sa.gif

রানা প্লাজা ধসের পরও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছেনি পোশাকশিল্প
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 20:02 :: Tuesday April 17, 2018 Views : 24 Times

রানা প্লাজা ধস শুধু বাংলাদেশকে নয়, পুরো বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানে সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে কী ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে তা বিশ্বের ভোক্তাগোষ্ঠী, শ্রমিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজরে আসে। রানা প্লাজা বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রাতিষ্ঠানিক, অবকাঠামোগত, শ্রম ও শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বেশকিছু পরিবর্তন আসলেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বরং উন্নয়নশীল দেশের অগ্রযাত্রায় সামনে আরও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ।

‘রানা প্লাজা ধসের পাঁচ বছর : শোভন কর্মস্থল বিষয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়া’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।


অ্যাকশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরের পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির সদস্য ছবি বিশ্বাস।

সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাস বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির ১৭তম বৈঠকে শ্রমিকদের মজুরি, শ্রম ঘণ্টা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য পাওয়া মেটানোর পক্ষে। এ জন্য শ্রমিক, মালিক ও সরকার পক্ষ একযোগে কাজ করবে।

তিনি বলেন, রানা প্লাজা আমাদের সকলের চোখ খুলে দিয়েছে। পোশাক শিল্প আমাদের রেমিটেন্স এনে দিচ্ছে। এমন খাতের অবকাঠামো ঠিক রাখা এখন সময়ের দাবি। সরকার সেটা করার ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা করছে।

মানুষের জীবনের মূল্য কখনো অর্থ দিয়ে দেয়া যায় না উল্লেখ করে এ সংসদ সদস্য বলেন, মানুষের জন্য আইন। যারা উৎপাদন বাড়াচ্ছে, দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে যারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, সেই শ্রমিকরা যাতে ন্যায্য কোনো অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, এ ব্যাপারে যাতে আমরা জাস্টিস আনতে পারি আগামীতে সেই পদক্ষেপই নেবে সরকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর আন্তর্জাতিকভাবে অনেক বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাদের পোশাকশিল্পকে। সেটা উতড়াতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে আমরা পৌঁছতে পারিনি। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ের অর্ধেক বেতনও পাচ্ছেন না শ্রমিকরা। অথচ এই শ্রমিকদের নিয়েই আমরা রেমিটেন্স আনছি বিদেশ থেকে, তাদের কারণে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বপ্ন বুনেছি।

পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আমরা এখনো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন দেখছি না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনানুযায়ী এখনো পোশাকশিল্প গজারিয়াতে স্থানান্তরিত হয়নি। শ্রমিক স্বার্থ ও শ্রমমূল্য নিয়ে আইএলও স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করলেও সরকার তাতে এখনো ব্যর্থ।

আলোচনা সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের প্রফেসর ড. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর সঙ্কট মোকাবেলায় যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার বেশকিছু ফলপ্রসু হয়েছে। শ্রমিক বেড়েছে, শিল্প কারখানাও বেড়েছে। বেড়েছে জবাবদিহি। তবে জনবল ও প্রসিকিউশন, ইনসপেকশন বাড়েনি। মাত্র ৩১২ জন পরিদর্শক দিয়ে পাঁচ হাজার গার্মেন্টসহ ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনা দুঃস্বপ্ন ছাড়া কিছু নয়।

অ্যাকশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, ২০১৩ সালের রানা প্লাজার ধ্বংসযজ্ঞ, এযাবতকালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী শিল্প বিপর্যয় বলে ধরা হয়। অর্ধ ডজন ফ্যাক্টরির ওপর দাঁড়ানো রানা প্লাজার ধসের ঘটনাটি বিশ্ব পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার জবাবদিহি কাঠামো ও গার্মেন্টস কর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয় নিয়ে পুরো বিশ্বের ভোক্তা গোষ্ঠী, শ্রমিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজরে আসে।

‘উন্নয়নশীল দেশের অগ্রযাত্রায় আমাদের সামনে আরও বেশি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।’

অনুষ্ঠানে শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন, এনজিও, রাজউক, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র :জাগো



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution