sa.gif

গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করে রমেচা এখন ভাল আছে
অনুলিখন মুহাম্মদ কামরুজ্জামান :: 11:10 :: Thursday June 13, 2019 Views : 310 Times

আমার নাম রমেচা। আমার বাড়ি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানায়। আমি এখন গাজীপুরের একটি কারখানায় চাকরি করি। এক সময় খুব কষ্ট ছিল। এখন চাকরি করে ভাল আছি।
৩ ভাই ৩ বোন তার মাঝে আমি ছিলাম বড়। আমাদের পরিবারের অবস্থা বেশি ভালো ছিলো না, এজন্য পড়াশুনা করতে পারি নাই। বাবা কৃষি কাজ করতেন। আমি যেহেতু পরিবারের বড়, মেয়ে হয়ে যতটুকু পারতাম বাবাকে সাহায্য করতাম। স্কুলে যেতে আমার ইচ্ছা ছিল কিন্তু যেতে পারতাম না, বাবা-মাকে কাজে সাহায্য করতে হতো। তবে আমার ছোট ভাইবোনরা একটু পড়াশোনা করতে পেরেছে।


পরিবারে আমি যেহেতু বড় এজন্য বাড়ির কাজ-কর্ম আমার-ই করতে হতো। সব মিলে আমরা মোটামুটি ভালই ছিলাম। বাবা-মায়ের পছন্দ মত পাশের গ্রামে আমাকে বিয়ে দেয়। ¯^ামীর পরিবারটা ভালই ছিলো। বিয়ের পর অনেক ভালই ছিলাম, আমাদের একটা সন্তানও হয়। ছেলের বয়স যখন ৩/৪ বছর। হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে আমার ¯^ামী মারা যায়। আর শুরু হয় আস্তে আস্তে কষ্টের দিনগুলা।


পরে কিছুদিন শশুর শাশুড়ি আমাকে দেখে রাখে। কিন্ত কয়দিন আর রাখবে - এ কথা ভেবে বাবা-মা-ভাই আমাকে নিয়ে আসে। ভাইয়েরা বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে। আবার একটা বোন বিয়ে দিতে হবে। বোনটি বাবা-মার সাথে থাকতো। ভাইয়েরা যে খরচা টাকা দিতো আমাদের চলতে কষ্ট হয়ে যেত। আবার ছেলেটা বড় হচ্ছে পড়াশোনা খরচ কোথায় পাবো। নিজেরও চলতে হবে, বাবা-মা এর সাথে আর কয়দিন থাকবো !


আমার পরিচিত পাশের গ্রামের একটা (বোনের ছেলে) ভাগ্নে ঢাকায় থাকে। গার্মেন্টস এ চাকরী করে জানতাম। ওর সাথে যোগাযোগ করে আমিও ঢাকা আসি। ভাগ্নের সাথে যোগাযোগ করার পর পরই কথা বলে রেখেছিল। কথামত হেলপার পদে চাকরি হয়। পরে ছেলেকে নিয়ে এসে একটা স্কুলে ভর্তি করি। রুম ভাড়া, স্কুলের খরচ ও অন্যান্যা খরচ মোটামুটি চলতে থাকে, বাবা-ভাইদের কাছ থেকে আর নিতে হয় না।


একদিনে হঠাৎ করে বাবা-মারা যায়, ডিউটি অবস্থায় ফোন আসে বাবা আর নাই। তখনই ছুটি নিয়ে বাসায় আসি। কিন্ত বাড়ি যে যাবো গাড়ি ভাড়ার টাকা নাই। তখন মাসের শেষ। বাসার একজনের কাছে থেকে টাকা নিয়ে বাড়ি যাই।


বাড়ি থেকে ফিরে আবার ঢাকা আসি। তার একবছর পরে মা আমার কাছে বেড়াতে আসে। সাথে ছোট্ট বোনটাও আসে। আসার কয়েকদিন পরেই আমার বোন অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করি। মাকে আমার বাসায় রেখে আমি আসি যাই। আবার ডিউটি করি। হঠাৎ বোনটা মারা যায়। মা আর আমার ছেলে তখন আমার বাসায়, হাসপাতাল থেকে আমারা বাড়ি নিয়ে যাই। কিন্ত মা আর আমার ছেলে বাড়িতে আসবে গাড়ি ভাড়ার টাকাটাই নাই। কেমন করে আসবে? ঐ ভাগ্নের (বোনের ছেলে ) কাছে ফোন দিয়ে বললে পরে টাকা দেয়, পরে বাড়ি আসে।


সে সময় কিছুদিন অনুপস্থিত থাকার কারণে আমার চাকরিটা চলে যায়। পরে আবার আরেকটা গার্মেন্টস কারখানায় এ চাকরি নিই। তবে এখন ভালই আছি। চাকরি করে বাড়িতে জমিও কিনেছি। ছেলেটা এবার এসএসসি পরীক্ষা দিবে। এখন ছেলেটাকে নিয়েই বেঁচে আছি। ছেলেটা লেখাপড়া করে বড় হবে, চাকরি করবে, ভাল থাকবে-আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা।
৥ অনুলিখন মুহাম্মদ কামরুজ্জামান



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution