sa.gif

গাজীপুরের গার্মেন্টস কারখানাগুলো শ্রমিকদের বিপক্ষে ঝুট মাস্তান পুষছে
মো. আজিজুল ইসলাম :: 11:48 :: Saturday January 27, 2018


গাজীপুরের গার্মেন্টস কারখানাগুলো শ্রমিকদের বিপক্ষে ঝুট মাস্তান পুষে রাখে। এই মাস্তানরা শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ হিসাবে কাজ করে। এতে একদিকে যেমন শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ আবার দাবি-দাওয়ার আন্দোলনের পথে প্রতিবন্ধকতা করছে এই  মাস্তাননরা । শিল্প পুলিশও এখানে শ্রমিকের প্রতিপক্ষ হিসাবে কাজ করে। এ অবস্থান সুষ্ঠ উৎপাদনের জন্যও ঝুকির। 

ঝুট মাস্তানরা ঝুটের বদলে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে চড়াও হয়। কখনো কখনো শ্রমিকদের বাসায় গিয়ে মাস্তানি করে। শ্রমিকদের হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেখায়। তারা শ্রমিকদের পেশাগত দাবির বিষয়টিকেও পদদলিত করে। মালিকরা ঝুটের বদলে এ সব মাস্তানদের যেভাবে ব্যবহার করে তারা সেভাবে ব্যবহার করে।
ইন্ডাস্টিয়াল পুলিশ সার্বিকভাবে শিল্পের রক্ষার জন্য কাজ করার কথা থাকলেও তা হয়ে যায় শুধু মালিকের পক্ষে। শ্রমিকরা যখন বঞ্চিত হই, তখন শিল্প পুলিশের নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশা করি। কিন্তু বিষয়টি এমন যে-শ্রমিক যা বলে তাই শিল্প বিরোধী আর শিল্প রক্ষার জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ এসে হাজির। আসলে আমরা শিল্পের বৃহৎ স্বার্থে  শ্রমিকদের দাবির কথা বলি। শিল্পকে ধ্বংস করে নয়।
দুএকটি কারখানা বেতন দেওয়ার সময় পুলিশ খবর দিয়ে কারখানার গেটে বসিয়ে রাখে। তারা ধরেই নেয় কোন ঝামেলা হবে। মালিকপক্ষের দুর্বলতার কারণে যা হওয়ার কথা তাই হয়।
শ্রমিকদের আন্দোলন মুখি না হওয়ার আরেকটি কারণ হলো সোয়েটারের অত্যাধুনিক মেসিন। নতুন এসব ৩/৪টি মেশিন একজন শ্রমিক চালাতে পারে। পাশাপাশি শ্রমিকদের দিয়ে বেশী খাটানোর প্রবনতা শুরু হয়েছে। আগে ৮ ঘন্টা কাজ করানো হতো, এখন একই বেতনে ১২ ঘন্টা কাজ করানো হয়। এতে একদিকে কর্মসংস্থানের জায়গা কমে গেছে এবং বেশি কাজ করিয়ে নিয়ে কম বেতন দেওয়ার প্রবনতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে শ্রমিকদের বিক্ষুব্ধ হওয়ার কারণ তৈরি হলেও দরকষাকষির সুযোগটা কমে গেছে। এখন পর্যন্ত অধিকারের প্রশ্নে সোয়েটার শ্রমিকরা বেশ সোচ্চার থাকে। কিন্তু শ্রমিকদের এই আন্দোলনে তেমনভাবে অংশ গ্রহণ করতে পারছে না।

শিল্পের উন্নয়নের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার যেমন দিতে হবে, শ্রমিকদের শ্রমিক- আচরণে তথা দরকষাকষির সুযোত থাকতে হবে। মালিকরা শ্রমিকদের বেতন কম দিবে, কথা বলার সুযোগ খাকবে না-এটা শিল্পের জন্য ভাল লক্ষন নয়। এমন অবস্থা হলে দাশের মত অবস্থা তৈরি হবে। এর ফলে শিল্পের ভাল চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি থাকে। শ্রমিকরা সব সময় অসেন্তাষ থাকে, শুত্রæ ভাবাপন্ন থাকে। এটা উৎপাদনশীলতার জন্য ক্ষতিকর। এর থেকে বের হয়ে এসে শ্রমিকদের ভাল পরিবেশ থাকা জরুরি। এতে যেমন শিল্পের ভাল হবে, তেমনি মালিক বা শ্রমিকের জন্যও কল্যানের হবে।

শিল্প ও শ্রমিক দুটোই আমাদের  কাম্য। তারপরই সমৃদ্ধ দেশ। কৃষক শ্রমিকরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। এ জন্য দেশের জন্য, শিল্পের শিল্পের জন্য দরদ অামাদের বেশি।

* মো. আজিজুল ইসলাম. কার্যকরি সভাপতি, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গাজীপুর জেলা শাখা।



Comments



Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaz@yahoo.com
Contact: +880 1712 557138, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Nex-Ge Technologies Ltd.