sa.gif

সরকারিভাবে পোশাক শ্রমিকরা দক্ষিণ কোরিয়ায যাবে
আওয়াজ ডেস্ক :: 14:19 :: Saturday August 31, 2019 Views : 29 Times

এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় শিল্পোত্পাদন ও সেবা খাতে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর সরকারি খরচে কয়েক হাজার দক্ষ কর্মী দক্ষিণ কোরিয়া যায়। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্টের (এইচআরডি) সহযোগিতায় এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশ থেকে বৈধ উপায়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় দক্ষ কর্মী পাঠানোর একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মুখপাত্র এবং প্রতিষ্ঠানটির উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন, এইচআর ও অর্থ) নূর আহমেদ জানান, ২০০৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কোরিয়া সরকারের এইচআরডি এবং বাংলাদেশের বোয়েসেলের সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সাল থেকে বোয়েসেল দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে, যা এখনো চলছে। ২০০৮ থেকে ৩০ জুন ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার কর্মী পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২২১৫ জন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২০১২ জন কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়েছে। ২০১৯ সালেও ৩১০০ কর্মীর চাহিদার কথা জানিয়েছেন সে দেশের এইচআরডি কর্তৃপক্ষ। ২০২০ সালে তাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯-এর চেয়ে কর্মীর চাহিদার সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।

 যেসব খাতে কাজের সুযোগ :

ম্যানুফ্যাকচারিং বা উত্পাদন খাতে বোয়েসেলের মাধ্যমে পাল্পশিল্প, কাগজশিল্প, কাঠশিল্প, প্লাস্টিক শিল্প, মেশিনারিজ, মোল্ডশিল্প, কেমিক্যালশিল্প, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস শিল্প, পনির ও খাদ্যপণ্য শিল্প, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টশিল্প এবং মেটালশিল্পে সবচেয়ে বেশি লোকবল নিয়ে থাকে দক্ষিণ কোরিয়ার এইচআরডির অধীন কম্পানিগুলো। এ ছাড়া নির্মাণশিল্প খাত, কৃষি ও পশুপালনশিল্প, মত্স্যশিল্প ও সেবাশিল্প খাতেও দক্ষ কর্মী নিয়ে থাকে নিয়োগসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

 

যে সব যোগ্যতা থাকতে হবে:

দক্ষিণ কোরিয়ায় কারা কাজে যেতে পারবে বা কী যোগ্যতা থাকতে হবে, এ প্রসঙ্গে নূর আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজে যেতে আগ্রহী তরুণকে প্রথমেই শিখতে হবে কোরিয়ান ভাষা। এরপর থাকতে হবে ভিত্তিমূলক কাজের দক্ষতা, শারীরিক যোগ্যতা, প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং একই সঙ্গে থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট খাতে কাজের বা চাকরির অভিজ্ঞতা। ১৮-৩৯ বছর বয়সী নারী বা পুরুষ উভয়ই আবেদনের যোগ্য। কোনো ধরনের ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত বা বিদেশযাত্রায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা আছে অথবা পূর্বে কোরিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থান করেছিল—এমন প্রার্থীরা রেজিস্ট্রেশনের অযোগ্য। হতে হবে মেডিক্যালি ফিট এবং থাকতে হবে মেয়াদসহ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট।’ তিনি আরো জানান, শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে চাকরির অভিজ্ঞতা এবং ভোকেশনাল ট্রেনিং সনদ আছে—এমন প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবে।

 

শুরুতেই রেজিস্ট্রেশন

কোরিয়ায় কাজে যেতে চাইলে শুরুতেই করতে হবে অনলাইনে প্রি-রেজিস্ট্রেশন।

কোরিয়া সরকারের এইচআরডি বিভাগের শিডিউল অনুসারে অনলাইনে প্রি-রেজিস্ট্রেশন, ভাষা পরীক্ষার সময়সূচিসহ বিস্তারিত তথ্য বোয়েসেল জাতীয় দৈনিকে, বোয়েসেলের ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডের মাধ্যমে জানানো হয়। সাধারণত প্রতিবছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চলে। তবে ২০২০ সালের প্রার্থীদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া ২০১৯ সালের শেষের দিকে কিংবা ২০২০ সালের শুরুর দিকে হতে পারে। কোরিয়ান ভাষা জানা যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীরা বোয়েসেলের ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। রেজিস্ট্রেশন করা প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হলে লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত সংখ্যক প্রার্থীকে বাছাই করবে কর্তৃপক্ষ। চূড়ান্ত রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রার্থীর পাসপোর্ট অনুসারে তথ্য, ছবি ও পাসপোর্টের কপি এইচআরডি কোরিয়ার ডাটা বেইস সার্ভারে আপলোড করা হবে। রেজিস্ট্রেশন ও কোরিয়া যাওয়ার যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে বোয়েসেলের ওয়েব লিংকে— www.boesl.org.bd/EPS-NoticeBoardKorea.aspx

বোয়েসেলের ফেসবুক পেজেও (facebook.com/boesl.gov.bd) পাওয়া যাবে দরকারি তথ্য।

বাছাই পরীক্ষা পদ্ধতি

নূর আহমেদ জানান, যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে এইচআরডি কোরিয়া কর্তৃপক্ষ অনলাইনের মাধ্যমে দুটি মডিউলে (রিডিং ও লিসেনিং) কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষা নেয়। অনলাইনের মাধমে মোট দুটি ধাপে এই পরীক্ষা নেয় কোরিয়ার এইচআরডি কর্তৃপক্ষ। প্রথম ধাপে নেওয়া হয় কম্পিউটার বেইজড এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস টপিক) পরীক্ষা। ইপিএস টপিকে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের স্কিল টেস্ট ও কম্পিট্যান্সি টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। দুই ধাপ পেরোনো প্রার্থীদের প্রাপ্ত স্কোর যোগ করে সর্বোচ্চ নম্বরের ক্রমানুযায়ী নির্ধারিত সংখ্যক প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত কর্মীর কোরিয়া যাওয়ার মেয়াদ থাকে দুই বছর। এ সময়ের মধ্যে কোরিয়ান কোনো কম্পানি তাকে বেছে না নিলে প্রার্থীর বয়স থাকা সাপেক্ষে আবার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। বাছাইয়ের নানা বিষয় দেখা যাবে এই ইউটিউবে— www.youtube.com/watch?v=riLQNKLc5JI

 

খরচাপাতি লাগবে যেমন

এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় জি টু জি পদ্ধতিতে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার জন্য যোগ্য হওয়ার পর বিমানভাড়াসহ সব মিলে প্রায় ৮৫ হাজার টাকার মতো খরচ হতে পারে। যোগ্য একজন কর্মীকে ভিসা ফি ও সার্ভিস চার্জ, সার্ভিস চার্জের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট, বহির্গমন ছাড়পত্রের জন্য কল্যাণ তহবিল ফি, বহির্গমন ছাড়পত্রের জন্য উেস আয়কর, স্মার্টকার্ড ফি, বোয়েসেল ডাটা বেইস রেজিস্ট্রেশন ফির মোট ৩৩০৩৪ টাকা ‘বোয়েসেল, ঢাকা’ বরাবর পে-অর্ডার সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, মগবাজার শাখায় জমা দিতে হবে। জেনারেল কম্পিউটার বেইজড টেস্ট (সিবিটি) কর্মীদের ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল’ বরাবরে ১১৪৫ টাকার আলাদা একটি পে-অর্ডার জমা দিতে হবে। তবে প্রার্থীকেই বিমানের টিকিট ক্রয় করতে হবে।

 

বেতন-ভাতা যেমন হবে

কোরিয়া যাওয়ার সব প্রক্রিয়া শেষে বৈধভাবে একজন কর্মী চার বছর ১০ মাস সে দেশে কাজের সুযোগ পাবে। ওই সময় শেষে সেখানের নিয়োগকারী কোনো কম্পানি যদি আবার ওই কর্মীকে রাখতে ইচ্ছুক থাকে এবং লেবার কন্ট্রাক্ট প্রদান করে, তবে তারা কমিটেড ওয়ার্কার হিসেবে দেশে ফিরে তিন মাসের ছুটি ভোগ করে আবার কোরিয়ায় কাজে যেতে পারবে। এ ছাড়া যেসব কর্মী চার বছর ১০ মাস কাজ শেষে চলে এসেছে; কিন্তু আসার সময় কোনো লেবার কন্ট্রাক্ট পায়নি, তারা স্পেশাল সিবিটির আওতায় বিনা লটারিতে কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় পাস করে রোস্টারের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। কাজের ক্ষেত্রভেদে বেতন পাওয়া যায় এক লাখ থেকে দুই লাখ বা তারও অধিক বাংলাদেশি টাকা। কোরিয়ায় কর্মী থাকাকালে কোরিয়া সরকারের শ্রম আইন অনুসারে ছুটি, ফেস্টিভাল বোনাসসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ডিপার্চার গ্যারান্টি এবং নিয়ম অনুসারে পূর্ণ মেয়াদকাল শেষে দেশে ফিরে আসার সময় ইনস্যুরেন্স ও অবসর ভাতার সুবিধা দেওয়া হবে।

 যোগাযোগ : রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে কাজে যাওয়া পর্যন্ত যাবতীয় বিষয়ে যোগাযোগ করতে হবে বোয়েসেলের ইপিএস শাখার কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে।

বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল),

প্রবাসী কল্যাণ ভবন (৫ম তলা), ৭১-৭২ ইস্কাটন গার্ডেন রোড (পুলিশ কনভেনশন হলের পাশে), রমনা, ঢাকা-১০০০।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution