sa.gif

" ৬০ ভাগ নয়, পুর্ণবেতন দিতে হবে ও শ্রমিকের রেশন দিতে হবে"
আ্ওয়াজ ডেস্ক :: 15:10 :: Sunday May 3, 2020 Views : 173 Times

মহামারি করোনাভাইরাসের বিপর্যয় থেকে গার্মেন্ট শ্রমিক ও শিল্প বাঁচাতে আক্রান্ত শ্রমিকের যথাযথ দায়িত্ব গ্রহণ ও শ্রমিকদের রেশনের দাবি জানিয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক অধিকার আন্দোলন। শনিবার ২ মে রবিবার প্রধানমন্ত্রী বরাবার ৬দফা দাবি সম্বলিত এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানো হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গার্মেন্টস রপ্তানি শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ খাতে প্রায় ৪০ লক্ষ শ্রমিক কর্মরত এবং তাদের উপর নির্ভরশীল রয়েছে তাদের পরিবারসমূহ। ফলে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে এ খাতের উপর নির্ভরশীল হয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বৃহৎ অংশ। অথচ এ খাতের মালিকদের শুধু মুনাফা কেন্দ্রিক চিন্তা-ভাবনা করার কারণে এ শিল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়ে যাচ্ছে।

গত ২৯ এপ্রিল শ্রমপ্রতিমন্ত্রী এক বৈঠক থেকে শ্রমিকদের লে অফ ছাঁটাই না করার ঘোষণা দেন এই বৈঠক সম্পর্কে জোটভুক্ত সংগঠনের শ্রমিকনেতাদের জানানো হয়নি অভিযোগ উল্লেখ করে স্মরকলিপিতে বলা হয়, সরকার নির্ধারিত সাধারণ ছুটির আওতায় থাকা অবস্থায় ৪০% বেতন কর্তন আইন ও ন্যায় বিচারের কোন চুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য নয়। অধিকিন্তু, আমরা মনে করি ৬০% বেতনে পরিবার পরিজন নিয়ে শ্রমিকদের চাহিদা পুরণ সম্ভব না। সরকার যেহেতু সরকারী কর্মকর্তাদের শতভাগ বেতনের দায়িত্ব নিয়েছে; সেহেতু শ্রমিকদের করোনাকালে বিপদে না ফেলে এবং কোন বেতন ভাতা কাট-ছাঁট না করে ১০০% ভাগ বেতন ও বোনাস প্রদানের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে বিশেষভাবে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বাংলাদেশের শ্রমিক-কর্মচারীদের বিশেষভাবে বিশ্ববাজার অংশ হিসেবে, করোনা ভাইরাস মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন সরকারিভাবে ১০০% পরিশোধ করারসহ ৬দফা দাবি তুলে প্রধানমন্ত্রী বরাবর তুলে ধরা হয়। দাবিসমূহ:

(১) ৬০% নয় সকল গার্মেন্টস শ্রমিকদের ১০০% বেতন-ভাতা দিতে হবে (করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত)। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসা এবং করোনা মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্ততি ও যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া কারখানা বন্ধ রাখতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার প্রদত্ত ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার প্রণোদনা/ বরাদ্দ হতে ১২ হাজার কোটি টাকা গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরির জন্য নির্দিষ্ট করতে হবে। মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে হবে। যাদের এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন নেই, সেইসব শ্রমিকদের বেতন দিতে বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে।

(২) মহামারী দুর্যোগের এই সময় কোন লে-অফ, অব্যহতি বা ছাঁটাই করা যাবে না। এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট পরিপত্র জারি করতে হবে। শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও জীবিকা নিরাপত্তায় মালিক, সরকার, বায়ার উদ্যোগী হয়ে ‘জরুরী স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা’ তহবিল গঠন করতে হবে। যে তহবিল থেকে স্বাস্থ্য নিরাপত্তাসহ শ্রমিকের জীবিকার উপর হুমকী আসলে তা মোকাবিলা করা হবে।

(৩) আইইডিসিআর যাতে দ্রুত করোনা শনাক্ত এবং মৃত শ্রমিকদের পরিচয় ও তথ্য এবং তালিকা প্রকাশ কর সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। যেসব শ্রমিক ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের আইসোলেশন ও যথাযথ চিকিৎসার সমুদয় দায়িত্ব সরকার, মালিক ও বায়ারকে পূর্ণভাবে বহন করতে হবে।

(৪) গার্মেন্টস শ্রমিকদের রেশনিং কার্ডের মাধ্যমে চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী স্বল্প মূল্যে প্রদান করতে হবে।

(৫) জরুরি অবস্থায় পিপিই (ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী) তৈরী করার জন্য অল্প সংখ্যক কারখানা সুনিদিষ্ট করে তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এ কাজে যেসব শ্রমিকদের ব্যবহার করা হবে, তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাসহ ঝুঁকি ভাতা ও ১০ লক্ষ টাকার জীবন বীমা প্রদান করতে হবে।

(৬) ময়মনসিংহের ভালুকায় নিহত শ্রমিকগণসহ করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া সকল শ্রমিকদের এক জীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। সরকার, মালিক এবং বায়ার ৩ পক্ষকে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।


স্মারকলিপি প্রদান করেন গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন এর সভাপতি এড. মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার লিমা, বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, গার্মেন্টস শ্রমিক সভার সভাপতি শামসুজ্জোহা, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি মাহমুদ হোসেন, বাংলাদেশের সোয়েটার গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এএএম ফয়েজ হোসেন, বিপ্লবী গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অরবিন্দু বেপারী বিন্দু ও গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলন সংগঠক বিপ্লব ভট্টাচার্য।


একই সাথে স্মরকলিপিটির অনুলিপি অনুলিপি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবার প্রেরণ করা হয়। দাবিসমূহ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান হয়।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
11/1/B, Kobi Josimuddin Road, Uttor Komlapur,Motijheel, Dhaka-1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution