sa.gif

এরশাদের অবর্তমানে রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা বন্ধ হবে না
সেরাজুল ইসলাম সিরাজ :: 23:25 :: Friday August 2, 2019 Views : 499 Times

এরশাদ মারা গেলেও তার চালু করা রানা প্লাজার নিহত গার্মেন্টস শ্রমিকের স্বজন, ও আহতদের জন্য চালু করা অর্থ সহায়তা বন্ধ হবে না। এরশাদের জীবদ্দশায় প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্ট থেকে এ সব শ্রমিকদেরে সহায়তা দেওযা হবে। মাসে যে টাকা দেওয়া হতো এ অর্থ দেওয়া হবে। অন্যতম ট্রাস্টি মেজর (অব.) খালেদ আখতার এ খবর নিশ্চিত করেছেন।


গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা অলরেডি এর কাজ শুরু করে দিয়েছি। কিছু কাগজপত্র রেডি করতে হয়। সেই কাজ চলমান রয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই ’হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্ট’ কাজ শুরু করবে।

খালেদ আখতার বলেন, এই ট্রাস্ট মেইনলি এরিক এরশাদের সেফটির জন্য গঠিত। তার ভরণ-পোষণ শেষে উদ্বৃত্ত অর্থ সমাজকল্যাণে ব্যয় হবে। প্রশ্ন ছিলো রানা প্লাজা ও তাজরীন গার্মেন্টসে নিহতের স্বজন ও আহতদের মাসে মাসে যে টাকা দেওয়া হতো তার কি হবে।

জবাবে এই ট্রাস্টি বলেন, ট্রাস্টে তাদের বিষয়ে কোনো দিক নির্দেশনা না থাকলেও মানবিক এরশাদ মৌখিকভাবে আমাদের বলে গেছেন- এই দরিদ্র পরিবারগুলোকে মাসে মাসে টাকা প্রদান যেনো অব্যাহত থাকে। এসব পরিবারকে হয়তো মাসে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হতো। সেগুলো অব্যাহত থাকবে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে তার সকল স্থাবর অস্থাবর ট্রাস্টের নামে উইল করে দেন। এতে রয়েছে ১৫ কোটি টাকার এফডিআর, রংপুরের পদাগঞ্জে অবস্থিত পল্লীবন্ধু কোল্ড স্টোরেজ, বারিধারার ফ্লাট (প্রেসিডেন্ট পার্) গুলশানের ফ্লাট, বনানী বিদ্যানিকেতনের বিপরীতে অবস্থিত একটি ফ্লাট, বনানী ইউআই শপিং কমপ্লেক্সের দু’টি দোকান, ৬৫ শতক জমির উপর প্রতিষ্ঠিত রংপুর শহরের বাসভবন (পল্লী নিবাস) ও নিজের নামে কেনা ৫টি গাড়ি।

কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের সময়ে চাচাতো ভাই সামছুজ্জামান মুকুলকে কিছু শেয়ার লিখে দিয়েছিলেন। সে কারণে পুরো কোল্ড স্টোরেজ ট্রাস্টে লিখে দিলেও এর থেকে প্রাপ্ত আয়ের ২০ শতাংশ হিস্যা মুকুলের নামে দিয়েছেন। আর ৮০ শতাংশ মুনাফা যাবে ট্রাস্টের ফান্ডে। তবে কোল্ড স্টোরেজের মূলধনে মুকুলের কোনো শর্ত রাখা হয় নি।

ট্রাস্ট গঠনকালে এরশাদের নামে কোন কৃষি জমি ছিল না। এক সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্মগড়ে ১২০ বিঘার মতো কৃষি জমি ছিলো। সেই জমি অনেক আগেই এতিমদের নামে লিখে দিয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠিত এতিমখানায় অধ্যয়ন করা অনাথদের জন্য এই জমি ১০ বিঘা করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

উইলে বলা হয়েছে ট্রাস্টে ৫ সদস্যের বোর্ড থাকবে। এতে এরশাদ নিজেও ছিলেন। আর অন্যরা হলেন- ছেলে এরিক এরশাদ, ভাতিজা মেজর (অব.) খালেদ আক্তার, ব্যক্তিগত সহকারি জাহাঙ্গীর আলম ও চাচাতো ভাই সামছুজ্জামান মুকুল (রংপুরের বাসার কেয়ারটেকার)।

এরশাদ যতদিন বেঁচে থাকবেন তিনি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান থাকবেন। তার অবর্তমানে বোর্ড বসে সিদ্ধান্ত নেবেন কে চেয়ারম্যান হবেন। বোর্ডের সদস্য সংখ্যা পূরণের জন্য বাইরে থেকে একজনকে সদস্য অথবা চেয়ারম্যান মনোনয়ন দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে বোর্ডের হাতে।

এরশাদ নেই এখন চেয়ারম্যান কে হবে, আর নতুন ট্রাস্টি হিসেবে কাকে নেওয়া হচ্ছে। এ প্রশ্নে খালেদ আখতার বলেন, এসব বিষয়ে এখনই কোনো আলোচনা হয় নি। ট্রাস্টের মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মুনাফার অর্থে পরিচালিত হবে এই ট্রাস্ট। ট্রাস্টের মুনাফায় প্রথমত ব্যয়িত হবে এরিক এরশাদের ভরণপোষণে। সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে তার অবর্তমানে এরিকের ভরণপোষণের বিষয়টি।

এরিকের পরবর্তী প্রজন্মও (যদি থাকে) এখান থেকে সুবিধা প্রাপ্ত হবেন। তবে এরিকের পরবর্তী প্রজন্ম না থাকলে সে ক্ষেত্রে পুরো সম্পদ চলে যাবে ওয়াকফ এস্টেটের অধীনে।

ট্রাস্টিদের কোনো রকম সম্মানী বা ভাতা প্রদানের সুযোগ রাখা হয় নি। তারা কাজ করবেন স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে। ট্রাস্টের স্থাবর অস্থাবর সম্পদ বিক্রি বা মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষমতা রোহিত করা হয়েছে।

এরিকের ভরণ-পোষণের পর উদ্বৃত অর্থ সেবামূলক কাজে ব্যয় হবে। এক্ষেত্রে হঠাৎ কোনো মানবিক বিপর্যয় দেখা দিলে, প্রাকৃতিক দুর্যোগর শিকার হলে তাদের পাশে দাঁড়াবে ট্রাস্ট। দুস্থ অসহায়, এতিমদের আজীবন ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যেহেতু এফডিআর থেকে বছরান্তে আয় আসবে, সে কারণে বছরান্তে একবার অডিট করার বিধান রাখা হয়েছে।

এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় রানা প্লাজায় আহত ৮ জন, তাজরীন গার্মেন্টসে নিহতের ৩ পরিবারসহ মোট ৪৩ জনকে প্রতিমাসে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতেন। ব্যাংক টু ব্যাংকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা প্রদান করেন।

যা তার সংসদের সম্মানির তহবিল থেকে সরবরাহ করে থাকেন। সংসদের বেতন কখনই নিজের জন্য নেন নি। সব সময় গরীব অসহায়দের বিলিয়ে দিয়েছেন। বরং অন্য খাত থেকে আরও বাড়তি অর্থের সংস্থান করতে হয়েছে।

প্রয়াত এরশাদের অর্থে অনেক আগে থেকে মকবুল হোসেন ট্রাস্ট নামে অপর একটি ট্রাস্ট পরিচালিত হয়ে আসছে। পিতা মকবুলের হোসেনের নামে প্রতিষ্ঠিত ওই ট্রাস্টের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে মকবুল হোসেন মেমোরিয়াল ডায়বেটিস এন্ড জেনারেল হাসপাতাল।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution