sa.gif

শ্রমিক আওয়াজ এর যুগপূর্তিতে শুভাশীষ
-এ্যাড. সরওয়ারর জাহান বাদশাহ :: 21:18 :: Saturday October 14, 2017



পাক্ষিক শ্রমিক আওয়াজ এর যুগ পুর্তি হতে চললো। এই পত্রিকাটি তার জন্মলগ্ন থেকেই মেহনতি মানুষের কষ্টের, সংগ্রামের কথা এবং বিজয়ের গাঁথা প্রচার করে আসছে। সাংবাদিক জাফর আহমদ তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অনেক কষ্ট করে পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এবং অদ্যাবধি এর প্রকাশনা অব্যাহত রেখেছেন। এই একযুগে শ্রমিক আওয়াজ এর বড় সাফল্য তার প্রতিবাদী চরিত্র, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ, ক্ষমতার সঙ্গে আপোষ না করা, দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে হাত না মেলানো এবং বিশেষ করে শ্রমজীবি মানুষের মুখপাত্র হিসাবে পথচলা। তার কোন ব্যতয় শ্রমিক আওয়াজ করেনি। সকল বাধা বিপত্তিকে মোকাবেলা করে শ্রমজীবি মানুষের মুখপত্র শ্রমিক আওয়াজ তার অভিষ্ট লক্ষ্যে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে।
কর্পোরেট পুঁজির আগ্রাসী জয়যাত্রায় বর্তমানে মেহনতি মানুষ তথা শ্রমিক সমাজে নিদারুন কষ্ট ও নিস্পেষনের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছে। আগ্রাসী পুঁজিবাদী শক্তির কাছে আজ রাষ্ট্রযন্ত্রও অনেক ক্ষেত্রে অসহায় হয়ে পড়েছে। তারপর ও একটি শোষনমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা, যা দুর্বল ও গরীব মানুষের বাসযোগ্য স্বদেশগড়ার আন্দোলন, সংগ্রাম অব্যাহত আছে এবং থাকবে। আজ পৃথিবীতে এক শ্রেণির মানুষের হাতে সম্পদের পাহাড়, প্রাচুর্য্যরে ছড়াছড়ি। অন্যদিকে নিরন্ন, সহায়-সম্বলহীন মানুষের মিছিল দীর্ঘ হতে দীর্ঘতর হচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষ দিনকে দিন কোনঠাসা হয়ে পড়ছে। তারা বেঁচে থাকার ন্যুনতম অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। ‘এ সমাজ ভাঙ্গতে হবে, নতুন সমাজ গড়তে হবে’- কিন্ত সে নতুন সমাজের পদধবনি দিনকে দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃতে স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে এদেশে মেহনতি মানুষের সেই শোষনমুক্তির স্বপ্ন স্পষ্ট হয়েছিল। কিন্ত ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির পিতার নির্মম হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে ঘুনে ধরা সমাজ ভেঙ্গে নতুন সমাজ গড়ার ¯^প্নও হত্যার শিকার হয়। কিন্ত তাই বলে থেমে থাকলে চলবে না। শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থে দুর্নীতিমুক্ত, শোষনমক্ত সমাজ গড়ার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। শ্রমিক আওয়াজ সেই স্বপ্নের আলোকবর্তিকা হিসাবে কাজ করে চলেছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখনই সরকারে এসেছে এই শ্রমজীবি মানুষের কল্যাণে মনোনিবেশ করেছে। ১৯৯৬ সালে পার্টি ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রায়ত্ব বেশ কিছু কারখানা শ্রমিকদের মালিকানায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। সরকার চেয়েছিল শ্রমিকরাই যাতে কলকারখানার মালিক হয়ে কারখানা চালাতে পারে। মহান মুক্তিযুদ্ধে যে শ্রমিকরা অবদান রেখেছিল সেই শ্রমিকদের প্রতিদান হিসাবে বঙ্গবন্ধুর কন্যা তাদের কারখানা ছেড়ে দিয়েছিলেন।

পরবর্তিতে রাষ্ট্র ক্ষমতা এসে ২০১০ সালে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ন্যুনতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেয় এবং ন্যুনতম মজুরি ১,৬০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩,১০০ টাকা নির্ধারন করে। ২০১০ সাল থেকে তিন বছরের মধ্যেই আবার ২০১৩ সালে ন্যুনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি বৃদ্ধি করে। প্রতিবারই বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। যদিও শ্রমিকদের জীবন যাপনের জন্য এ মজুরি যথেষ্ট নয়। আগের সরকারগুলো মজুরি বৃদ্ধিতে মনোযোগ না দেওয়া এবং মালিকদের খেয়াল-খুশির কারণে আগেই শ্রমিকদের মজুরি কম ছিল। ফলে বর্তমান সরকার মজুরি যতই বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা করুক মজুরি জীবনমান হয়নি। এ কারণে ২০১৩ সালের পর প্রতিবছর ইনক্রিমেন্ট হিসাবে মজুরি বৃদ্ধির বিধান রাখে ওই মজুরি বোর্ডে।

নারী গার্মেন্টস শ্রমিকদের বাসস্থান সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আশুলিয়ায় ডর্মেটরি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বেসরকারি পর্যায়েও যাতে উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের জন্য সহজেই ডর্মেটরি নির্মাণ করতে পারে তার জন্য মাত্র ২ শতাংশ হারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণের ব্যবস্থা করেছিল । কিন্ত মাত্র দুইজন মালিক শ্রমিকদের জন্য ডর্মেটরি বাননোর জন্য এই ঋণ গ্রহন করেছেন। অন্যরা নেয়নি। এ ব্যাপারে সরকারের চেষ্টা থাকলেও মালিকরা এগিয়ে আসছেনা।

সব সময়েই শ্রমিকদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছে বর্তমান সরকার। ২০০৬ সালে শ্রম আইন সংকলনের পর শ্রমিকদের দাবিকে সম্মান জানিয়ে ২০১৩ সালে শ্রম আইন আবার সংশোধন করে। ২০১০ সালের পর মুল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে গেলে সারাদেশের ন্যায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ওএমএস এর মাধ্যমে কম দামে চাল ডাল ইত্যাদি বন্টন করতে চেয়েছিল। শ্রমিকরা কারখানার বাইরের খোলা ট্রাক থেকে কম দামের চাল সংগ্রহ করতে পারেনা। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যাতে মালিকদের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের মাঝে এই ওএমএস এর চাল বন্টনের ব্যবস্থা করে। কিন্ত ঝামেলা হবে বলে মালিকরা এড়িয়ে গেছে।
কিছু কিছু বিষয়ে শ্রমিকদের অভিযোগ আছে, অপ্রাপ্তি আছে। পেশা ও উৎপাদনশীলতার প্রয়োজনে সংগঠিত ও দায়িত্বশীল ট্রেড ইউনিয়ন দরকার। এ ক্ষেত্রে মালিকরা ট্রেড ইউনিয়ন ভীতি থেকে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করতে দেয়না। আইন অনুযায়ী সুস্থ্য ধারার ট্রেড ইউনিয়ন করুক সরকারও এটা চায়। অভিযোগ আছে মালিকরা নিজ কারখানার শ্রমিকদের ভরসা না করে বাইরের মাস্তানদের উপর নির্ভর শ্রমিকদের দমান। মালিকদের এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশের শিল্পায়ন যেমন চান। তেমনি শ্রমিকরা ন্যায্য ও জীবনমান মজুরি পান-এটা চান। সরকার আরও কার্যকরভাবে মেহনতি মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেশের গণমানুষের প্রত্যাশা অনেক। আর স্বপ্নের সমাজ গড়তে শ্রমিক আওয়াজ নিরন্তর এগিয়ে যাবে। এই প্রত্যাশা।


এ্যাড. সরওয়ারর জাহান বাদশাহ : রাজনীতিক ও আইনজীবি, বাংলাদেশ সপ্রিম কোর্ট।



Comments



Pakkhik Sramik Awaz
Reg: DA5020
News & Commercial:
85/1 Naya Paltan, Dhaka 1000
email: sramikawaz@yahoo.com
Contact: +880 1712 557138, Fax: +880 77257 5347

Legal & Advisory Panel:
Acting Editor: M M Haque
Editor & Publisher: Zafor Ahmad

Developed by: Nex-Ge Technologies Ltd.