sa.gif

ওশির সমীক্ষা নির্মাণ শিল্পে বছরে মারা যাচ্ছেন ১৫০ শ্রমিক
আওয়াজ প্রতিবেদক :: 14:42 :: Thursday January 25, 2018 Views : 3 Times

দেশের মোট শ্রমশক্তির ৯০ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক। এ শ্রমিকদের একটি বড় অংশ কাজ করে নির্মাণ খাতে। আর কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় বেশি হতাহতের ঘটনাও ঘটে এ খাতে। এ শিল্পে প্রতি বছর গড়ে ১৫০ জন নির্মাণ শ্রমিক মারা যান। এ হিসাবে গত ১০ বছরে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে ৩১ শতাংশ। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ওশি) বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ওশির প্রকাশিত বার্ষিক সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে নির্মাণ খাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ২০১৭ সালে ১৭৯ শ্রমিক নিহত ও আহত হয়েছেন ৪২ জন। শ্রমিক হতাহতের দিক থেকে এ খাতের অবস্থান দ্বিতীয়। ২০১৬ সালেও নির্মাণ খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক শ্রমিক নিহত হন। ওই বছর নিহত হন ১৪৭ শ্রমিক।

ওশির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১০ বছরে ঝরে গেছে ১ হাজার ৫০৯ নির্মাণ শ্রমিকের প্রাণ। এ হিসাবে প্রতি বছর গড়ে মারা গেছেন ১৫০ জন। ২০০৮ সালে নিহত নির্মাণ শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ১৩৬। ২০১৭ সালে মারা গেছেন ১৭৯ জন। এ হিসাবে গত ১০ বছরে নিহত শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে ৩১ শতাংশ।

শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, শ্রমিক হতাহতের প্রধান দুটি কারণ হচ্ছে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট এবং ওপর থেকে পড়ে যাওয়া। তাছাড়া নির্মাণসামগ্রীর আঘাত, গ্যাস বা ধোঁয়ায় দমবন্ধ হওয়া এবং আগুনে পুড়ে অনেকে হতাহত হন। নির্মাণ শ্রমিকরা পেশাগত নানা স্বাস্থ্য সমস্যা, যেমন— শ্বাসকষ্ট, কানে কম শোনা ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগে ভোগেন।

ওশিন নির্বাহী পরিচালক এআর চৌধুরী রিপন বলেন, হতাহতের সংখ্যা বাড়ার কারণ হচ্ছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা উপকরণ ব্যবহার না করা। অথচ হেলমেট, গ্লাভস, সুরক্ষা চশমা, সেফটি বেল্ট ব্যবহার করলে অনেক দুর্ঘটনাই কমানো যেত। তাছাড়া নির্মাণাধীন স্থাপনা বা ভবনে প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থা রাখলে ছোটখাটো দুর্ঘটনা থেকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, স্থাপনা নির্মাণকালে সেফটি সংস্কৃতি বাস্তবায়নে আমরা অনেক পিছিয়ে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে নিহত ১৭৯ জনের মধ্যে ১৭৫ জনই ছিলেন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নির্মাণ শ্রমিক। ফলে এ বিপুলসংখ্যক অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক শ্রম আইনের আওতায় না থাকায় তাদের পরিবার কোনো ক্ষতিপূরণ পায় না। তাছাড়া জরিপ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ১০৩ জন দিনমজুর মারা গেছেন, যাদের অধিকাংশই কোনো না কোনোভাবে নির্মাণসংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত ছিলেন। এ সংখ্যা যোগ করলে নির্মাণ খাতে নিহতের সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে। দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪ দশমিক ৪ শতাংশজুড়ে রয়েছে নির্মাণ খাতের শ্রমিক। কিন্তু হতাহতের পরিমাণের দিক থেকে নির্মাণ শ্রমিকরা হচ্ছেন ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ।



Comments





Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaznews@gmail.com
Contact: +880 1972 200 275, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Expert IT Solution