sa.gif

যে শ্রমিকের স্বীকৃতি নেই
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 14:48 :: Sunday April 1, 2018


বাংলাদেশে কয়েকটি শিল্পে ন্যূনতম মজুরি পুনরায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। নতুন বোর্ড মজুরি নির্ধারণে কাজ করছে। হয়তোবা এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বেড়ে যাবে। যেহেতু সরকার স্বেচ্ছায়ই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে। এর আগে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হয়েছিল ২০১৩ সালে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ বছরের মধ্যেই পুনরায় ন্যূনতম মজুরী রিভিউ করতে হয়।

এখন কথা হলো, কত টাকা মজুরি বাড়বে? সেই বিশ্লেষণে আমি যাব না। শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন আছে। কেউ দাবি করছে ১৬ হাজার টাকা কেউবা ১৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে, সরকারের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত মানতে চাওয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। আরো আলাপ- আলোচনা, শ্রমিকদের জোরালোভাবে দাবি-দাওয়া পেশ হতে পারে। আন্দোলনেও নামতে পারে তারা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এসব বিবেচনায় আরও কিছু বাড়তে পারে। সেটা ১০ থেকে ১২ অথবা ১৬ হাজারই হোক।

অদক্ষ একজন শ্রমিককে কারখানায় নিয়োগ দিলে তাকে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১০ অথবা ১৬ হাজার টাকা দিতে হবে। শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নতি হোক, তারা পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোভাবে বেঁচে থাকুক- এটা সবারই কাম্য। আমি নিজেও চাই- একজন শ্রমিক যেন তার প্রাপ্য সর্বোচ্চ মজুরিটাই পাক। যেহেতু তার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত।

কিন্তু আমি এর বাইরে আলোকপাত করতে চাই, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিবিহীন এক শ্রেণীর শ্রমিকের কথা। তারা এমন শ্রমিক- যাদের দাবি-দাওয়া উত্থাপনের জন্য কোনো শ্রমিক সংগঠন নেই। বা তাদের দুঃখ নিয়ে ভাবার কেউ নেই। তারা যে কারো বিবেচনার বাইরে। তারা নিজেদেরকে শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিতে পারছে না। তেমনি সেই কাতারে নামতেও পারছে না। সেটা করতে পারলেও না হয় মাস শেষে ১০/১৬ হাজার টাকা পাবে। এইসকল শ্রমিকরা কাজ করে বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানিতে। যাদের কোনো নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো নেই। শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করতে হয়। এর বাইরে তারা পায় ওভারটাইম।

কিন্তু এই স্বীকৃতিবিহীন শ্রমিকরা তাদের মালিক/মালকিনকে খুশি রাখতে, চাকরি টিকিয়ে রাখতে কাজ করে যায় কোনো অফিস টাইমিং ছাড়াই। যা কিনা ক্ষেত্র বিশেষে দৈনিক ১২ ঘন্টারও উপরে গিয়ে দাঁড়ায়। আর বেতন, সেতো সাত-আট হাজার টাকাও হয়। এখন আমার প্রশ্ন, বেতন কখনো মজুরির চেয়ে কম হতে পারে? মজুরি সজ্ঞায়িত হয় শ্রমিকের ক্ষেত্রে। আর যারা শার্ট প্যান্ট ইন করে একটু ভদ্রবেশে অফিসে গিয়ে চেয়ার টেবিলে বসতে পারে তাদের ক্ষেত্রে বলা হয় বেতন। এখানে ভদ্রবেশে বলতে বোঝানো হচ্ছে বেশ-ভূষায় শ্রমিকের তুলনায় কিছুটা পরিপাটি। কোনো বেসরকারি কোম্পানির একজন অনভিজ্ঞ কর্মকর্তার বেতন যদি (হতে পারে অভিজ্ঞ- এমন উদাহরণ ভুরিভুরি) শ্রমিকের চেয়েও কম হয়, তবে এ কেমন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা! তাদেরকেও ৫০/৬০ টাকা দরে চাউল কিনে পেট চালাতে হয়। অন্যসব শ্রমিকের মতোই তাকে দৈনন্দিন পারিবারিক, সাংসারিক ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। তারা তো তাদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে পারবে না। অথবা আন্দোলনের অধিকারটুকুও তাদের সংবিধানে দেয়া হয়নি। কারণ শ্রম আইনে এই শ্রেণির কর্মীদের বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা নেই। তাই বলে এই অস্বীকৃত শ্রমিকদের জন্য কি ভাবা উচিত নয়?

সরকার চাইলে সব বেসরকারি কোম্পানিকে একটি নীতিমালার আওতায় নিয়ে আসতে পারে। যেখানে কোনো কোম্পানির বাৎসরিক মুনাফার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে একজন এন্ট্রিলেভেল অফিসারের ন্যূনতম বেতন কত হবে। অবশ্যই তা যেন ১০/১৬ হাজার টাকার নিচে না হয়। আর নতুন কোম্পানির ক্ষেত্রে নিবন্ধন/ অন্তর্ভূক্তির সময় ন্যূনতম বেতনের বিধিনিষেধ বা শর্ত আরোপ করা যেতে পারে। ১৬ কোটি মানুষের ভোটার আইডি তৈরি করতে পারলে, তাদেরকে একটি ডাটাবেজের আওতায় নিয়ে আসতে পারলে, বিকাশের মাধ্যমে কে কয় টাকা পাঠালো, একজন নাগরিক কত টাকা আয় করলো, কোন খাতে ব্যয় করলো- এসব জানতে পারলে, এসব কিছুর জন্য নীতিমালা থাকলে- স্বীকৃতিবিহীন শ্রমিকদের জন্য কিছু করা সরকারের জন্য কঠিন কিছু নয়।

লেখক: সাহিত্যিক



Comments



Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaz@yahoo.com
Contact: +880 1712 557138, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Nex-Ge Technologies Ltd.