sa.gif

মুক্তিযুদ্ধে গান্ধী ও সুভাষ বসুর আদর্শের সমন্বয় ঘটেছিল
-সরওয়ার জাহান বাদশাহ
:: 10:13 :: Saturday December 16, 2017


আমাদের বিজয়ের ৪৭ তম বার্ষিকী আমরা পালন করছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্ম না হলে আমরা আমাদের এই স্বাধীনতা পেতাম না। অনেকেই স্বাধীনতার জন্য চেষ্টা করেছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু চেষ্টা করেছেন, সে চেষ্টা ছিল বৃটিশ বিরোধী শসস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে। গান্ধীজী বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা, তিনিও অসহযোগ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন তৎকালিন ভারতবর্ষকে পরাধীনতার শৃক্সখল থেকে মুক্ত করতে। কিন্তু ভারতের স্বাধীনতা এসেছিল টেবিলে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একমাত্র নেতা যিনি গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলন এবং সুভাষ বোসের যে শসস্ত্র সংগ্রাম-এই দুইটার মিলন ঘটিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনেছিলেন ময়দানে। সে স্বাধীনতা ছিল যুদ্ধের মাধ্যমে, কোন আলোচনার টেবিলে নয়। পাকিস্থান ভারত স্বাধীনতা পেয়েছে আলোচনার টেবিলে। আর বাংলাদেশের বীর জনতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। আমার কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানা, আমার নিজ থানা। এই থানায় এই শসস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
তৎকালিন আমাদের নেতা আজিজুর রহমান আক্কাশ, যিনি এমএলএ ছিলেন। তার নেতৃত্বে আমার মেজ চাচা আফম আব্দুল্লাহ যুব নেতা ছিলেন, তিনি তখন একটি কলেজের লেকচারার ছিলেন। আর একজন দক্ষিনের নেতা তারই বন্ধু ছিলেন মেজর রফিকুল ইসলাম। তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁরা ছাত্র ও যুব সমাজকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কুষ্টিয়ার বিশেষ অবস্থান রয়েছে। তৎকালিন বৃহত্তর কুষ্টিয়ার মুজিবনগর বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী প্রতিষ্ঠিত হয়।
আমাদের এই বিজয় ছিনিয়ে আনতে আমরা খুব গর্বের সাথে স্মরণ করি দৌলতপুর বাসীর ভূমিকা। তার মধ্যে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার ফিলিপনগরে একমাত্র সম্মুখ যুদ্ধ করেছিলেন শহীদ আজিজুল ইসলাম আন্টু এবং মহিউদ্দিন পাকু। তারা পাকিস্তানি আর্মিদের হাতে ধরা পড়ে। তাঁদের লাশ আর পাওয়া যায়নি। এই বীর মুক্তি সেনা জীবন্ত অবস্থায় পাক বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। তারাও আমাদের গর্বের ধন। আজকের এই গর্বের দিনে তাঁদেরসহ ৩০ লাখ বীর বাঙালীকে স্মরণ করি। ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম ও ১ কোটি গৃহহারা মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা এসেছে।
এই স্বাধীনতা ও বিজয়কে আমরা এখনো সংহত করতে পারিনি। মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্ব চলছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা, আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দ্বিতীয় পর্ব অর্থনৈতিক মুক্তি বা শেষ পর্ব চলছে। এই যুদ্ধ হবে সামনে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর বা ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে। এই সংগ্রামে স্বাধীনতাকামি মানুষের শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে জাতি ঐক্যবদ্ধ আছে। আর পরাজিত যে শক্তি, শুত্রুশক্তি রাজাকার, আল বদর, আল সামস যে শিবির সেই শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। আমি আশা করি সামনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে পুর্নাঙ্গ বিজয় লাভ করবো। এবং মুক্তিযুদ্ধের যে দ্বিতীয় পর্ব  তার স্বার্থক পরিসমাপ্তি ঘটবে।
** এডভোকেট সরওয়ার জাহান বাদশাহ: আওয়ামী লীগ নেতা।শ্রুতি লিখন



Comments



Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaz@yahoo.com
Contact: +880 1712 557138, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Nex-Ge Technologies Ltd.