েই ১০ সেপ্টেম্বর বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর আর মালিককে পাওয়া যাচ্ছিলো না।  শ্রমিকদের বিক্ষোভ, বিজিএমইএ ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দেওয়ার ফলে শেষ পর্যন্ত ১৬ সেপ্টেম্বর কারখানার শ্রমিক, কারখানার মালিক ও ভবনের মালিকের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়। চুক্তি অনুযাযী শ্রমিক-কর্মূচারীদের টাকা দেওয়া হলেও দেওয়া হলো না শুধু মাতৃকালিন ছুটিতে থাকা 18 নারী শ্রমিকের পাওনা।

চুক্তি সূত্রে জানা যায়, কারখানাটি বন্ধ করার পর শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে যান। যখন আগের মাসের বেতন পওায়ার কথা- সে সময় বেতন না দিয়ে কারখানা বন্ধের ঘোষণায় শ্রমিকের মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়। নিত্যদিনের খরচ, বাড়ি ভাড়া, দোকান বাকী পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যায শ্রমিকরা। এরই মধ্যে কারখানার মালিক কারখানায় আসা বন্ধ করে দেয়। এতে শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে যায়।এরপর শ্রমিকরা আইনানুগ পাওনা পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ ও বিভিন্ন দপ্তরে দাবি জানানো শুরু করে।

শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে ১৬ সেপ্টেম্বর বিজিএমইএ কার্যালয়ে এক সমঝোতা বৈঠক বসে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর টঙ্গীর সহকারি পরিচালক মো. মোতাহার মিয়া। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ এর অতিরিক্ত সচিব (শ্রম) রফিকুল ইসলাম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের টঙ্গীর সঞ্চয় কুমার দাস, কারখানার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মো. মজিবুর রহমান, রেডিশন এ্যাপারেল ভবন মালিক মো. সাহিন মিঠু। শ্রমিক পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার, সহসভাপতি খাদিজা আক্তার এবং রেডিশন গার্মেন্টস কারখানার ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি মর্জিনা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।


চুক্তি অনুযায়ী কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হলেও আইনুযায়ী পাওনা পরিশোধের পরিবর্তে সকল শ্রমিককে এক মাসের নোটিশ পে, যাদের চাকরির বয়স ১ থেকে ৫ বছর হয়েছে তাদের এক মাসের বেতনের সম পরিমান টাকা প্রদান; যে সব শ্রমিকের চাকরির বয়স ৬ থেকে ১০ বছর তাদের ২ মাসের বেতনের সমান টাকা প্রদান এবং যে সব নারী শ্রমিক মাতৃত্বকালিন ছুটি প্রাপ্য তাদের মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদর্শন পূর্বক শ্রম আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করার ঐক্যমত হয়। চুক্তি অনুযায়ী এ টাকা ২৫ সেপ্টেম্বর দেওয়ার কথা ছিল।

রেডিশন কারখানার শ্রমিকরা জানান, চুক্তি অনুযায়ী মালিক পক্ষ শ্রমিক-কর্মচারিদের টাকা দিলেও মাতৃকালিন ছুটির সুবিধাদি দেওয়া হয়নি। মাতৃকালিন ছুটির সুবিধাদি প্রাপ্য নারী শ্রমিকরা কলকারখানা অধিদপ্তরে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেন। তারা অভিযোগ-পত্রে উল্লেখ করেন, 25 সেপ্টেম্বরে অন্যান্য শ্রমিকদের টাকা দেওয়া হলেও মাতৃত্বকালিন ছুটির সুবিধা না দিয়ে কর্তৃপক্ষ চলে যান। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, পরে দেবো বলে স্থান ত্যাগ করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এসব নারী শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। রেডিশন এ্যাপারেল কারখানার এ ধরনের নারী শ্রমিকের সংখ্যা ১৮ জন।

মাতৃকালিন ছুটির সুবিধাদি বঞ্চিত নারী শ্রমিকরা বলেন, কারখানা বন্ধ করার পর চুক্তি করার সময় যে টাকা দিতে চুক্তি হয় তা খুবই হাস্যকর। তারপরও মেনে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ পাওনা থেকেও আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ টাকা পাওয়ার জন্য তারা সহায়তাকারী শ্রমিক সংগঠন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের আবেদন করা হয়েছে। মাতৃকালিন ছুটির টাকা বঞ্চিত নারী শ্রমিকরা কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের অভিযোগ করেছেন। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, টঙ্গীর শ্রম পরিদর্শক সঞ্জয় কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ওই নারী শ্রমিকরা আমার অফিসে এসেছিলেন। তারা একটি লিখিত চিঠি দিয়ে গেছেন। সেখানে তারা উল্লেখ করেছেন চুক্তি অনুযায়ী মাতৃত্বকালিন সুবিধা পাননি। অভিযোগটি আমরা নিয়েছি। আমরা এটা নিয়ে তদন্ত করে দেখবো কতটুকু সত্য বা মিথ্যা। তারপর দেখবে কি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।


এ ব্যাপারি শ্রমিকদের আইনি সহায়তাদানকারী স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনর কেন্দ্রিয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. সাকিল আহম্মেদ শ্রমিক আওয়াজকে বলেন, নারী শ্রমিকদের মাতৃকালিন ছুটির টাকা না দেওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক ও আমানবিক। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। তিনি বলেন, সরকার যেখানে নারীবান্ধব কর্ম পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে, সেখানে কিছু অসৎ মালিকেরা কারণে সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য ব্যহত হচ্ছে। ভাবমূর্তির ক্ষুন্ন হচ্ছে। আমি বিজিএমইএ ও সরকার তথা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে আবেদন করছি এ সব নারী শ্রমিকের আইনি পাওনা অতি সত্ত্বর পরিশোধ করা হোক।

রেডিশন কারখানার নারী শ্রমিকরা জানান, কারখানাটিতে মোট ১৮ জন নারী শ্রমিক মাতৃকালিন ছুটির সুবিধা পাবেন বলে জানা গেছে। তবে শ্রমিক আওয়াজ এর কাছে ১২নারী শ্রমিকের তালিকা নাম এসেছে। বাকীদের নাম পাওয়ার  জন্য অনুসন্ধান চলছে। যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন, মোছা. হোসনেয়ারা, অপারেটর কার্ড নং ৫৩৪৫; মোছা. মৌ আক্তার বানু পদবি অপারেটর কার্ড নং ৪,৮৬৩ মোছা. কারিমা, অপারেটর কার্ড নং ৫,৩৮৮; মোছা. সাহানাজ, অপারেটর কার্ড নং ৫,৪৭২; মোছা. মরিয়ম, কার্ড নং ১,৫১৬ ৬; মোছা. রিনা-২, অপারেটর কার্ড নং ২,৩৪৪; মোছা. ইয়াসমিন, অপারেটর কার্ড নং ৮,৯১৮; মোছা. তাছলিমা পদবি অপারেটর কার্ড নং ৩,৯৮১; মোছা. এলিজা, অপারেটর কার্ড নং ২,৮১৭; মোছা. সুরমা, অপারেটর কার্ড নং ১,০৬৫; মোছা. সাহানাজ পদবি অপারেটর কার্ড নং ৩,৭১৭।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution