sa.gif

মামলা নিষ্পত্তিতে বাধা আইনি জটিলতা
জাহাঙ্গীর আলম :: 12:33 :: Wednesday May 1, 2019 Views : 106 Times

 পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন আজ। ১৮৮৬ সালের এ দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওই দিন তাদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে শ্রমিক শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সারা বিশ্বে প্রণীত হয় শ্রমিকের কল্যাণে আইন। বাংলাদেশেও শ্রমিক আইন প্রণীত হয় ২০০৬ সালে।

আইনে শ্রমিক নিয়োগ, মজুরি, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ, ট্রেড ইউনিয়ন, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও চাকরির অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় কীভাবে নির্ধারিত হবে তা প্রণীত হয়। এসব বিষয় নিষ্পত্তির জন্য গঠিত হয় আদালত। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালসহ সারাদেশের আটটি আদালতে সাড়ে ১৭ হাজারেরও বেশি মামলা বিচারাধীন।


আইনি জটিলতা, সদস্যদের অনুপস্থিতি ও আইনজীবীদের সময়ের আবেদনের কারণে শ্রম আদালতের মামলাগুলো সময়মতো নিষ্পত্তি হয় না। দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় মামলাজট বাড়ছে এবং মামলা করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা।

ঘটনা-১
বকেয়া পরিশোধ না করায় ক্ষুদ্র ঋণের প্রবক্তা ও বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক কর্মী আমির হোসেন। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে ঢাকার শ্রম আদালতে এ মামলা করেন তিনি। মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসানকেও আসামি করা হয়। এরপর আরও ৮৯টি মামলা করেন ওই প্রতিষ্ঠানের সাবেক ও বর্তমান কর্মীরা। মামলার দুই বছর পার হলেও এখনও শুরু হয়নি বিচারিক কার্যক্রম।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনে এক-তৃতীয়াংশ শেয়ার রয়েছে গ্রামীণ টেলিকমের। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব পল্লীফোন ছাড়াও নকিয়া ও হুয়াওয়ের সার্ভিস দিয়ে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা কর্মীদের মাঝে বণ্টন করে দেয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ টেলিকমের মুনাফা হয়েছে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু এ মুনাফা কর্মীদের পরিশোধ করা হয়নি। গত দশকে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফার ২১ হাজার কোটি টাকার ৫ শতাংশ অর্থাৎ ১০৮ কোটি টাকা কর্মী ও সরকারকে দেয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই অর্থের ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের পরিশোধ, ১০ শতাংশ সরকার এবং ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কল্যাণ ফান্ডে জমা দেয়ার কথা। কিন্তু তা দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে গ্রামীণ টেলিকমের কর্মী ও গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান বলেন, ‘শ্রমিকের অংশগ্রহণ তহবিল তথা ওয়ার্কার প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ডের (ডব্লিউপিপিএফ) বকেয়া পাওনা চেয়ে ৩য় শ্রম আদালতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে আমরা গ্রামীণ টেলিকম কর্মীরা ৯০টি মামলা করি। যেখানে ৬ মাসে রায় হওয়ার কথা, সেখানে গ্রামীণ টেলিকমকে আদালত বারবার জবাব দিতে বললেও তারা জবাব না দিয়ে শুধু সময় চেয়েছে। ফলে ২ বছর চলে গেলেও এখন পর্যন্ত মামলার শুনানি শুরু হয়নি। কিছু মামলা দীর্ঘায়িত করতে উচ্চ আদালতে নিয়ে গেছে। এখন শুধু আদালতে ঘুরে ঘুরে অর্থ ব্যয় করে নিঃস্ব হওয়ার যোগাড় আমাদের। জানি না কবে নাগাদ আমরা পাওনা বুঝে পাব এবং এর থেকে পরিত্রাণ পাব। সত্যি বলতে শ্রমিকের জন্য ন্যায়বিচার বড়ই কঠিন।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী জাফরুল হাসান শরীফ বলেন, ‘বকেয়া পরিশোধ না করায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ৯০টি মামলা করেন তার কর্মীরা। আইনি ব্যবস্থায় বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকায় মামলাগুলোর শুনানি শুরু করতে দেরি হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত আইনি সমস্যার সমাধান হবে। এরপরই মামলাগুলো বিচারের কার্যক্রম শুরু হবে।’

ঘটনা-২
প্রায় দেড় কোটি টাকা মজুরি পাওনার অভিযোগে সিটিসেলের পরিচালক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানসহ আটজনের বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি মামলা করেন কোম্পানির পাঁচ কর্মকর্তা। ২০১৭ সালের ৭ আগস্ট ঢাকার শ্রম আদালতে মামলাগুলো করেন সিটিসেলের কর্মকর্তা টিপু সুলতান, কাজী রুহুল কুদ্দুস, হাসান মাহমুদ, মোসাদ্দেক মিলন ও এ কে এম এহসানউল আজাদ। মামলার পর এখনও শুরু হয়নি বিচার।

বাদীপক্ষের আইনজীবী তানজীম আল ইসলাম বলেন, ‘সিটিসেলের বিরুদ্ধে মামলাটি আইনি জটিলতায় এখনও বিচার শুরু (সাক্ষ্য) হয়নি। আগামী ২৫ জুন মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। আশা করছি, সেদিন মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।’

শ্রম আইনে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লেবার কোর্টে একাধিক মামলা পরিচালনকারী আইনজীবী এ এস এম আনিছুজ্জামান (তুহিন) বলেন, ‘আইন অনুযায়ী শ্রম আইনের মামলা ৬০ দিনে নিষ্পত্তির নিয়ম। কিন্তু অধিকাংশ মামলা ৬০ মাসেও নিষ্পত্তি হয় না।’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘শ্রম আইন অনুযায়ী আদালতে দু’জন সদস্য থাকেন। তাদের অনুপস্থিতির জন্য অনেক সময় মামলা বিলম্ব হয়। আবার অনেক সময় মালিকপক্ষের অনুরোধে আইনজীবীরা বিলম্ব করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় মামলাজট বাড়ছে এবং মামলা করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা।’

আইনজীবী আনিছুজ্জামান বলেন, ‘শুধু গ্রামীণ টেলিকম কিংবা সিটিসেলের মামলাই নয়। শ্রম আইনে দায়ের করা ১৭ হাজার ৬০৮টি মামলা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন। যদিও আইন অনুসারে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে এ মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। তবে বিভিন্ন আইনি জটিলতায় এসব মামলা ৬০ মাসেও নিষ্পত্তি হচ্ছে না।’

শ্রম আদালতে মামলার বিষয় শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার অধীর চন্দ্র বালাবলেন, ‘চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালসহ সারাদেশের আটটি আদালতে মোট ১৭ হাজার ৬০৮টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে ৭৯৩, ঢাকার প্রথম শ্রম আদালতে ৪ হাজার ৫৭৬টি, ঢাকার দ্বিতীয় শ্রম আদালতে ৫ হাজার ২৬৩, ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে ৪ হাজার ৫, চট্টগ্রাম প্রথম শ্রম আদালতে ১ হাজার ৫১০, চট্টগ্রাম দ্বিতীয় শ্রম আদালতে ৫৭৮, খুলনা বিভাগীয় শ্রম আদালতে ২১৪, রাজশাহী বিভাগীয় শ্রম আদালতে ৪১৫টি মামলা বিচারাধীন। এসব মামলার মধ্যে ১০ হাজার ৮৩৮টি মামলা ছয় মাসের অধিক সময় ধরে চলমান। এ ছাড়া উচ্চ আদালতের আদেশে ২৫৪টি মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
সুত্র ,জাগো



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution