sa.gif

”গার্মেন্ট কারখানার ভেতর-বাহিরে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চত করতে হবে”
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 17:20 :: Friday May 1, 2020 Views : 416 Times

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি)সহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, পোশাক কারখানা চালুর ব্যাপারে সরকার নয়, মালিকরা যা চাচ্ছে তা হচ্ছে। শ্রমিকরা এখন উভয় সংকটে আছে। কারখানা চালু না করলে না খেয়ে মরবে। আর চালু করলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিপদগ্রস্থ হবে। তাই কারখানা চালু করার ক্ষেত্রে কারখানার ভেতের ও বাইরে শ্রমিকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে শ্রমিকরা নিরাপদের সাথে কাজ করতে পারে।

সহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সরকারকে কঠোর হতে হবে। সরকারের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ সব প্রতিষ্ঠান গার্মেন্টস মালিকরা গার্মেন্টস মালিকরা যা বলছে তা মানছে,সরকার যা বলছে, করতে চাইছে-এ সব প্রতিষ্ঠানকে তা মানতে হবে।

মে দিবসের সামনে করে এই নেতা বলেন, এবারের মে দিবস এসেছে ভিন্ন রকম পরিবেশে। করোনা পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তাই বিশ্ব শ্রমিক ফেডারেশন করোনা সতর্কতা মেনেই স্বল্প পরিসরে মে দিবসের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।
একই নির্দেশনার আলোকে বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হবে। তবে দিবসটি যেভাবেই পালিত হোক বা যে যেখানেই থাকুক না কেন, এই দিবসে লাল পতাকা হাতে শ্রমিকের মুক্তির সংগ্রাম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার থাকবে, তিনি যোগ করেন।

এই প্রবীন নেতা বলেন, বাংলাদেশে শ্রমিক ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এলেও শ্রমজীবী মানুষের জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। এ ক্ষেত্রে পাটকল, গার্মেন্টসহ প্রাতিষ্ঠানিক খাতের সোয়া কোটি শ্রমিকের জীবনে কিছু শৃঙ্খলা এলেও দিনমজুরসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের পাঁচ কোটিরও বেশি শ্রমিক এখনো অবহেলিত।

গার্মেন্ট শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা নিয়ে চলছে নানা টালবাহানা। পাটকল শ্রমিকরা এখনো মজুরিবঞ্চিত। প্লাস্টিক ও সিরামিক শ্রমিকদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেই। কৃষি শ্রমিকরা হিসাবের বাইরে আছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকার শ্রমজীবী মানুষের জন্য সহায়তার ঘোষণা দিলেও সে বিষয়ে নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, প্রায় সাত কোটি শ্রমজীবী মানুষ এখন মহাসংকটে আছে।
সহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশের শ্রমজীবী মানুষ উভয়সংকটে আছে। একদিকে কাজে যোগ দিলে করোনা সংক্রমণের ভয়; যে ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রাণহানি ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। আবার কাজে যোগ না দিলে খাদ্যসংকটে পরিবার-পরিজন নিয়ে মৃত্যু হবে। এই সংকট থেকে শ্রমিকদের রক্ষায় সরকার ও মালিকপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। বরং মালিকপক্ষ ধনী হওয়ায় এবং রাষ্ট্রীয় নীতিতে তাদের ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকায় দেশে শ্রমিক বঞ্চনা বাড়ছে।

বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি বলে দিচ্ছে, দেশে দুর্ভিক্ষ আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে দেশে খাবার থাকলেও টাকার অভাবে মানুষ তা কিনতে পারবে না। সেই দুর্ভিক্ষ থেকে রক্ষা ও চলমান সংকট মোকাবেলায় অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। ১৯৪৩ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত দেশে দুর্ভিক্ষ ছিল। রেশন ব্যবস্থা চালু করায় সেই দুর্ভিক্ষ থেকে মানুষ রক্ষা পেয়েছিল। ১৯৪৫ সালে চালু হওয়া সেই রেশন ব্যবস্থা আশির দশক পর্যন্ত বহাল ছিল। এখন শ্রমিকদের জন্য সেই ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।


তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের রক্ষাসহ পুরো করোনা সংকট মোকাবেলায় ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে; যারা আমাদের পরে স্বাধীন হয়েও অনেক দূর এগিয়েছে। কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ায় আক্রান্ত ও মৃত্যুহার ভিয়েতনামে অনেক কম। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে স্বাস্থ্য খাতকে নতুন করে সাজাতে হবে। তাই বিশ্ব ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের দাবি অনুযায়ী ‘সকলের জন্য নিরাপদ ও বিনা মূল্যে ভ্যাকসিন এবং শ্রমিকের স্বাস্থ্য, মুনাফার ঊর্ধ্বে’ তুলে ধরতে হবে।


আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হলেও সেই ঐক্য ও দৃঢ়তা নিয়ে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। আর এই পরিস্থিতিতে শ্রমিক শ্রেণি মে দিবসের চেতনাকে সামনে রেখে লড়াই অব্যাহত রাখবে বলে আশা করি।


(সহিদুল্লাহ চৌধঘুরী: সভাপতি, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। সাবেক সভাপতি: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি)

 



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution