sa.gif

 গার্মেন্টস মালিকদের মাত্র ৬,৩৬০ টাকা মজুরি প্রস্তাবে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ
মোশরেফা মিশু :: 14:55 :: Saturday August 4, 2018 Views : 579 Times


শ্রমিকদের জীবন নির্বাহের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে যে মজুরি পায় তা দিয়ে চলছে না। বেতন বৃদ্ধির জন্য তারা বিভিন্ন সময় দাবি তুলেছে। ১৬,০০০ টাকা মজুরির দাবি করে কর্মসূচি চালিয়ে আসছি। এ কর্মসূচির কারণে তারা বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তারপর মজুরি বোর্ড গঠিত হলো, ছয়মাস অতিক্রম করলো। এ সময়ে মালিক পক্ষ মাত্র ২০ ভাগ বাড়িয়ে ৬,৩৬০ টাকা মজুরি প্রস্তাব করেছে। এতে শ্রমিকরা খারাপ করেছে। মালিকদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ক্ষোভ দানা বাঁধছে।

মালিকরা মজুরি বোর্ডে যে মজুরি প্রস্তাব করেছ তা শ্রমিক বিরোধী। খুবই অমানবিক, অন্যায্য এবং অগ্রহণযোগ্য। মাত্র ৬,৩৬০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। যেমন বাজার দর, যে মুল্যস্ফীতি এতে শ্রমিকদের জীবন যাপনের যে ব্যয় অসম্ভব রকমের বেড়ে গেছে। যখন জিনিষপত্রের দাম বেড়ে যায়, প্রাপ্ত মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের চলে তখন ন্যুনতম মজুরি পুন:নির্ধারণ করা হয়। মজুরি বোর্ডে মালিক পক্ষ থেকে শ্রমিকরা এমন মজুরি আশা করেছিল।
গত রোজার আগে আমরা কি দেখলাম সব ধরনের জিনিষপত্রের দাম বেড়ে গিয়েছিল। মোটা চালের দাম পর্যন্ত ৫৫ টাকা উঠেছিল। বাড়িভাড়া ভয়ঙ্কর অবস্থা। এই অবস্থায় মজুরি না বাড়িয়ে শ্রমিকরা কিভাবে কিভাবে জীবন যাপন করবে? এ সময় বিষয়টি ভাবাটাই ভয়াবহ ব্যাপার। কিন্তু মজুরি বোর্ডে মালিক পক্ষ যে প্রস্তাব করেছে তাতে শ্রমিকের জীবন যাপনের খরচের বিষয়টি উঠে আসেনি।
শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির দাবি করলে মালিকরা বলে শ্রমিকরা ষড়যন্ত্র করছে। আবার বলবে তাদের বেতন বাড়ানোর সক্ষমতা নেই। তাদের এই যে অজুহাত তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা তা করছে সম্পূর্ণ শ্রমিক শিল্প ¯^ার্থ পরিপন্থি। আবার মজুরি বোর্ডে শ্রমিক পক্ষ যে ১২,০০০ টাকা প্রস্তাব করলো তাও কোনভাবে গ্রহণ যোগ্য নয়। আমরা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ১২ সংগঠন মিলে আমাদের কার্যালয়ে ডেকেছি-মতবিনিময় ও কথা-বার্তা বলার জন্য। সেখানে সাংগাঠনিক কথা-বার্তাগুলো আলোচনা হলো। পরবর্তিতে তিনি বলেলেন, স্কপ বাদে সবাই ১৬,০০০ টাকা মজুরি চাচ্ছে। আমরা বলেছি আপনি আমাদের শ্রমিক প্রতিনিধি। মালিক পক্ষ অন্য যে যাই বলুক আপনি শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ১৬,০০০ টাকার নীচে প্রস্তাব করবেন না। এ ব্যপারে আমাদের হিসাব করা আছে।
কিন্তু দুঃখের বিষয় তিনি মজুরি বোর্ডে ভূমিকা রাখতে পারেন নাই। বিষয়টি নিয়ে যখন আবার তার সাথে কথা-বার্তা হলো তখন তিনি বললেন ’আমি একটি জোট করি, শ্রমিক সংগঠন করি। মানে শ্রমিকলীগের সাথে আছি। এর বাইরে যেতে পারি না।’ এগুলো তো কোনভাবেই বরদাস্ত করার মত না।
মজুরি বৃদ্ধির জন্য এমন বছর নেই যে বছর তৈরি পোশাক শিল্পে আন্দোলন করতে হয়নি। এইবারও আমরা বলেছি শ্রমিকদের জীবন ব্যয়ের সাথে সংগতি রেখে ১৬ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে আমরা মজুরির জন্য সর্বশেষ বলেছি মজুরির জন্য আমরা অসন্তোষ দেখতে চাইনা। মালিকরা যেন খুশি হয়ে মজুরি বাড়ায়। তারপরে কি দেখলাম সাভারে শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির কথা তোলাতে তাদের রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দিলো। আমি এখানে সংবাদ সম্মেলন করার কারণে আমাকে ধাক্কা দিতে দিতে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গেলো। কারখানায় কারখানা শ্রমিকদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতন চালানো হলো। শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করা হলো। এ ধরনের সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে মজুরি বোর্ডটা গঠিত হয়েছে। কিন্তু মালিকরা প্রথম বৈঠকটির পর নানা অজুহাত দেখিয়ে বৈঠক স্থগিত করলো।
সর্বশেষ যখন মজুরি বোর্ডের বৈঠক যখন হলো তখন প্রায় ৬ মাস অতিক্রম করছে। এমন সময় মালিকপক্ষ যে প্রস্তাব করলো যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর আগে তারা বোর্ড উপস্থিতই হলো না। ৬ মাস পার হলে গেলো। এই সময়ের মধ্যে মাত্র একটি প্রাথমিক প্রস্তাব করেছে মাত্র। সামনে নির্বাচন দেশে রাজনৈতিক কর্মকান্ড চলবে। মালিকেরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এই দীর্ঘসুত্রিতার মধ্যে ফেলে দিতে চায়। যাতে মজুরি ঘোষণার বিষয়টি পিছিয়ে যায়। এটা মালিক পক্ষের একটা চক্রান্ত।
মজুরি বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধি সরকারি দল শ্রমিকলীগ তথা আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত। এক্রাণে উনি ১২,০০০ টাকার বেশি মজুরি প্রস্তাব করতে পারেন না। কিন্তু মজুরি বোর্ডে উনি তো শুধু শ্রমিকলীগের প্রতিনিধি নয়। উনি তো ৪০ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিক প্রতিনিধি। উনাকে এই বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের ভাষা বুঝতে হবে। শ্রমিকদের দাবি বুঝতে হবে।
উনি যদি নিজে শ্রমিকলীগের লোক মনে করেন, আওয়ামী লীগের লোক মনে করেন-তাহলে তো মজুরি বোর্ডে প্রকৃত পক্ষে নিজেকে শ্রমিক প্রতিনিধি বলে দাবি করতে পারেন না। মানসিকতা ও আচরণগত দিক থেকে তিনি সত্যিকারকার অর্থে মজুরি বোর্ডে পুরো শ্রমিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব করছেন না। তাঁর কথা-বার্তায় মনে হচ্ছে তিনি একটি সংগঠনের কাছে নতজানু, তাদের হুকুম পালন করছেন। যেখানে শ্রমিকের চাওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। আমরা চাইনা বোর্ডে উনি শুধুু শ্রমিকলীগের প্রতিনিধি হয়ে থাকুন।

২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল ৩ বছরে মজুরি বৃদ্ধি হয়েছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে মাত্র ২০ শতাংশ প্রস্তাব করা খুবই অযৌক্তিক। প্রকৃত পক্ষ শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা ১৬ হাজার টাকার দাবি করে বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের সাথে কর্মসূচিত পালন করেছি। এরমধ্যে দিয়ে ১৬ হাজার টাকা মজুরি বৃদ্ধির দাবিটি মানুষের মুখে মুখে চলে গেছে। শ্রমিকরা তাদের খরচ বৃদ্ধির সাথে হিসাবে করে এটা যৌক্তিক মনে করে দাবি করছে। এ অবস্থায় শ্রমিকরা আশায় বুক বেধে আছে। এখন যদি শ্রমিকদের প্রত্যাশা মত মজুরি নির্ধারত না হয় তাহলে বিভিন্ন শিল্প এলাকায় সাংঘাতিক রকমের অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আমাদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারি এ ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ ভয়াবহ আকার ধ্রাণ করতে পারে। শ্রমিক প্রতিটি কারখানা থেকে বের হয়ে এসে সবকিছুর অবলাবস্থার সৃষ্টি করবে। তাই আমি মনে করছি এখনো সরকারের পক্ষ থেকে বলার সুযোগ রয়েছে। সরকার সরাসরি বলতে পারে এভাবে মজুরি প্রস্তাব করছো কেন ? শ্রমিক যে মজুরি প্রস্তাব করেছে সে বিষয়টি বিবেচনায় নাও। কিন্তু এখন দেখছি সরকারের পক্ষ থেকে কোন ভূমিকা রাখবে- সে রকমও কিছু দেখছি না। এটা খুবই উদ্বেগজনক। এতে শ্রমিকরাও খুবই উদ্বিঘœ। শ্রমিকরা যখন পেপার-পত্রিকা ও লিফলেটের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছে যে মালিক পক্ষ মাত্র ৬,৩৬০ টাকা মজুরি প্রস্তাব করেছে। এতে শ্রমিকরা খুবই মন খারাপ করেছে। ইতোমধ্যে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধা শুরু করেছে। যদি শেষ পর্যন্ত মজুরি বোর্ড এ রকম মজুরি বোর্ড ঘোষণা করে তাহলে তৈরি পোশাক শিল্পে বড় ধরনের অসন্তোষ হবে।
মোশরেফা মিশু, সভাপতি: গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরাম



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution