sa.gif

একোর্ড হস্তান্তরে বিজিএইএ'র উদ্যোগে আরএসসি গঠন নিরাপদ মনে করছে না শ্রমিক নেতৃবৃন্দ
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 12:24 :: Wednesday September 4, 2019 Views : 203 Times

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান (বিজিএমইএ) বিজিএমইএ নেতৃত্বে একোর্ডের কার্যবলী হস্তান্তর কার্যক্রম প্রথমেই থাক্কা খেলো। একোর্ডের কার্যাবলী হস্তান্তর করে নিতে “আর.এম.জি. সাস্টেইনইবিলিটি কাউন্সিল” (আর.এস.সি) প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য নিয়ে ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বৈঠক করলেও সেখানে দেশিও শ্রমিক সংগঠনগুলোর জোরালো সমর্থন পায়নি। বৈঠকে ইন্ডাস্ট্রি আল এর অধীন ৬ সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও উপস্থিত ছিলেন মাত্র দুজন। যারা উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন, ইন্ডাস্ট্রি আল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল আনাম ও অন্যতম নেতা নাজমা আক্তার। আমিরুল হক আমিন, তৌহিদুর রহমান, সালাহ উদ্দিন স্বপন ও বাবুল আক্তারকে ডাকা হলেও তারা উপস্থিত হননি না।

বৈঠক শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, উক্ত বৈঠকে পক্ষগুলো ২০২০ সালের মে মাসের মধ্যে এ্যকোর্ড এবং এর সকল কার্যবলীর (পরিদর্শন, প্রতিকার, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তা-অভিযোগ প্রক্রিয়া) একটি সাবলীল হস্তান্তর নিশ্চিত করতে বিবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। আর.এস.সি. একটি অভুতপূর্ব জাতীয় উদ্যোগ যা দেশীয় শিল্প, ব্রান্ড এবং ট্রেড ইউনিয়নকে একত্রিত করে একটি সমšি^ত কমপ্লায়েন্স এর মানদন্ড নিশ্চিত করবে, যা কিনা অদ্যাবধি অর্জিত সাফল্যকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে। পর্যায়ক্রমে এই আর.এস.সি. শিল্প সম্পর্ক কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত বিষয়গুলোকেও নিজেদের কার্যপরিধির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করবে।

এ ব্যাপারে ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল আনাম ফোনে বলেন, ২০০০ সালের বাংলাদেশে বাংলাদেশে একোর্ড এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এ ব্যাপারে চলতি বছরের মে মাসে একোর্ড এর সাথে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে। এ সবের ধারাহিকতায় এবং একোর্ডের এ পর্যন্ত অর্জিত সাফল্য ধরে রাখতে একটি কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন। সে কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে উদ্যোগের ফসল হলো “আর.এম.জি সাস্টেইনইবিলিটি কাউন্সিল” (আর.এস.সি) গঠনের প্রয়াস। এ জন্য ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আলাপ আলোচনা করা হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো চুড়ান্ত হয়নি। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর ইন্ডাস্টি অল এর বৈঠকে হবে। এরপর ৮ তারিখে আবার বৈঠক আছে। তিনি জানান, সংগঠনের আরও কয়েকজন নেতার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা উপস্থিত হননি। তবে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর ইন্ডাস্ট্রি আল এর বৈঠক আছে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এদিকে একোর্ডের মেয়াদ শেষে প্রতিষ্ঠানটির এ পর্যন্ত করা কাজগুলো ধরে রাখার জন্য শ্রম মন্ত্রণালয় পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেখানেও একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ইন্ডাস্ট্রি আল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের তৈরি পোশাক শিল্প চালাবে বিজিএমইএ। এ ধরনের কিছু হলে বিজিএমইএ এর অংশ গ্রহণ থাকতে হবে। থাকতে হবে ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দকেও। আমরা যেটা জেনেছি সেখানে বিজিএমইএ বা শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে রাখা হয়নি। বিজিএমইএ উৎপাদন করবে, রপ্তানি করবে। একোর্ডের কার্যাবলি হস্তান্তর হলে সেখানে মালিকদের প্রতিনিধি রাখা প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে তা রাখা হয়নি। আবার আমাদের শ্রমিক সংগঠনকেও রাখা হয়নি। ট্র্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে না রাখা হলে আমরা তা মেনে নিতে পারি না।


বিজিএমইএর এ ধরনের উদ্যোগকে অধিকাংশ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সমর্থন করেন না। তারা বিজিএমইএর এর এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের মতে, একোর্ডের মত আন্তর্জাতিক ও আইন দ্বারা তৈরি সংগঠনকে শুধু বিজিএমইএ এভাবে নিতে পারে না। একোর্ডের কার্যভার হস্তান্তর করে নিতে হলে সরকার, বিজিএমই এবং শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধির সমš^য়ে নিতে হবে।

এ বিষয়ে গার্মেন্টস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি বাবুল আক্তার এই প্রতিবেদককে বলেন, বিজিএমইএ এর এ ধরনের উদ্যোগকে আমরা কোনভাবেই সমর্থন করতে পারি না। একোর্ডের কার্যাবলী হস্তান্তর করে নেওয়ার প্রয়োজন হয় তাহলে তা বিজিএমইএ নেতৃত্বে কেনো? এটা হতে হবে সরকার, ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ, বিজিএমইএ ও নিরপেক্ষ এক্সপার্ট বলে পরিচিত প্রতিষ্ঠান বা মানুষের সমš^য়ে করতে হবে। আর.এস.সি. গঠনের ব্যাপারে বিজিএমইএ যা করার চেষ্টা করছে তা করলে আরসিসি হবে বিজিএমইএ নিয়ন্ত্রিত একটি সংগঠন। কোর্ড এ পর্যন্ত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও শ্রমিকের পেশাগত স্বার্থ রক্ষার যে অগ্রগতি সাধন করেছে বিজিএমইএ নিয়ন্ত্রিত আরএসসিতে তা ধারাহিকতা রক্ষা করবে না। আরএসসিতে শ্রমিক সংগঠনের কথা বলা হচ্ছে, এখানে কিশের ভিত্তিতে ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী নির্ধারণ করা হচ্ছে-এ ব্যাপারেও প্রশ্ন আছে। সরকারের নেতৃত্বে এ ধরনের কার্যক্রম হলেও শ্রমিক সংগঠনগুলো দাবি করার জায়গা থাকবে। বিজিএমইএ নেতৃত্বে একার্ডের কার্যাবলি হস্তান্তর হলে তৈরি পোশাক শিল্পে এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে তা পুরোপুরি থেমে যাবে।

ট্রেড ইউনিয়ন নেতা হিসাবে যদি সমর্থন করতে হয় তাহলে প্রথম সমার্থন করতে হবে ট্রেড ইউনিয়নকে কার্যকর করতে হবে। তারপর একোর্ডকে। তারপর আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিলকে (আরসিসি)। আরএসসিকে নয়। বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি শুকুর মাহমুদ। তিনি বলেন, শুনেছি এমন কিছু হচ্ছে। বিষয়টি পুরো জানার পর মন্তব্য করবো।


তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক ও শিল্পের স্বার্থে যাই হোক তা স্বচ্ছ ও জবাবদিহির উপর জোর দিয়েছেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র কুমার। তিনি বলেন, সবার আগে তৈরি পোশাক শিল্পে ট্রেড ইউনিয়ন নিশ্চিত করতে হবে। তৈরি পোশাক শিল্পে ট্রেড ইউনিয়ন কার্যকর না থাকার কারণে একোর্ড বা এলায়েন্সের প্রয়োজন হয়েছিল। তারা এ খাতে কিছু উন্নতিও করেছে। তারা যা করেছে তাদের ব্যবসায়ীক স্বার্থে। তৈরি পোশাক শিল্প ও শ্রমিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সরকারি যে সব প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলোর গার্মেন্টস মালিকদের এজেন্ট হয়ে কাজ করছে। একোর্ডে যেখানে এবং যেভাবেই হস্তান্তর হোক সবার আগে ট্রেড ইউনিয়ন কার্যকর করতে হবে।


এ ব্যাপারে বাংলাদশে পোশাকশল্পি শ্রমিক ফেডারশনের সভাপতি তৌহিদুর রহমান বলেন, একোর্ড একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। এ উদ্যোগের ফলেই দেশে তৈরি শিল্পে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। একোর্ড নিয়ে আমাদেও মধ্যেও মতবিরোধ আছে। তারপরও একোর্ডেও কাজের কারণে আমাদের তৈরি পোশাক নতুন করে ব্র্যান্ডিং হয়েছে। এর ফলে পোশাক শিল্পে একটি নিরাপত্তা চলে এসেছে। কিন্তু এই আন্তর্জাতিক বহুজাতিক উদ্যোগ একোর্ডকে যারা স্থানীয় উদ্যোক্তারা ‘টেকওভার’ করতে চাইছে তাদের এটা টেকওভার করার ক্যাপাসিটি অর্জন করেছে বলে সন্দেহ আছে। বিজিএমইএ এক ধরণের কাড়াকাড়ি করছে। আমরা মনে করি এটা ঠিক হচ্ছে না। তবে একোর্ডকে তো এক সময় চলেই যেতেই হবে। এ জন্য সরকারকেই প্রধান উদ্যোক্তার ভূমিকা নিতে হবে। কারণ হলো ইমপ্লিমেন্টেশনের ক্ষমতা একমাত্র সরকারের থাকে, রাষ্ট্রের থাকে। এসোসিয়েশন নিজের উদ্যোগে অনেক কিছু করতে পরে। তাই বলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে ধারণ করার ক্ষমতা থাকে না। আজকে বিজিএমইএ যে বৈঠক বা উদ্যোগ নিয়েছে তাতে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এখস প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বিজিএমইএ কী সরকারের সমান্তরাল?



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution