আগেই গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি ঘোষণা করার প্রয়োজন ছিল। অনেক দেরিতে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এ ঘোষণা করার পরও গ্যাজেট প্রকাশসহ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব করছে। এদিকে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, ঘরভাড়া বৃদ্ধি, চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষার ব্যয়সহ সব ধরনের ব্যয় বৃদ্ধির ফলে শ্রমিকদের জীবন চলছে না। মালিক ও সরকারও বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছে না।


মালিকরা মজুরি বৃদ্ধি করতে এক ধরনের অপরাগতা করে মজুরি বোর্ড বসার ক্ষেত্রে বিলম্ব করছে। সামর্থের অভাব বলে এক ধরনের মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। মালিকদের এই অপরাগতা এক ধরনের প্রতারণা।


এদিকে সরকারও বিলম্ব করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। সরকার নির্বাচনের আগে মজুরি বৃদ্ধি করে বাহবা নিতে চায়। এই পরিস্থিতিতে আমরা বলতে চাই, এখনো বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি সারা পৃথিবীর মধ্যে সব চেয়ে কম। অথচ মালিকরা লাভ করে সবচেয় বেশি। আর শ্রমিকরা কোন রকমে বেঁচে থাকার মধ্য দিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার কারণে মূল মজুরি ১০ হাজার এবং মোট ন্যুনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা করার দাবি জানাই। যা আইএলও কনভেনশন মজুরি সম্পর্কিত ১৩১ ধারার যে ব্যাখ্যা সেটাও পূরণ করে না। কারণ আইএলও কনভেনশনে বলা হয়েছে একটি পরিবারে মানবিক ব্যয়ভার হবে শ্রমিকের ন্যুনতম মজুরি।


আমাদের অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে একটি পরিবার ন্যুনতম খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্য ন্যুনতম ব্যয় হয় ১৮ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। সেখানে আমাদের দাবি সেই ন্যুনতম ব্যয়ভারের চেয়েও কম। মালিকরা এই মজুরি না দিতে শুধু তালবাহনা করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন করার চেষ্টা করছে, সেখানে শ্রমিকদের বিভিন্ন ভাবে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মজুরি বৃদ্ধির দাবি যে সাংবিধানিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার সেটা খর্ব করা হচ্ছে; শ্রমিকদের সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা শ্রমিকদের হয়রানির পথ বেছে নিয়েছে। রামপুরা আর্শিয়ানা গার্মেন্টের দুজন শ্রমিককের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে আটক করে রেখেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রেড ইউনিয়ন নেতাকর্মীদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি শ্রমিকদের জন্য তো নয়ই পুরো শিল্পের জন্যও মঙ্গলজনক নয়।


আমরা পরিবেষে বলতে চাই এই অবস্থায় মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু করা হোক। সেখানে শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্টের বিষয়টি বিবেচনা করে এবং আমাদের দাবির বিষয়টি মেনে হোক।

" />
sa.gif

কোন তালবাহনা না করে মজুরি বোর্ড বসে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করুন
- রুহুল আমিন
:: 23:57 :: Sunday March 11, 2018


আগেই গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি ঘোষণা করার প্রয়োজন ছিল। অনেক দেরিতে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এ ঘোষণা করার পরও গ্যাজেট প্রকাশসহ আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব করছে। এদিকে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, ঘরভাড়া বৃদ্ধি, চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষার ব্যয়সহ সব ধরনের ব্যয় বৃদ্ধির ফলে শ্রমিকদের জীবন চলছে না। মালিক ও সরকারও বিষয়টি বিবেচনায় নিচ্ছে না।


মালিকরা মজুরি বৃদ্ধি করতে এক ধরনের অপরাগতা করে মজুরি বোর্ড বসার ক্ষেত্রে বিলম্ব করছে। সামর্থের অভাব বলে এক ধরনের মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। মালিকদের এই অপরাগতা এক ধরনের প্রতারণা।


এদিকে সরকারও বিলম্ব করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। সরকার নির্বাচনের আগে মজুরি বৃদ্ধি করে বাহবা নিতে চায়। এই পরিস্থিতিতে আমরা বলতে চাই, এখনো বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি সারা পৃথিবীর মধ্যে সব চেয়ে কম। অথচ মালিকরা লাভ করে সবচেয় বেশি। আর শ্রমিকরা কোন রকমে বেঁচে থাকার মধ্য দিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার কারণে মূল মজুরি ১০ হাজার এবং মোট ন্যুনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা করার দাবি জানাই। যা আইএলও কনভেনশন মজুরি সম্পর্কিত ১৩১ ধারার যে ব্যাখ্যা সেটাও পূরণ করে না। কারণ আইএলও কনভেনশনে বলা হয়েছে একটি পরিবারে মানবিক ব্যয়ভার হবে শ্রমিকের ন্যুনতম মজুরি।


আমাদের অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে একটি পরিবার ন্যুনতম খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্য ন্যুনতম ব্যয় হয় ১৮ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। সেখানে আমাদের দাবি সেই ন্যুনতম ব্যয়ভারের চেয়েও কম। মালিকরা এই মজুরি না দিতে শুধু তালবাহনা করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, আশুলিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন করার চেষ্টা করছে, সেখানে শ্রমিকদের বিভিন্ন ভাবে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মজুরি বৃদ্ধির দাবি যে সাংবিধানিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার সেটা খর্ব করা হচ্ছে; শ্রমিকদের সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা শ্রমিকদের হয়রানির পথ বেছে নিয়েছে। রামপুরা আর্শিয়ানা গার্মেন্টের দুজন শ্রমিককের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে আটক করে রেখেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রেড ইউনিয়ন নেতাকর্মীদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি শ্রমিকদের জন্য তো নয়ই পুরো শিল্পের জন্যও মঙ্গলজনক নয়।


আমরা পরিবেষে বলতে চাই এই অবস্থায় মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু করা হোক। সেখানে শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্টের বিষয়টি বিবেচনা করে এবং আমাদের দাবির বিষয়টি মেনে হোক।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution